Sunday , September 27 2020
Breaking News
You are here: Home / জাতীয় / সিটির ভোট স্থগিতে আপিলের বিরুদ্ধে লড়বে নির্বাচন কমিশন
সিটির ভোট স্থগিতে আপিলের বিরুদ্ধে লড়বে নির্বাচন কমিশন

সিটির ভোট স্থগিতে আপিলের বিরুদ্ধে লড়বে নির্বাচন কমিশন

৩০ জানুয়ারি সরস্বতী পূজার কারণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণের তারিখ পরিবর্তনের নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যে আবেদন করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে লড়বে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য কমিশন প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ইসির আইনজীবী ব্যারিস্টার ড. মোহাম্মদ ইয়াসিন খান।

আপিল বিভাগে করা আবেদনে ৩০ জানুয়ারি নির্বাচন স্থগিত চাওয়ার পাশাপাশি ভোটগ্রহণের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণের আর্জি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে আগামীকাল রোববার (১৯ জানুয়ারি) আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে শুনানি হতে পারে।

এ আপিলের বিরুদ্ধে লড়তে নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত জানিয়ে কমিশনের আইনজীবী ব্যারিস্টার ড. মোহাম্মদ ইয়াসিন খান বলেন, ‘ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে ঠিক করার জন্য রিট খারিজ হলেও ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল হয়েছে। সেই আপিলের শুনানির জন্য প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাই আমরা আপিল আবেদনের বিরুদ্ধে সব ধরনের প্রস্তুতি রেখেছি, যেন হাইকোর্টের খারিজ আদেশ বহাল থাকে এবং ৩০ জানুয়ারিই নির্বাচনের দিন ঠিক থাকে।’

এর আগে ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি সরস্বতী পূজা রয়েছে উল্লেখ করে গত ৫ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ। দুই সিটির নির্বাচন এক সপ্তাহ পেছাতে করা রিটটি গত ১২ জানুয়ারি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন হাইকোর্ট। পরে ওই আইনজীবী আরেক বেঞ্চে রিটটি উপস্থাপনের জন্য স্লিপ (মেনশন স্লিপ) দেন। সেখানে শুনানি শেষে ১৪ জানুয়ারি আদালত রিটটি খারিজ করে দেন

সেসময় আদালত বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৯ জানুয়ারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করেছে। সুপ্রিম কোর্টের ক্যালেন্ডারেও ২৯ তারিখ ছুটির কথা বলা আছে। আর নির্বাচন কমিশন ৩০ তারিখ ভোটের তারিখ ঘোষণা করেছে। তার দু’দিন পর (২ ফেব্রুয়ারি) এসএসসি পরীক্ষা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভোটের তারিখ পেছানোর কোনো সুযোগ নাই। তাই আবেদনটি সরাসরি খারিজ করা হলো।’

তখন রিটকারী আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই আদেশে আমরা সংক্ষুব্ধ। আমরা আপিল বিভাগে যাব।’

এরপর রিট খারিজ করে দেয়া হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেন অশোক কুমার ঘোষ। এ আইনজীবী জানান, রোববার (১৯ জানুয়ারি) আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে এই আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।

অশোক কুমার ঘোষ বলেন, ‘ভোটের কেন্দ্র স্কুল-কলেজে হয়। আর সরস্বতী পূজাও হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। এ কারণে একই দিনে ভোট ও পূজা হলে সাধারণ মানুষের পূজা উদযাপন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে। এটা সংবিধানেরও বিরোধী। পঞ্চমী শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিমা বিসর্জন দেয়া যায় না। তাই নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে নেয়া যায়।’

এদিকে ভোটগ্রহণের তারিখ নিয়ে সম্প্রতি সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর বলেন, ‘তাত্ত্বিক দিক থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূজা হওয়ার কথা থাকলেও কিন্তু হয় না। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হবে, সেখানে তারা পূজা করবেন। তাদের জন্য আলাদা জায়গা থাকবে। পূজার জায়গাগুলোকে ছেড়ে দিয়েই বাকি রুমগুলোতে ভোট হবে। যেখানে পূজা হবে সেই কক্ষ বাদ দিয়ে অন্য কক্ষগুলোতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। পূজার জায়গায় পূজা চলবে, নির্বাচনের জায়গায় নির্বাচন চলবে। পূজা যেখানে হবে এমন নয়তো যে, সেখানে নির্বাচন করা যাবে না। দুটোই করা যাবে একসাথে। নির্বাচন ও পূজা দুটোই পবিত্র কাজ।’

About দৈনিক সময়ের কাগজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top
error: Content is protected !!