Tuesday , May 26 2020
Breaking News
You are here: Home / Uncategorized / কারখানায় কাজ বন্ধের নোটিশ যেমন হতে পারে
কারখানায় কাজ বন্ধের নোটিশ যেমন হতে পারে

কারখানায় কাজ বন্ধের নোটিশ যেমন হতে পারে

মো. রাকিব সিদ্দিকী 

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর অধীন যেসকল প্রতিষ্ঠান এখনো সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে পারেননি বা প্রতিষ্ঠান কী উপায়ে বন্ধ ঘোষনা করবেন তা নির্ধারণ করতে বা উক্ত আইনের কোন কোন ধারা অনুযায়ী বন্ধের নোটিশ প্রদান করবেন তা ঠিক করতে বিব্রত হচ্ছেন তারা ধারা-১২ অনুযায়ী কাজ বন্ধ রাখার এবং ধারা-১৬ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদানের নোটিশ দিতে পারেন। আপনাদের সুবিধাথে সংশ্লিষ্ঠ ধারাসমূহ উল্লেখ করা হলো। বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর প্রাদুর্ভাবে যে বৈশ্বিক মহামারী সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য সময়োপযোগি সিদ্ধান্ত নিতে বাংলাদেশ শ্রম আইনের নিন্মোক্ত ধারা যথাযথ বলে আমি মনে করি।

ধারা \ ১২। কাজ বন্ধ রাখা।(১) অগ্নিকান্ড, আকষ্মিক বিপত্তি, যন্ত্রপাতি বিকল, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ, মহামারী, ব্যাপক দাঙ্গা-হাঙ্গামা অথবা মালিকের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত অন্য কোন কারণে প্রয়োজন হইলে, কোন মালিক যে কোন সময় তাহার প্রতিষ্ঠানের কোন শাখা বা শাখাসমূহ আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ করিয়া দিতে পরিবেন এবং যে কারণে উক্তরূপ বন্ধের আদেশ দেওয়া হইবে তাহা বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত এই বন্ধের আদেশ বহাল রাখিতে পারিবেন।
(২) যদি উক্তরূপ বন্ধের আদেশ কর্মসময়ের পরে দেওয়া হয়, তাহা হইলে পরবর্তী কর্মসময় শুরু হওয়ার আগে মালিক প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট শাখার নোটিশ বোর্ডে বা কোন প্রকাশ্য স্থানে নোটিশ সাটিয়া বা লটকাইয়া দিয়া উক্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকগণকে অবহিত করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নোটিশে বন্ধ পরবর্তী কাজ কখন শুরু হইবে এবং সংশ্লিষ্ট শ্রমিকগণকে কাজ পুনরায় শুরু হওয়ার পূর্বে কোন সময় তাহাদের কর্মস্থলে অবস্থান করিতে হইবে কি না তৎসম্পর্কে নির্দেশ থাকিবে।
(৪) যদি উক্তরূপ বন্ধ কর্মসময়ের মধ্যেই সংঘটিত হয়, তাহা হইলে মালিক উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত পন্থায় নোটিশ মারফত সংশ্লিষ্ট শ্রমিকগণকে যথাশীঘ্র সম্ভব তৎসম্পর্কে অবহিত করিবেন, এবং এই নোটিশে পরবর্তী কাজ কখন শুরু হইবে এবং শ্রমিকগণ কর্মস্থলে অবস্থান করিবেন কি না তৎসম্পর্কে নির্দেশ থাকিবে।
(৫) উক্তরূপ কাজ বন্ধের পর যে সমস্ত শ্রমিককে কর্মস্থলে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হইবে, তাহাদের এই অবস্থানের সময় এক ঘন্টার কম হইলে তাহারা কোন মজুরি নাও পাইতে পারেন, এবং এই অবস্থানের সময় ইহার অধিক হইলে তাহারা অবস্থানকালীন সম্পূর্ণ সময়ের জন্য মজুরি পাইবেন।
(৬) যদি কাজ বন্ধের মেয়াদ এক কর্ম দিবসের চেয়ে বেশি না হয়, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট কোন শ্রমিক, উপ-ধারা (৫) এর ক্ষেত্র ব্যতীত, কোন মজুরি নাও পাইতে পারেন।
(৭) যদি কাজ বন্ধের মেয়াদ এক কর্ম দিবসের অধিক হয় তাহা হইলে, সাময়িক বা বদলী শ্রমিক ব্যতীত, সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক শ্রমিককে এক দিনের অতিরিক্ত সকল বন্ধ কর্ম দিবসের জন্য মজুরি প্রদান করা হইবে।
(৮) যদি কাজ বন্ধের মেয়াদ তিন কর্ম দিবসের অধিক হয়, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকগণকে ধারা ১৬ এর বিধান অনুযায়ী লে-অফ করা হইবে।
(৯) উপ-ধারা (৮) এ উল্লিখিত লে-অফ কাজ বন্ধ হওয়ার প্রথম দিন হইতেই বলবৎ হইবে, এবং প্রথম তিন দিনের জন্য প্রদত্ত কোন মজুরি সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে প্রদেয় লে-অফকালীন ক্ষতিপূরণের সহিত সমন্বিত করা হইবে।
(১০) কাজ বন্ধের কারণে যদি কোন ঠিকা-হারের শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হন তাহা হইলে উপ-ধারা (৯) এর প্রয়োজনে তাহার পূর্ববর্তী এক মাসে গড় দৈনিক আয়কে দৈনিক মজুরি বলিয়া গণ্য করা হইবে।

(ধারা \ ১৫। ধারা ১২, ১৬, ১৭ এবং ১৮ প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাধা-নিষেধ। এই অধ্যায়ের অন্যত্র যাহা কিছুই থাকুক না কেন, অন্ততঃ পাঁচ জন শ্রমিক নিযুক্ত নাই বা পূর্ববর্তী বার মাসে নিযুক্ত ছিল না-এইরূপ কোন প্রতিষ্ঠানে ধারা ১২, ১৬, ১৭ এবং ১৮ এর বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে না।)

ধারা \ ১৬। লে-অফকৃত শ্রমিকগণের ক্ষতিপূরণের অধিকার। (১) যে ক্ষেত্রে বদলী বা সাময়িক শ্রমিক নহেন এরূপ কোন শ্রমিককে, যাহার নাম কোন প্রতিষ্ঠানের মাস্টার রোলে অন্তর্ভুক্ত আছে এবং যিনি মালিকের অধীন অন্ততঃ এক বৎসর চাকুরী সম্পূর্ণ করিয়াছেন, লে-অফ করা হয়, তাহা হইলে মালিক তাহাকে, সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত তাহার লে-অফের সকল দিনের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ক্ষতিপূরণের পরিমাণ হইবে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের মোট মূল মজুরি এবং মহার্ঘ ভাতা এবং এড-হক বা অর্ন্তবর্তী মজুরি, যদি থাকে, এর অর্ধেক এবং তাহাকে লে-অফ করা না হইলে তিনি যে আবাসিক ভাতা পাইতেন, তাহার সম্পূর্ণের সমান।

(৩) যে বদলী শ্রমিকের নাম কোন প্রতিষ্ঠানের মাস্টার-রোলের অন্তর্ভুক্ত আছে, তিনি এই ধারার প্রয়োজনে বদলী বলিয়া গণ্য হইবেন না যদি তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানে অবিচ্ছিন্নভাবে এক বছর চাকুরী সম্পূর্ণ করিয়া থাকেন।
(৪) মালিক এবং শ্রমিকের মধ্যে ভিন্নরূপ কোন চুক্তি না থাকিলে, কোন শ্রমিক এই ধারার অধীন কোন পঞ্জিকা বৎসরে পঁয়তাল্লিশ দিনের অধিক সময়ের জন্য ক্ষতিপূরণ পাইবেন না।
(৫) উপ-ধারা (৪) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কোন পঞ্জিকা বৎসরে কোন শ্রমিককে অবিচ্ছিন্নভাবে বা বিচ্ছিন্নভাবে পঁয়তাল্লিশ দিনের অধিক সময়ের জন্য লে-অফ করা হয়, এবং উক্ত পঁয়তাল্লিশ দিনের পর লে-অফের সময় যদি আরোও পনের দিন বা তদূর্ধ্ব হয়, তাহা হইলে উক্ত শ্রমিককে, শ্রমিক এবং মালিকের মধ্যে ভিন্নরূপে কোন চুক্তি না থাকিলে, পরবর্তী প্রত্যেক পনের বা তদূর্ধ্ব দিনসমূহের লে-অফের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে হইবে।
(৬) উপ-ধারা (৫) এ উল্লিখিত ক্ষতিপূরণের পরিমাণ হইবে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের মোট মূল মজুরি এবং মহার্ঘ ভাতা এবং এডহক বা অন্তর্বর্তী মজুরি, যদি থাকে, এর এক-চতুর্থাংশ এবং যদি আবাসিক ভাতা থাকে, তাহার সম্পূর্ণের সমান।

(৭) কোন ক্ষেত্রে যদি কোন শ্রমিককে কোন পঞ্জিকা বৎসরে উপরে উল্লিখিত প্রথম পঁয়তাল্লিশ দিন লে-অফের পর কোন অবিচ্ছিন্ন পনের দিন বা তদূর্ধ্ব সময়ের জন্য লে-অফ করিতে হয়, তাহা হইলে মালিক উক্ত শ্রমিককে লে-অফের পরিবর্তে ধারা ২০ এর অধীন ছাঁটাই করিতে পারিবেন।

ধারা \ ২০। ছাঁটাই।(১) কোন শ্রমিককে প্রয়োজন অতিরিক্ততার কারণে কোন প্রতিষ্ঠান হইতে ছাঁটাই করা যাইবে।
(২) কোন শ্রমিক যদি কোন মালিকের অধীনে অবিচ্ছিন্নভাবে অন্যুন এক বৎসর চাকুরীতে নিয়োজিত থাকেন, তাহা হইলে তাহার ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে মালিককে-
(ক) তাহার ছাঁটাইয়ের কারণ উল্লেখ করিয়া এক মাসের লিখিত নোটিশ দিতে হইবে, অথবা নোটিশ মেয়াদের জন্য নোটিশের পরিবর্তে মজুরি প্রদান করিতে হইবে;
(খ) নোটিশের একটি কপি প্রধান পরিদর্শক অথবা তৎকর্তৃক নির্ধারিত কোন কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করিতে হইবে, এবং আরেকটি কপি প্রতিষ্ঠানের যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধিকে, যদি থাকে, দিতে হইবে; এবং
(গ) তাহাকে ক্ষতিপূরণ বাবদ তাহার প্রত্যেক বৎসর চাকুরীর জন্য ত্রিশ দিনের মজুরি বা গ্রাচ্যুইটি যদি প্রদেয় হয়, যাহা অধিক হইবে, প্রদান করিতে হইবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ১৬ (৭) এর অধীন ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (২) (ক) এর উল্লিখিত কোন নোটিশের প্রয়োজন হইবে না, তবে ছাটাইকৃত শ্রমিককে উপ-ধারা (২) (গ) মোতাবেক প্রদেয় ক্ষতিপূরণ বা গ্রাচ্যুইটির অতিরিক্ত হিসাবে আরোও পনের দিনের মজুরি দিতে হইবে।

(৪) যে ক্ষেত্রে কোন বিশেষ শ্রেনীর শ্রমিককে ছাঁটাই করার প্রয়োজন হয় সে ক্ষেত্রে, মালিক এবং শ্রমিকের মধ্যে এতদসংক্রান্ত কোন চুক্তির অবর্তমানে, মালিক উক্ত শ্রেণীর শ্রমিকগণের মধ্যে সর্বশেষে নিযুক্ত শ্রমিককে ছাঁটাই করিবেন।

কাজ বন্ধের নমুনা বিজ্ঞপ্তি

(কারখানার প্যাড)

কাজ বন্ধ রাখার বিজ্ঞপ্তি

এতদ্বারা……….. লি. এর সংশ্লিষ্ট সকল শ্রমিক ও কর্মচারীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর প্রাদূর্ভাবে বৈশ্বিক মহামারীর অংশ হিসেবে বাংলাদেশেও দিনদিন আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যে হারে বেড়ে চলছে তাতে শ্রমিক কর্মচারিসহ সকলের মধ্যে ব্যাপক আতংক বিরাজ করছে। এমতাবস্থায় কারখানায় কর্মরত সকলের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে কতৃপক্ষ বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ১২ ধারা মোতাবেক আগামী (৮/৪/২০২০)/……….. ইং তারিখ থেকে (৩০/৪/২০২০)/……….. ইং তারিখ পর্যন্ত কারখানার কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন।

আগামী (২/৫/২০২০)/………. ইং তারিখ যথারীতি কারখানা খোলা থাকবে। উদ্ভুত পরিস্থিতির অবনতির কারনে কতৃপক্ষ যদি কারখানা খোলার তারিখ পরিবর্তন করেন, তাহলে নোটিশের মাধ্যমে তা জানিয়ে দেওয়া হবে। কাজ বন্ধকালীন শ্রমিক কর্মচারিদেরকে বাংলাদেশ শ্রম আইন,২০০৬ এর ১৬ ধারা মোতাবেক ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে।

উল্লেখ্য যে, কাজ বন্ধকালীন শ্রমিক ও কর্মচারিদের কারখানায় উপস্থিত হওয়া বা হাজিরা দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। পরিস্থিতির উন্নতি হলে কারখানা চালু হওয়ার তারিখ নোটিশের মাধ্যমে জানানো হবে। সে নাগাদ সকলকে নিরাপদে থাকতে ও স্বাস্থবিধি যথাযতভাবে মেনে চলতে বিশেষভাবে বলা হচ্ছে।
বি.দ্র: অত্র ছুটি নিরাপত্তা বিভাগের আওতাভুক্ত নয়।

কতৃপক্ষের নির্দেশক্রমে,

…………………………………
ব্যবস্থাপক- প্রশাসন বিভাগ

অনুলিপি : সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে প্রেরিত হলো।
১।
২।
৩।
…….

  • লেখক: আইনজীবী
  • জজ কোর্ট, ঢাকা
  • ফোনঃ ০১৭১২৭৫৫৮২৮

About দৈনিক সময়ের কাগজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top