Saturday , February 22 2020
Breaking News
You are here: Home / মতামত / মানবাধিকার নিশ্চিত করতে সংসদে যেভাবে এলো ‘ক্রসফায়ার আইন’ # মাসকাওয়াথ আহসান
মানবাধিকার নিশ্চিত করতে সংসদে যেভাবে এলো ‘ক্রসফায়ার আইন’ # মাসকাওয়াথ আহসান

মানবাধিকার নিশ্চিত করতে সংসদে যেভাবে এলো ‘ক্রসফায়ার আইন’ # মাসকাওয়াথ আহসান

দেশে আইনের শাসন বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণ ভোট দিয়ে আইনপ্রণেতা নির্বাচিত করে। সংসদ হচ্ছে আইন প্রণয়ন সভা আর সাংসদ হচ্ছেন আইন প্রণেতা।

দেশে ধর্ষণের মাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায়; অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে কঠোর আইন প্রণয়ন নিয়ে সংসদে কথা উঠেছে। সেইখানে আইন প্রণয়নের পরিবর্তে ক্রসফায়ারের দাবি উত্থাপন করেছেন কয়েকজন আইন প্রণেতা।

সংসদ অধিবেশনের লাইভ টেলিকাস্টে সাংসদের মুখে ক্রসফায়ারের জয়গান শুনে দর্শক রীতিমত স্পিকার হয়ে যায়।

মাদকবিরোধী অভিযানে ‘ক্রসফায়ার’ হলে ধর্ষণের ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না কেন, সে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক বিচারক জাতীয় পার্টির সাংসদ মুজিবুল হক চুন্নু।

সংসদ টিভির এক দর্শক বলে, আইন প্রণেতার মুখে এমন বে-আইনি কথা। পৃথিবীর কোন দেশের আইন প্রণেতা সংসদে দাঁড়াইয়া ‘ক্রসফায়ার’-এর দাবি জানান নাই। একেবারে বিশ্বরেকর্ড হয়ে গেলো।

আরেক দর্শক জানায়, কিছুদিন আগে আমাদের রাষ্ট্রপতি অপরাধীদের গণপিটুনীর ডাক দিয়ে বিশ্ব রেকর্ড করেছেন। খালি রেকর্ডই রেকর্ড।

এই প্রশ্ন সমর্থন করে তার পক্ষে যুক্তি হিসেবে বাংলাদেশে বিচারে দীর্ঘ সময় লাগার কথা তুলে ধরেন জাতীয় পার্টির সাংসদ কাজী ফিরোজ রশীদ। তিনি বলেন, “আমাদের কিছু লোক আছে, মাননীয় স্পিকার বলতে বাধা নেই, মানবাধিকার সংগঠন। তারা বলে গণতন্ত্র, আইনের শাসন! এই ধর্ষকদের কী আইন আপনি করবেন? তার কোনো ফাঁসি হবে না, জেলও হবে না এক সময় এক বছর পর বেরিয়ে যাবে, কেউ খবরও রাখবে না। একমাত্র এই মুহূর্তে যদি এই সমাজকে ধর্ষণমুক্ত করতে চান, তাহলে ‘এনকাউন্টার মাস্ট’। তাকে গুলি করে মারতে হবে।”

সংসদ টিভির দর্শক অবাক হয়, বিচার-আচার ছাড়া গুলি কইরাই যদি মারতে হয়; তাইলে এতোগুলি লোকরে আইন প্রণেতা বানাইয়া বেতন দেওয়ার দরকার কী! শুল্ক মুক্ত গাড়ি দিয়া এইসব হাতি পোষার কী কোন মানে হয়!

আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদও জাতীয় পার্টির এই দুই আইনপ্রণেতার বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দাবির প্রতি সমর্থন জানান।

সংসদ টিভির এক তরুণ দর্শক বিস্মিত হয়, এতো বছর আইন প্রণেতা হিসেবে কাজ করে; শেষে এসে উনি আইন ভঙ্গ করে ক্রসফায়ারে সমর্থন দিচ্ছেন। এতো বছর আইন প্রণেতা হিসেবে যে বেতন-ভাতা উনি পেয়েছেন; তা ফেরত দেয়া উচিত।

তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি বলেন, ‘চুন্নু ও কাজী ফিরোজ রশীদ যে কথা বলেছেন, আমি টুপি দাঁড়ি মাথায় নিয়ে আল্লাহকে হাজির নাজির জেনে বলছি, এদের ক্রসফায়ার করলে বেহেস্তে যাওয়া যাবে কোনো অসুবিধা নাই।’

সংসদ টিভির এক গর্বিত দর্শক বলে, ‘যাক আমার যে ছেলেটা এলিট ফোর্সে কাজ করে, তার বেহেস্তে যাওয়া কনফার্ম হইলো। সে আমার জন্য দেন দরবার করতে পারবে সেখানে।’

ফেসবুকে এক অত্যন্ত নেতিবাচক সমালোচক দর্শক মন্তব্য করে, ‘ভোট বহির্ভূত আইন প্রণেতা বলেই হয়তো “বিচার বহির্ভূত” হত্যাকাণ্ডের প্রতি এতো সমর্থন। ফ্লপ মাস্টার কতগুলো। আইনের শাসন দেবার মুরোদ নেই, ক্রসফায়ারে দেবার গোঁসাই।’

আইন প্রণেতা ভাইয়ের সহমত ভাই এসে বলে, ‘তুর চেহারা দ্যাকলেই দর্ষকের মতো লাগে। তাই তো দর্ষকের জন্য দরদ।’

আরেক মন্তব্যকারী জিজ্ঞেস করে, ‘ভাই কী হারকিউলিসের শ্যালক! ধর্ষক বানানটা যে দুলা ভাইয়ের স্টাইলেই লিখছেন।’

সহমত ভাই ক্রুদ্ধ হয়ে বলে, ‘হারকিউলিস ভাই ছাড়া ধর্ষণ সমস্যার সমাদান নাই। অহন তো সংসদে ক্রসফায়ারের দাবি উঠছে। ক্রসফায়ারের সরকার বার বার চাই।’

এক বয়েসি মানুষ বলেন, ‘এতো বছর বিএনপি-আওয়ামী লীগের এতো শত ক্রসফায়ারে মানুষ মেরে মেরেও সমাজে অপরাধ কী কমেছে না বেড়েছে! আইন প্রণেতারা এমন হাতুড়ে ডাক্তারের মতো ক্রসফায়ারের প্রেসক্রিপশান দেয় কীভাবে! মানুষ কী ইঁদুর না তেলেপোকা; যে ইচ্ছা হলেই ওষুধ ছিটিয়ে মেরে দেবে। ওরা কী বড় বড় চেয়ারে বসে মানুষকে ইঁদুর কিংবা তেলেপোকা ভাবতে শুরু করেছে। মধ্যযুগীয় বর্বরতার নেশা এদের।’

মধ্যযুগের এক লোক এসে তাকে বেহেস্তের দাওয়াত দিয়ে বলে, ‘আমি টুপি দাঁড়ি মাথায় নিয়ে আল্লাহকে হাজির নাজির জেনে বলছি, এদের ক্রসফায়ার করলে বেহেস্তে যাওয়া যাবে কোনো অসুবিধা নাই।’

সাংসদেরা যখন সংসদে দাঁড়িয়ে বুক ফুলিয়ে ‘ক্রসফায়ার’কে সমর্থন দিয়ে বেহেস্তের সুখ বুকে নিয়ে একে একে ফিরে যায়; পোড়োবাড়ির মতো নিঃসঙ্গ সংসদ ভবনের আলো-আঁধারিতে, দেয়ালে-ছাদে তখন এক কিশোরির কান্নার শব্দ বাড়ি খেয়ে ফিরে, আব্বু তুমি কী কান্না করতেছো! প্রতিদিনই এই কান্নার শব্দ দ্বিগুন হতে থাকে।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top