Tuesday , May 26 2020
Breaking News
You are here: Home / খুলনা ও বরিশাল / কুমারখালী দুই ভাই হত্যাকান্ডে ১০ দিন অতিবাহিত হলেও আসামী গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকাবাসীর ক্ষোভ
কুমারখালী দুই ভাই হত্যাকান্ডে ১০ দিন অতিবাহিত হলেও আসামী গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকাবাসীর ক্ষোভ

কুমারখালী দুই ভাই হত্যাকান্ডে ১০ দিন অতিবাহিত হলেও আসামী গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকাবাসীর ক্ষোভ

কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামে দুই ভাই হত্যাকান্ডে মামলার বাদী নিহত মেহেদ আলী শেখের পুত্র নুর ইসলাম ও তার পরিবারকে এলাকা থেকে তুলে দেওয়ার জন্য মামলার আসামী খোকন তরুণ গংরা হুমকি অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে ওই পরিবারটি রয়েছে চরম নিরাপত্তাহীনতায়। হত্যাকান্ডের ১০দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ মামলার প্রকৃতি খুনিদের গ্রেফতার করতে পারেনি বলে দাবী করেন দুই ভাই হত্যার পরিবার। সরেজমিনে এলাকায় যেয়ে দেখা যায়, দুই ভাই হত্যাকান্ডের মামলার প্রধান আসামী নয়ন মন্ডলের ছেলে খোকনের বাড়ির সামনে ৫ থেকে৬ জন পুলিশ পাহারা দিচ্ছেন। মামলার বাদি নুর ইসলাম আরও জানায়, মামলার ১ নং আসামী খোকনের বাড়ি ২নং আসামী পাপ্পু মন্ডল ও ৩নং আসামী মৃত মঈনুদ্দিনের ছেলে তরুণের বাড়িতে পুলিশের পাহারা বসায়। সন্ধ্যার পরে আমাদের কোন লোকজন বাহিরে গেলে পুলিশ তাদের ছবি তোলে এবং পুলিশ আমাদের কোন সহযোগিতা করছে না। আসামীরা আশপাশের গ্রামে থাকলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। পূর্বের শত্র“তার জের ধরে তরুণ, পাপ্পু, ভুট্টো গং আমার বাবা ও চাচাকে ১০দিন আগে কমলাপুর বাজার থেকে ফেরার পথে মন্টুর বাড়ির সামনে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। এ সময় এলাকাবাসী আমার বাবা, চাচার আত্মচিৎকারে ছুটি আসে এবং তাদের মুমূর্ষূ অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। বাদি আরও জানায় এই দলের প্রধান নেতা খলিলুর রহমান খলিল মাষ্টার এই হত্যাকান্ডের আসামীদের নিয়ন্ত্রণ করছে। তার টাকার অভাব নেই। ইতিপূর্বে এই খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে দুদুকে অভিযোগ ছিল। নিহত বকুলের ছেলে রানা জানায়, আমার পিতাকে কুপিয়ে হত্যার পর পরই ঘটনাস্থলে বাঁধ বাজার পুলিশ ক্যাম্পের এস আই রাশেদ ও এস আই গৌতমের নিকট আমার পিতা বকুল জবানবন্দী দিয়েছিল খোকন, পাপ্পু, ভুট্টো, সোহান, শিশির, ইসতিয়াক আাহমেদ তোলন আমার পিতাকে কুপিয়েছে এবং অন্যান্য আসামীরা হাত ধরে রাখে এবং তারা কুপাই। পরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তৃব্যরত ডাক্তার আমার বাবা ও চাচাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। সাদ ব্যাপারী জানান, আমার ১০ ভাইয়ের মধ্যে দুই ভাই মেহেদ আলী ও বকুল তাদেরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে খোকনা ভুট্টো গং। পূর্বে আমার নাতি হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে আমাদের সাথে বিরোধ চলে আসছিল। তারই জের ধরে এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। পুলিশ আসামীদের বাড়ির সামনে পাহারা দিচ্ছে। ১০দিন অতিবাহিত হলেও প্রকৃত হত্যাকারী আসামী কাউকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। আসামীরা পরস্পরের মাধ্যমে আমাদের হুমকি দিচ্ছে, এই গ্রাম থেকে তুলে দেওয়া হবে এবং আমাদের লোকজন সন্ধ্যার পর বাহিরে বের হলে পুলিশ তাদের ছবি তুলছে। পুলিশ খলিলুর রহমান খলিল মাষ্টার গং এর সাথে হাত মিলিয়েছে। পুলিশ ওদের বাড়িঘর পাহারা দিচ্ছে। এই মামলার যারা আসামী হয়েছে তারা কেউই বাড়িতে নেই। এই বাড়িগুলো পুরুষ শুন্য রয়েছে। পুরো গ্রামটি নিস্তব্দ। সবাই আংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এলাকাবাসী জানান, পুলিশ আসামীদের বাড়িঘরের সামনে পাহারা দেয়। সন্ধ্যার পরে কাউকে বের হতে দিচ্ছে না। যদি কেউ বের হয় তাদের ছবি তুলছে। গ্রামের লোকজন রয়েছে চরম আতংকে। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আব্দুল আলিমের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে, তিনি জানান, ৭জন আসামী আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। ফিরোজুর রহমান কটা, আব্দুর রাজ্জাকসহ ৩জন আসামীকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ আসামীদের বাড়িঘর যাতে কেউ ভাংচুর, লুটপাট না করে এজন্য পাহারায় রয়েছে। চাপড়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফিরোজুর রহমান কটার সম্পর্কে মামলার বাদি নুর ইসলাম জানান, তার বিরুদ্ধ আমি কোন মামলা করিনি। পুলিশ তাকে চালান দিয়েছে। এই দুই ভাই হত্যকান্ডে মামলায় কোন প্রকৃত হত্যাকারীরা গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে এই এলাকায় চলছে চরম আতংক। এই হত্যার ঘটনায় পাহাড়পুর গ্রামের মেহেদ আলীর ছেলে ইসলাম বাদী হয়ে প্রধান আসামী খোকন (৩৮) ও পাপ্পু (২৭), উভয় পিতা নয়ন মন্ডল, হুকুমের আসামী করা হয়েছে খলিলুর রহমান মাষ্টারের ভাই মৃত মঈনুদ্দিনের ছেলে তরুণ (৪৪) , ভুট্টো শেখ (৪২), পিতা মোহন, নাফিজ শেখ (২৭), পিতা মুক্তার শেখ, টুটুল (২৯), পিতা মৃত ইয়াকুব বাসদ, সোহান মন্ডল (২৮), পিতা রবিউল ইসলাম মন্ডল ওরফে বাবুল, আমিরুল ইসলাম (৪৮), পিতা মৃত সজেদ আলী মন্ডল, শিশির মন্ডল (২৫), পিতা রবিউল মন্ডল, ইসতিয়াক আহমেদ (২৭), পিতা বাবুল শেখ, আলম মন্ডল (৩৪), পিতা মৃত হেকমত মন্ডল, মিলন (৪৩), পিতা মিলি বিশ্বাস, তুহিন (৩২), শাজাহান শেখ (৪০), উভয় পিতা মোহর শেখ, খাদিমুল বিশ্বাস (৩৮), পিতা মিলি বিশ্বাস, তোফাজ্জেল শেখ (৪৮), পিতা নবাব আলী শেখ, বজলু মন্ডল (৫০), পিতা মৃত ইসমাইল মন্ডল, আলিম শেখ (৪০), পিতা সালিম শেখ, মুন্তা বিশ্বাস (৫০), পিতা মৃত হাকিম বিশ্বাস, মজনু মন্ডল (৩৫), পিতা মৃত সালাম মন্ডল, রাসেল (৩৩), পিতা নাজির শেখ, নাজমুল মন্ডল (২৫), পিতা হাসান মন্ডল, মাছুম শেখ (৩৬), পিতা জালাল শেখ, জসিম শেখ (৩৩), পিতা জলিল, আফতাব বিশ্বাস (৫০), পিতা-মৃত হাকিম, সর্ব সাং-পাহাড়পুর, গোপালপুরে শোলকের ছেলে ফারুক (৩৮), মৃত নেয়াজের ছেলে টুটুল (২৮), মুকুল (৩০), পিতা গণি বিশ্বাসসহ আরও অনেককে অজ্ঞাত আসামী করে কুমারখালী থানায় আজ সন্ধ্যায় একটি হত্যা মামলা দায়ে করা হয়েছে। মামলা নং-০১, তারিখ ০১/০৪/২০২০ ইং।

বামে-মামলার বাদী নিহত মেহেদ আলীর ছেলে নুর ইসলাম ও নিহত বকুলের ছেলে রানা। পাশে মামলার প্রধান আসামী খোকনের বাড়ির সামনে পুলিশের পাহারা।

উল্লেখ্য ৩১ মার্চ, ২০২০ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় কুমারখালীর পাহাড়পুর গ্রামে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে ইউসুফের ছেলে রাজুর সাথে প্রতিপক্ষ গ্র“পের সাথে মারামারি হয়। এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকালে বাঁধবাজার পুলিশ ক্যাম্পে এসআই গৌতম দুই গ্র“পের লোকজনকে ডেকে এই ঘটনার শালিসী বৈঠক করেন। শালিসী বৈঠকে ভুট্টো-মিলি-মুন্তা গ্র“পের লোকজনকে চড় ধাপ্পুড় মারেন। এই অপমান সহ্য করতে না পেরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাদ ব্যাপারী গ্র“পের সাদের আপন দুই ভাই মেহেদ আলী (৬০) ও বকুল (৫০) কমলাপুর বাজার থেকে বাজার করে বাড়ি ফেরার পথে পাহাড়পুর মন্টুর বাড়ি থেকে ভুট্টো-মিলি-মুন্তা গ্র“পের প্রায় অর্ধ শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র হাসুয়া, বেকি, তরোয়ার, রড, লোহার পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপাতে থাকে। এই হত্যাকান্ডে নেতৃত্ব দেন পাহাড়পুর গ্রামের ভুট্টো, তুহিন, মুন্তা, খোরশেদ, মিলন, টুটুল, খোকন, তরুণ, শাজাহান ও নুরপুর গ্রামের মিলনসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক লোকজন। পরে রক্তাত্ত অবস্থায় মেহেদ আলী ও বকুলকে এলাকাবাসী উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তৃব্যরত চিকিৎসক তাদের দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

About দৈনিক সময়ের কাগজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top