Tuesday , May 26 2020
Breaking News
You are here: Home / মতামত / বাংলাদেশে করোনা, সামনে কি দূর্ভিক্ষ আসন্ন?
বাংলাদেশে করোনা, সামনে কি দূর্ভিক্ষ আসন্ন?

বাংলাদেশে করোনা, সামনে কি দূর্ভিক্ষ আসন্ন?

 

১৯৭৪ সালের দূর্ভিক্ষে সরকারী হিসেব অনুসারে ২৭,০০০ মানুষ অনাহারে মৃত্যুবরণ করে। বেসরকারি হিসেবে অনুমানিক ১,০০,০০০ থেকে ৪,৫০,০০০ জন প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে মৃত্যুবরণ করে। সর্বাধিক বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলির মধ্যে একটি ছিল রংপুর, বিশেষত কুড়িগাম জেলা এবং সেখানে সবচেয়ে বেশী মানুষ মৃত্যুবরণ করে।  মোট মৃতের সংখ্যা, যদিও বিভিন্ন পরিসংখ্যানে আলাদা আলাদা এসেছে।

 

বিংশ শতাব্দীর অন্যতম মহামারি করোনা ভাইরাসে উদ্ধুদ্ধ পরিস্থিতে সারাদেশ কার্যত লকডাউন, যেখানে সারা পৃথিবীর ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ। আমদানী রপ্তানি প্রায় শূণ্যের কোটায়। আমাদের দেশ বরাবরই খাদ্য সামগ্রী আমদানি করে থাকে পার্শ্ববর্তী দেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে। এমতাবস্থায় করোনা ভাইরাস সৃষ্ট পরিস্থিতি দীর্ঘদিন বহন করলে কেউ ঘর থেকে না বের হলে, শিল্পকল কারখানা চালু না হলে উৎপাদন হ্রাস পাবে যা কল্পনাতিত। তার ওপর আমাদের দেশের সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা পারলে কাফনের কাপরের দাম বৃদ্ধি করে মুনাফা করতেও দ্বীধা করেনা। সেই হিসাব মেলাতে গেলে স্বাভাবিক ভাবেই মনে প্রশ্ন আসতে পারে আমাদের এই মূহুর্তে কি করণীয়?

ছবি: ১৯৭৪ সালের দূর্ভিক্ষ (ইন্টারনেট)

ইতিমধ্যে বাংলাদেশের করোনা ব্যাপক আকার ধারণের ৩য় ফেজ পারি দিয়ে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু করেছে, যা আমাদের জন্য ভয়ের ব্যাপার! তার ওপর আমাদের দেশের মানুষের সচেতনতা ও সামর্থ্য দূর্বল পর্যায়ে।

ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাস উদ্ধৃত পরিস্থিতি ও এই ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে প্রতিটি জেলায় জেলায় অঘোষিত লকডাউন শুরু করে প্রশাসন। এতে দেশের খাদ্য সামগ্রী উৎপাদন ও বন্টনে সৃষ্টি হতে পারে ব্যাপক সমস্যা। বিগত দিনে আমরা দেখেছি ভারত পেয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করায় বাজারে পেয়াজের সংকট সৃষ্টি হয়ে বাজার টাল মাটাল অবস্থার তৈরি হয়। সমগ্র ইউরোপ ও আমেরিকার বিশাল অর্থনীতি ও ধ্বসে পরেছে। সংকট দেখা দিয়েছে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের।

 

এই ঝুকি মোকাবেলা করতে আমরা কতোটুকু প্রস্তুতি নিয়েছি?

 

করোনা পরবর্তী বিশ্ব কোন দিকে যাবে তা এখনই বলা সম্ভবপর হচ্ছেনা। তবে এটুকু অনুমান করা যায় যে পৃথিবী দীর্ঘকালীন সংকটের মুখে পরেছে। এর থেকে সহজে বের হওয়া যাবেনা। ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও অর্তনৈতিক অবস্থার গতি প্রকৃতি কবে নাগাদ ঠিক হবে সবার অজানা। আমাদের বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্বারিয়ে ছিল তৈরি পোশাক খাত, বৈদেশিক রেমিট্যান্স, বিভিন্ন পণ্য ও খাদ্য সামগ্রী রপ্তানির ওপর। যা এখন অনেকাংশে বন্ধ প্রায়।

ছবি: ১৯৭৪ সালের দূর্ভিক্ষ (ইন্টারনেট)

এই সংকটের উত্তিরনে আমরা বা আমাদের সরকার কতোটুকু প্রস্তুত?

গতকাল সোমবার ৭ই এপ্রিল ২০২০ আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন জেলার ডিসি, নেতা ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে করোনা সংক্রান্ত নানা আলাপ আলোচনা করেন। এসময় তিনি বারবার খাদ্য উৎপাদনের তাগিদ দেন এবং বলেন দেশে যেন কোন অব্যবহিত জমি পরে না থাকে ও সবার বসতভিটায় আবাদের জন্যেও উদ্ধুদ্ধ করেন।

 

হয়তো তিনি বুঝতে পারছেন এই বৃহৎ জনসংখ্যার দেশে শুধু মাত্র অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে খাদ্য সংকট পরিস্থিতির মোকাবেলা করা সহজ হবেনা। কারণ মজুত খাদ্য শেষ হলেই খাদ্য সংগ্রহ অথবা আমদানি করার প্রয়োজন পরবে যা এই সময়ে কতোটুকু কার্যকর হবে বলা যাচ্ছেনা। আবার কৃষকদের আবাদি জমিতে ধান কাটার সময়ে লোকবল সংকটের বিষয়েও ভাবতে হবে সরকারকে।

 

সরকারের এই খাদ্য নিশ্চয়তা নীতি বাস্তবায়ন করতে হলে এখনই এই বিষয়টিকে গুরত্বের সাথে বিবেচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

কৃষকদের নিয়ে পরিকল্পনা করে তাদের জন্য সার, বীজ সহ কৃষিকাজে ব্যবহিত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিনামূল্যে বা সুদবিহীন ঋণ অনুদানের মাধ্যমে হস্তান্তর করতে হবে। এইক্ষেত্রে প্রয়োজনে একটি কমিটি গঠন করে তার অধীনে দূর্নীতিমুক্তভাবে কৃষকদের মাঝে বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গেলে দেখা মেলে প্রচুর আবাদি জমি অনাবাদিভাবে পরে থাকতে। এইক্ষেত্রে কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণে ব্যর্থতা ও শিল্পমুখী পদক্ষেপ অগ্রাধিকারের ফলে এই সমস্ত আবাদি জমি অনাবাদি পরে থাকতে দেখা যায়। কৃষি মন্ত্রাণালয়ের সরকারী ওয়েবসাইট হিসাবে দেশে আবাদযোগ্য কৃষি জমি মোট ৮৫.৭৭ লক্ষ হেক্টর এবং আবাদযোগ্য পতিত জমির পরিমাণ ২.২৩ লক্ষ হেক্টর। এই বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদি পরে আছে। দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতেই এই জমিতে চাষ করানো যায়নি নানা তৎপরতার পরেও।

দেশের এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে এই বিপুল পরিমাণ অনাবাদি জমি সহ প্রত্যেকটা নাগরিক কে এগিয়ে আসতে হবে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী চাষ করার জন্যে। এই ক্ষেত্রে সরকার কমিটির মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষি বীজ সার ও কৃষি সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি সু-নিদৃষ্ট কর্ম পরিকল্পনার সাথে বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে। তা না হলে আরো একটি দূর্ভিক্ষের সম্মুখীন হতে পারে দেশ। সেই সাথে দেখা দিতে পারে সমাজে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা। তাই অতি দ্রুত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া ও তার বাস্তবায়ন করা জরুরী।

সেই সাথে জনগণকে উদ্ধুদ্ধ করতে হবে অনাবাদি জমিতে ধান, গম, ডাল, আলু চাষ সহ ও বসতভিটাতে বিভিন্ন শাক সবজি ও ফলমূল চাষের জন্য।

 

মোঃ সাব্বির হোসেন

রাষ্ট্রবিজ্ঞান(মাষ্টার্স)

সাংবাদিক

দৈনিক সময়ের কাগজ

মোবা:০১৭৯৫৯৯২৮৭২

About দৈনিক সময়ের কাগজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top