Wednesday , April 1 2020
Breaking News
You are here: Home / মতামত / করোনা মোকাবেলায় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা
করোনা মোকাবেলায় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা

করোনা মোকাবেলায় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা

আনিচুর রহমান আনিস

আমাদের দেশে সর্বক্ষেত্রে যে বিষয়টি বেশি চলে সেটি রাজনীতি। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ডাক্তার, উকিল কেউ কাহারে নাহি ছাড়ে। কিন্তু সবখানে অতি রাজনীতি সব সময় ভাল ফল বয়ে আনেনা।
কথিত আছে আমাদের দেশে যতটা শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞান সৃষ্টিতে প্রফেসররা সময় দেন তার চেয়ে ঢের সময় দেন রাজনীতিতে।

জাতীয় দুর্যোগ, মহামারীতে বিশ্বের নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যখন দুর্যোগ ও মহামারী ঠেকাতে গবেষণায় ব্যস্ত থাকেন প্রফেসররা তখন আমাদের দেশের সম্মানিত শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকেন টিভিতে টক শো ও পত্রিকায় পান্ডিত্য প্রকাশে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতির প্রয়োজন যে একেবারে নেই তা বলছিনা, কিন্তু শিক্ষকদের অতি রাজনীতির কি উপকারিতা তা আমরা এখন এই মহামারীর সময় বুঝতে পাচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয় দেশের জ্ঞান বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ তীর্থভূমি। বিশ্বের সব দেশে সবার আগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, বর্তমান দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের গবেষণা কার্যক্রমের চাইতে রাজনীতি ও দলীয় কাদা ছোড়াছুড়ি নিয়েই বেশি থাকতে দেখা যায়। যার ফলশ্রুতিতে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে তাদের কোন উপকারে দেশ আজ পাচ্ছে না।

যদিও উপকার পাওয়ার জন্য সরকার তাদের পিছনে আমাদের দেশের খেটে খাওয়া মানুষের হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে বড় বড় ল্যাবরেটরি করে দিচ্ছে,এসি ক্লাসরুম করে দিচ্ছে, গবেষণার জন্য সর্বোচ্চ সুযোগ দেয়ার চেষ্টা করছে,কিন্তু তারা গবেষণার চাইতে নিজেদের আরও ক্ষমতাধর ও প্রভাবশালী হওয়ায় জন্য রাজনীতি নিয়ে ব্যাতিব্যাস্ত থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য গবেষণা এবং সেই গবেষণালব্ধ ফল দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো, কিন্তু আমাদের দেশ সে সুফল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সারা পৃথিবীসহ দেশের মানুষ যখন করোনার মত মহামারী সংক্রমণ নিয়ে বিপদগ্রস্থ কিন্তু তারা এই বিপদের সময় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে ঘরে বসে আছে(দুই,একটি বাদে)।শুনতে পেলাম না যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরীতে এই বিষয়ে গবেষণা করছে বা ওষুধ তৈরির চেষ্টা করছে বা প্রতিষেধক তৈরি করার চেষ্টা করছে। প্রতিষেধক না হোক দেশের মানুষের জন্য প্রতিরোধক(হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, ডক্টরদের জন্য পিপিই ইত্যাদি) কিছু উদ্ভাবন করলেও তো দেশ ও দেশের জনগণ কিছুটা উপকার পেত। প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞানের জন্য আলাদা বিভাগ আছে এবং আলাদা বিজ্ঞান বিষয়ক বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় আছে কিন্তু তাদের কোনো কার্যক্রম দেশের প্রয়োজনে দেখলাম না এটা দেশবাসীর কাছে খুবই দুঃখজনক মনে হয়েছে এবং আমি মনে করি এটার প্রধান কারণ শিক্ষকদের অতিরঞ্জিত শিক্ষক রাজনীতি।

বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারকরা বেশ কিছুদিন ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অতি রাজনীতির বিষয়ে কথা বলে আসছেন। কিছুদিন আগে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক‌‌‌ জনাব মাহবুব উল আলম হানিফ এম পি মহোদয় এক অনুষ্ঠানে বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করা জরুরি। তার কারণ সরকার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে ধরনের উপকার প্রত্যাশা করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকার বা জনগনকে তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

জাতীর এই ক্রান্তিকালে যদি শিক্ষকরা তাদের দায়িত্ব ভুলে যান, তাহলে সেটি হবে জাতীর জন্য অত্যন্ত হতাশার। তাই আমি জাতীর বিবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত প্রফেসর ও গবেষকদের নিকট আহবান জানাই আপনারা রাজনীতির মাঠ থেকে গবেষণাগারে ফিরে যান। এতেই দেশ ও দশের মুক্তি।

লেখক : ছাত্র রাজনীতিবিদ

ও শিক্ষার্থী

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া। 

About দৈনিক সময়ের কাগজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top