Wednesday , September 30 2020
Breaking News
You are here: Home / আর্টিকেল / দুনিয়ার সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ দশ দিন
দুনিয়ার সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ দশ দিন

দুনিয়ার সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ দশ দিন

লেখকঃ মোঃ আব্বাস আলী
সহকারী অধ্যাপক (ব্যবস্থাপনা বিভাগ)
জি,টি ডিগ্রী কলেজ, কোটচাঁদপুর, ঝিনাইদহ।

আগামী ২৩শে জুলাই ২০২০ রোজ বৃহস্পতিবার থেকে যিলহজ্জ মাসের ১ম দশকের দশ দিন শুরু হচ্ছে। এই ১০ দিনের সৎকর্মের চাইতে প্রিয়তর কোন সৎকর্ম আল্লাহর নিকটে নেই।

ছাহাবায়ে কেরাম বললেন, হে আল্লাহ রাসূল!
আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও কি নয়?
তিনি বললেন, জিহাদও নয়।
তবে ঐ ব্যক্তি, যে তার জান ও মাল নিয়ে বেরিয়েছে, আর ফিরে আসেনি (অর্থাৎ শাহাদাত বরণ করেছে)’ (বুখারী হা/৯৬৯; মিশকাত হা/১৪৬০ ‘ছালাত’ অধ্যায় ‘কুরবানী’ অনুচ্ছেদ)।

ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ) বলেন,
যিলহজ্জের প্রথম দশক এত তাৎপর্যমন্ডিত হওয়ার কারণ হ’ল, ছালাত, ছিয়াম, ছাদাক্বাহ, হজ্জসহ শরী‘আতের মূল ইবাদতগুলোর সমাবেশ ঘটে এই দশকে’ (ফাৎহুল বারী ২/৫৩৪)

ইমাম ইবনে তায়মিয়াহ (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, যিলহজ্জের প্রথম দশক উত্তম নাকি রামাযানের শেষ দশকের আমল উত্তম।
তিনি জবাবে বললেন, ‘রামাযানের শেষ দশ দিনের চেয়ে যিলহজ্জের প্রথম দশ দিনের আমল শ্রেষ্ঠ।
আর যিলহজ্জের দশ রাতের চেয়ে রামাযানের শেষ দশ রাতের ইবাদত শ্রেষ্ঠ’। (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ইবনে তায়মিয়াহ ২৫/১৫৪)।

করণীয় : ১ থেকে ৯ যিলহজ্জ পর্যন্ত ছিয়াম পালন : যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশদিন অধিক ফযীলতের বলে ছিয়াম কিংবা অন্যান্য নেকীর কাজ করা যেতে পারে (বুখারী, মিশকাত হা/১৪৬০)।

সে হিসাব ১ম থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত ছিয়াম রাখা যায়। হাফছা (রাঃ) বলেন, كَانَ يَصُومُ تِسْعًا مِنْ ذِى الْحِجَّةِ وَيَوْمَ عَاشُورَاءَ وَثَلاَثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ أَوَّلَ اثْنَيْنِ مِنَ الشَّهْرِ وَخَمِيسَيْنِ. ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যিলহজ্জ মাসের নয় দিন, আশুরার দিন এবং প্রত্যেক মাসের তিন দিন সাওম পালন করতেন-মাসের সোমবার এবং দুই বৃহ¯পতিবার (আবুদাউদ হা/২৪৩৭; নাসাঈ হা/২৪১৭, সনদ ছহীহ)।

বেশী বেশী তাসবীহ, তাহলীল ও তাকবীর পাঠ করা :
এই দশদিনে ইবাদত উত্তম হওয়াই অধিকহারে তাসবীহ, তাহলীল ও তাকবীর পাঠ করবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, مَا مِنْ أَيَّامٍ أَعْظَمَ عِنْدَ اللَّهِ وَلاَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنَ الْعَمَلِ فِيهِنَّ مِنْ هَذِهِ الأَيَّامِ الْعَشْرِ فَأَكْثِرُوا فِيهِنَّ مِنَ التَّهْلِيلِ وَالتَّكْبِيرِ وَالتَّحْمِيدِ ‘এমন কোন দিন নেই যে দিনগুলো আল্লাহর নিকট মহান ও প্রিয় এই দশদিন অপেক্ষা। অতএব এই দিনগুলোতে তোমরা অধিকহারে তাহলীল (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ) তাকবীর (আল্লাহ আকবার) ও তাহমীদ (আল-হামদুলিল্লাহ ) পাঠ কর (আহমাদ হা/৬১৫৪, ৫৪৪৬, যঈফ তারগীব হা/৭৩৩,৭৩৫; আরনাঊত্ব, সনদ ছহীহ, আলবানী, সনদ যঈফ)।

আরাফার দিনের ছিয়ামের পৃথক মর্যাদা রয়েছে।
আবু ক্বাতাদাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন,صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُّكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِىْ قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِىْ بَعْدَهُ- ‘
আরাফার দিনের ছিয়াম (যারা আরাফা ময়দানের বাইরে থাকেন তাদের জন্য)
আমি আল্লাহর নিকট আশা করি যে, তা বিগত এক বছরের ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে’ (মুসলিম হা/১১৬২; মিশকাত হা/২০৪৪ ‘ছওম’ অধ্যায়, ‘নফল ছিয়াম’ অনুচ্ছেদ)।

একটি বর্ণনায় এসেছে যে, পাঁচটি রাত জেগে ইবাদত করলে তার জন্য জান্নাত যরূরী হয়ে যাবে।
(১) তারবিয়ার রাত (২) আরাফার রাত
(৩) কুরবানীর রাত (৪) ঈদুল ফিতরের রাত
(৫) ১৫ শা‘বানের রাত।
তবে হাদীছটি জাল

জিলহজ্ব মাস শুরুর আগেই হাত ও পায়ের নখ , মাথার চুল , বোগল এবং গুপ্তাঙ্গ পরিষ্কার করে ফেলি। আর ঈদের নামায পড়ে কাটবো এর মাঝে নয়।

জিলহজ্জ মাসের চাঁদ আগামী ২১শে জুলাই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা আছে । অর্থাৎ ২১শে জুলাই মঙ্গলবার সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত কাটা যাবে।

এখন থেকেই নিয়্যাত করি ইনশাআল্লাহ জিলহজ্বের ৯ টি রোযা থাকবো এবং ঈদের দিন ঈদের নামায পড়ে তারপর খাবো ।

( যে সকল নারীদের স্বামী কাছে থাকে তারা নফল রোযা রাখতে স্বামীর কাছে অনুমতি নিবেন )

( নারীদের ঈদের নামাজ বাধ্যতামূলক নয়। যদি কোন ঈদগাহে নারীদের নামাযের ব্যবস্থা থাকে তাহলে সেখানে পড়তে পারবে । একাকি বা কয়েকজন মিলে বাড়িতে পড়া যাবে না। বাকি ঈদের নামায বাদে অন্যান্য ইবাদাত গুলো করতে পারবে । )

জিলহজ্জের প্রথম দশদিন চুল নখ গুপ্তাঙ্গ না কাটা । এজন্য জিলহজ্জ মাস শুরুর আগেই এসব কাজ করে নেওয়া । যিনি কুরবানী করবেন তিনি অবশ্যই এই কাজ গুলো করবেন ।

আর যারা কুরবানী করবেন না তারাও এই আমল করতে পারেন । ইনশাআল্লাহ সোওয়াব হবে । ছোট ছোট বাচ্চাদেরও আমল টা করাতে পারেন। নারী পুরুষ সবাই করবেন।

পহেলা জিলহজ্জ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত রোযা রাখা। সবগুলো সম্ভব না হলে সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখা। যদি তাও সম্ভব না হয় তাহলে ঈদের আগের দুইদিন রোযা রাখা । যদি এই দুদিনও সম্ভব না হয় তাহলে ঈদের আগের দিন অবশ্যই রাখা উচিত। এগুলো নফল রোযা । রাখলে সোওয়াব হবে । না রাখলে কিছু হবে না ।

( আলেম গণের মধ্যে দ্বিমত আছে আরাফার রোযা কবে । কেউ বলেন যে সৌদিতে যখন আরাফা তখন । আবার কেউ বলেন যার যার দেশের ৯ যিলহজ্ব ঈদের আগের দিন। এজন্য অনেকেই পরামর্শ দেন ঈদের আগের দুই দিন রোযা রাখতে )

যাদের রমজানের কাযা বা ভাঙতি রোযা আছে তারাও এই নফল রোযা রাখতে পারবেন। তবে উত্তম হলো কাযা রোযা গুলো রাখা। কাযা রোযা গুলো ফরয। আমরা অনেকেই নফল রোযা রাখি কিন্তু কাযা গুলো রাখি না । এটা মোটেও উচিত নয়। কাযা রোযা না রাখলে গুনাহ হবে ।

নারী পুরুষ যাদের রোযা কাযা আছে সবাইকেই তা আদায় করতে হবে।

ঐ সময়ে যাদের পিরিয়ড হবে তারা নামায রোযা কুরআন তিলাওয়াত বাদে বাকি আমল গুলো করবেন । দুআ দরুদ যিকির এস্তেগফার মুনাজাত দান সদাকা ইত্যাদি ইত্যাদি ।

প্রতিদিন ও রাত যখন ই সময় হয় তখনই বেশি বেশি নফল ইবাদাত করা । নামায পড়া কুরআন পড়া যিকির আজকার তাসবীহ তাহলীল পড়া, দান করা ।

নামায দুই রাকাত করে পড়তে হবে । দুই রাকাত নফল নামায পড়ছি এমন নিয়ত করে যে কোন সূরা দিয়ে পড়তে পারেন যতখুশি ।

ফজরের ওয়াক্তে, আসরের পর ও নিষিদ্ধ সময় বাদে দিন রাত যে কোন সময় নফল নামায পড়া যাবে। আর অন্যান্য নফল ইবাদাত 24 ঘণ্টাই করা যাবে কোন নিষেধ নেই।

প্রত্যেক দিন সাধ্যমত কুরআন শরীফ পড়া । হতে পারে সূরা ফাতিহা সূরা ইখলাস ফালাক নাস বা মুখস্থ যে কোন সূরা বা আয়াত।

দিনে ও রাতে বেশি বেশি দান সদকা করা। হতে পারে এক টাকা ।

নিজের ও সকলের জন্য দুআ করা । জীবিত ও মৃত ।

আরাফার দুআঃ এটা এমনিতেই যে কোন সময় পড়া যায়। নামায শেষ করে পড়া যায় বা পড়তে হয়।
অন্য দিকে আরাফার দিনে বিশেষ ভাবে পড়ার কথা এসেছে । তো আমরা মুখস্থ করে নিবো । অভ্যাস বানিয়ে নিবো। আর ঈদের দুইদিন আগে থেকে অবশ্যই পড়বো। বাংলাদেশে 8,9 যিলহজ্জ এই দুই দিন এই দুআ বেশি বেশি পড়বো।

নীচের দোয়াটি বেশী বেশী পড়া উত্তমঃ
لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ
وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ
لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ
وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
লা ইলাহা ইল্লাল্লহু
ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু
লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু
ওয়া হুওয়া আ’লা কুল্লি শাই ইং ক্বদির।

এছাড়া নীচের তাসবীহটি বেশী বেশী পড়বেন।
سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ وَسُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيْ
সুবহানাল্লহি ওয়া বিহামদিহি ওয়া সুবহানাল্লহিল আযীম ।

About দৈনিক সময়ের কাগজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top
error: Content is protected !!