Saturday , February 22 2020
Breaking News
You are here: Home / অর্থনীতি / রোজার পেঁয়াজ নিয়ে ধোয়াসা
রোজার পেঁয়াজ নিয়ে ধোয়াসা

রোজার পেঁয়াজ নিয়ে ধোয়াসা

রোজার মাসকে সামনে রেখে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি), সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ ও এস আলম গ্রুপ দুই লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করার কথা। ফেব্রুয়ারির শেষ বা মার্চের প্রথম দিকে দেশে এসব পেঁয়াজ পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে কোনও প্রতিষ্ঠান এখনও পেঁয়াজ আমদানির কাজ শুরু করেনি। প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ সরকারের অনুরোধ রক্ষায় তুরস্ক ও মিসর থেকে বাড়তি ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি খুলেছে। মেঘনা গ্রুপ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পেঁয়াজের বাজার দর যাচাই করছে। যে দেশে দাম কম হবে সে দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি খুলবে তারা। এস আলম গ্রুপ দেশের পেঁয়াজের বাজার পর্যালোচনা করছে। কারণ মার্চের মধ্যে দেশের মাঠে থাকা সব পেঁয়াজ উঠে যাবে। সেসময় আমদানি করা পেঁয়াজের চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই প্রক্রিয়া শুরু করতে চায় তারা। আর টিসিবি বলছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যেভাবে তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারে সরকারি প্রতিষ্ঠান সেভাবে পারে না। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে অনেক নিয়মকানুন অনুসরণ করতে  হয়।

প্রসঙ্গত, ২ জানুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন রমজান উপলক্ষে ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহেমেদ দেশের তিনটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও টিসিবিকে ৫০ হাজার টন করে মোট দুই লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুরোধ করেছিলেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিটি গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক বিশ্বজিত সাহা বলেছেন,  ‘সিদ্ধান্তের পরের দিনই আমরা মিসর ও তুরস্ক থেকে আরও ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির করতে এলসি খুলেছি। আশা করছি মার্চের মাঝামাঝি সময় দেশের বন্দরে এসে পৌঁছাবে। এছাড়াও আমাদের পাইপ লাইনেও আমদানি করা পেঁয়াজের চালান আসছে।’

মেঘনা গ্রুপের উপ-মহাব্যবস্থাপক মনোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘ওই সভার সিদ্ধান্তের বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা বিশ্বের বিভিন্ন বাজার দর যাচাই করছি। যেখানে দাম কম পাবো সেখান থেকেই আমরা পেঁয়াজ আমদানির উদ্দেশ্যে এলসি খুলবো। আশা করছি রোজার আগেই আমদানি প্রক্রিয়া শেষ করে তা দেশে এসে পৌঁছবে।’

এস আলম গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন,  ‘আমরা দেশের বাজার পরিস্থিতি ও চাহিদার বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। কারণ মার্চের মধ্যে দেশের সব এলাকার মাঠে থাক পেঁয়াজ উঠে যাবে। তাই সেসময় আমদানি করা পেঁয়াজের চাহিদা থাকবে কী থাকবে না সেই বিষয়টি বিবেচনায় এনে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।’

টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান জাহাঙ্গীরের পক্ষে তার একান্ত সচিব হুমায়ুন কবির বলেন, ‘চাইলেই আমরা হুট করে কোনও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারি না। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যেভাবে তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারে, সরকারি প্রতিষ্ঠান সেভাবে পারে না। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে অনেক নিয়মকানুন অনুসরণ করতে হয়। তবে বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছিলেন, ‘সিদ্ধান্তটি আগে নিলাম। কারণ আমদানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আমদানি করা পেঁয়াজ জাহাজে আসতে সময় লাগে কমপক্ষে ৪৫ দিন। এ দিকটি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের জন্য টিসিবিকে বলেছি এবং বেসরকারি ব্যবসায়ী গ্রুপগুলোকে অনুরোধ করেছি।’

এ প্রসঙ্গে টিপু মুনশি জানিয়েছিলেন, ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের পরের ১২ ঘণ্টা যেতে না যেতেই দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন গুণ বাড়িয়ে বিক্রি করেছেন ব্যবসায়ীরা। কোনোভাবেই আমি পেঁয়াজ নিয়ে কোনও ধরনের ঝুঁকি নিতে চাই না। যত পরিমাণ পেঁয়াজই দেশে উৎপাদিত হোক না কেনও দেশে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত থাকবে।

 

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top