Tuesday , September 29 2020
Breaking News
You are here: Home / অন্যান্য / ঐতিহাসিক মাহীসন্তোষের ইতিহাস-ঐতিহ্য
ঐতিহাসিক মাহীসন্তোষের ইতিহাস-ঐতিহ্য

ঐতিহাসিক মাহীসন্তোষের ইতিহাস-ঐতিহ্য

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি
ইতিহাস ঐতিহ্যে ভরপুর নওগাঁ জেলা। কথা হয় এই বরেন্দ্র অ লের ইতিহাস বিশারদ ধামইরহাট সরকারি এম এম কলেজের সদ্য অবসর প্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শহীদুল ইসলাম এর সাথে। ধামইরহাটের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান মাহীসন্তোষ মাজার শরীফ। এক বিশেষ আলাপ চারিতায় দৈনিক সময়ের কাগজ কে মাহীসন্তোষের ইতিহাস বিশ্লেষন করতে গিয়ে তিনি জানান,
ধামইরহাট উপজেলা নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সদর বালুরঘাট থেকে তিন কিলোমিটার দূরে আত্রাই নদীর পূর্ব তীরে হিন্দু বৌদ্ধ শাসনামলে গড়তে উঠেছিল প্রসিদ্ধ মাহীসন্তোষ নগরী।
১২০৪/১২০৫ সালে বখতিয়ার খিলজির বঙ্গ বিজয়ের মধ্য দিয়েই মাহিসন্তোষের সমৃদ্ধির সূত্রপাত হয়ে সমগ্র সুলতানী যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। এই ধারাবাহিকতা মোগল সম্রাট আকবরের শাসনকাল (১৫৫৬-১৬০৫) পর্যন্ত পরিলক্ষিত হয়েছে। মুসলিম শাসনামলে মাহীসন্তোষ বিভিন্ন নামে অভিহিত হয়েছে। বখতিয়ার খিলজি লক্ষণ সেনের রাজধানী লক্ষণাবতী গৌড় অধিকারের অনতিকাল পরেই তিনি গঙ্গারামপুরের সন্নিকটে দেবকোটে রাজধানী স্থানান্তর করেন।
তাঁর অধিকৃত উত্তর পশ্চিম বাংলার রাজ্যকে ইকতা নামের চারটি প্রশাসনিক ইউনিটে বিভক্ত করে খলজি মালিকদের মধ্যে চারজনকে মুকতা পদে নিয়োগ প্রদান করেন। মাত্র বছর দুয়েকের মধ্যে বখতিয়ার খিলজি আততায়ীর ছুরিকাঘাতে নিহত হবার পর খলজি মালিকদের মধ্যে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি শিরান খলজি নিজেকে সুলতান হিসাবে ঘোষণা করেন। তিনি চারটি ইকতার মধ্যে একটি এই দূর্গ নগরীর প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন বলে ধারণা করা হয়।


শিলালিপি থেকে জানা যায় ভূ-রাজনৈতিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নগরী মুসলিম শাসন কালে মাহীসূন ও মকসিদাহ সন্তোষ নামে পরিচিত ছিল। ইলিয়াসশাহী বংশের সুলতান রুকুনউদ্দীন বরবাকশাহ (১৪৪৯ -১৪৭৪ )
এই নগরীতে টাকশাল স্হাপন ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে প্রাদেশিক মর্যাদায় উন্নীত করেন এবং উজির পদমর্যাদার কর্মকর্তা নিয়োগ প্রদান করেন।এরপর মাহীসন্তোষ বারবাকাবাদ নামে পরিচিতি লাভ করে। মোগল সম্রাট আকবরের দিওয়ান রাজা টোঢরমলের রাজস্ব সংস্কারের পর সমগ্র বাংলাদেশ ২৪টি সরকারে বিভক্ত করেন, তন্মধ্যে সরকার বারবাকাবাদ অন্যতম। সরকার বারবাকাবাদের অধীনে প্রায় সমগ্র বৃহত্তর রাজশাহী বিভাগ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই সরকার ৩৮টি মহালে(পরগনায়)বিভক্ত ছিল, তার মধ্যে পরগনা সন্তোষ নামেরও উল্লেখ পাওয়া যায়।
মুসলিম যুগে হিন্দু বৌদ্ধ প্রভাব মুক্ত ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মায়ীসন্তোষ ও মাহীসন্তোষ নামে অভিহিত করণের প্রবনতা লক্ষ্য করা যায়।এক্ষেত্রে প্রচলিত মতামতের বিশ্লেণ হলো – কথিত আছে যে,মাছের পিঠে সওয়ার হয়ে এখানে একজন সুফীর আগমন ঘটেছিল। ফারসী ভাষায় মাহী শব্দের অর্থ মাছ। এছাডাও উনিশ শতকের ইংরেজ গবেষক সহ প্রখ্যাত ঐতিহাসিকগণ বিভিন্ন নিবন্ধে মাহী সন্তোষ ও মায়ী সন্তোষ শব্দের ব্যবহার করেছেন। একজন মহিলা পীর অপরজন তার মেয়ে পাশাপাশি দুটি মাজারের প্রবেশপথে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠার প্রস্তর লিপি উদ্ধার করা হয়েছিল। সেহেতু ফার্সি ভাষায় মায়ী শব্দের অর্থ মা আর গেন্জ্ঞ শব্দের অর্থ শহর। স্থানীয় লোকেরা কখনও ঐতিহাসিক মাহীসন্তোষকে মাহীগন্জ্ঞ বা মাইগন্জ্ঞ বলেই জানে।

অধ্যক্ষ মো. শহীদুল ইসলাম

About দৈনিক সময়ের কাগজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top
error: Content is protected !!