Tuesday , July 14 2020
Breaking News
You are here: Home / ধর্ম / বেপরোয়া কোচিং বাণিজ্যে ,অভিভাবকদের ব্যয় বৃদ্ধি
বেপরোয়া কোচিং বাণিজ্যে ,অভিভাবকদের ব্যয় বৃদ্ধি

বেপরোয়া কোচিং বাণিজ্যে ,অভিভাবকদের ব্যয় বৃদ্ধি

স্কুলে লেখাপড়া হয় না তাই সন্তানদের কোচিংয়ে দিতে হয় বলে অভিযোগ অনেক অভিভাবকের।

সম্প্রতি কথা হয় কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে।অভিভাবক খান আলমগীর বলেন, “স্কুলে তো কোনো লেখাপড়াই হয় না। মাস্টাররা আইসা শুধু নাম প্রেজেন্ট করেই দায়সার ক্লাস নিয়ে চলে যায়। “তাদের চিন্তা থাকে কখন সে তার কোচিং সেন্টারে যেয়ে পড়াবে। স্কুলে তো সে পড়ালেখা করায় না। ভবিষ্যতের চিন্তা কইরা আমাদের সন্তানকে কোচিংয়ে দেওয়াই লাগে।”

স্কুল-কলেজের ৯৭ শতাংশই বেসরকারি। বাকি ৩ ভাগ সরকারি। এই সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অসাধু ও বেপরোয়া শিক্ষকদের কাছে রীতিমতো জিম্মি শিক্ষার্থী-অভিভাবক। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে শ্রেণীকক্ষের আদলে কোচিং সেন্টারগুলোতেই চলছে পাঠদান। শ্রেণীকক্ষ হয়ে পড়েছে গৌণ।

কোচিং বন্ধের নীতিমালা থাকার পরও তদারকির অভাবে গত সাড়ে ৬ বছরে তা কেবলই কাগুজে নীতিমালায় পরিণত হয়। তবে কোচিং বন্ধে সরকারের নীতিমালা বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট বৈধ বলে রায় দেয়ার পর এটি এখন নতুন করে আলোচনায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোচিং বাণিজ্য নামের এই ‘ঘাতক ব্যাধি’ আজ মহামারী রূপ পেয়েছে। এটা মাদকের মতো। কোচিং বন্ধের নীতিমালা বাস্তবায়নে সারা দেশে সরকারকে মনিটরিং টিম গঠন করার আহবান জানিয়েছে শিক্ষাবিদরা। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ নিয়ে কথা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, কোচিং নীতিমালা করাকে সরকারের সদিচ্ছা হিসেবেই আমরা দেখতে পারি। কিন্তু এত গুরুত্বপূর্ণ জিনিস বাস্তবায়ন ও মনিটরিং না করাটা সদিচ্ছার পরিচায়ক নয়।

তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যয় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এর প্রধান কারণ কোচিং বাণিজ্য। কোচিং ব্যবস্থা মহামারী ও ঘাতক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার নামে ঢালাও বাণিজ্য হচ্ছে। এটা মাদকের মতোই আমাদের গ্রাস করছে। তাই কোচিং বন্ধে প্রণীত নীতিমালা বাস্তবায়নে আন্তরিক হতে হবে মন্ত্রণালয়কে।

অভিভাবকরা বলছেন, হাইকোর্টের রায়ের পর কোচিং বন্ধের নীতিমালা আরও শক্তি পেয়েছে। কোচিং বাণিজ্য নতুন করে আলোচনায় চলে এসেছে। সারা দেশে কোচিং বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কেই এগিয়ে আসতে হবে। নীতিমালাটি সরকার ২০১২ সালে প্রণয়ন করলেও এর বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি এ পর্যন্ত। বরং ‘শিক্ষা বাণিজ্য’ নৈরাজ্য দিন দিন আরও বেড়েছে।

About দৈনিক সময়ের কাগজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top
error: Content is protected !!