Sunday, November 19, 2017
সংবাদ শিরোনাম
You are here: Home / মতামত / নতুন প্রেসিডেন্টের সামনে কঠিন পথ

নতুন প্রেসিডেন্টের সামনে কঠিন পথ

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ইমানুয়েল ম্যাখোঁ রোববার রাতেই বিজয়ীর ভাষণ দিয়েছেন। এ ভাষণে তিনি কীভাবে দেশ চালাতে চান তার অল্পবিস্তর আভাস আছে। এ পর্যন্ত সর্বকনিষ্ঠ ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিজের নেতৃত্বের ধরন সম্পর্কে দুটি ভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি ফ্রান্সের রাজনীতিতে তারুণ্যদীপ্ত ‘বিপ্লব’ ঘটাতে চান। পাশাপাশি চান দেশকে এক সুতোয় গাঁথার ক্ষমতা আছে এমন এক শক্তিশালী নেতৃত্বের ঐতিহ্যে ফিরে যেতে।
৩৯ বছর বয়সী মধ্য ডানপন্থী ম্যাখোঁর বিশ্বাস, ফরাসি বিপ্লবের পর থেকে আজ পর্যন্ত ফ্রান্স একজন সত্যিকারের নেতার অভাবের মাশুল দিয়ে চলেছে।
নির্বাচনে জয়ের পর ম্যাখোঁ প্রথম জনসমক্ষে হাজির হন প্যারিসের বিখ্যাত ল্যুভ জাদুঘরের নেপোলিয়ন চত্বরে। সেখানে ইউরোপীয় জাতীয় সংগীত বেটোফেনের ‘ওউড টু জয়’ বাজানো হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি খুব সতর্কতার সঙ্গে সাজানো ছিল অনেকটা প্রয়াত সমাজতন্ত্রী প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া মিতেরাঁর ধাঁচে, যিনি নিজেকে একধরনের রিপাবলিকান ও নির্বাচিত সম্রাটের আদলে তুলে ধরতেন। প্রত্যেক ফরাসি প্রেসিডেন্টই পূর্বসূরিদের তুলনায় ব্যতিক্রমী হওয়ার চেষ্টা করেন। ম্যাখোঁর একসময়ের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ওলাঁদ নিজের ‘সাধারণ ঘাম ঝরানো মানুষের’ রূপটি তুলে ধরতেন। খানসামার অপেক্ষায় না থেকে তিনি এলিজে প্রাসাদের দরজা খোলার কাজটা পর্যন্ত নিজে সারতেন। সেই তুলনায় ম্যাখোঁ একটু দূরত্ব রেখে চলতে পছন্দ করেন।
কিন্তু প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর ম্যাখোঁ মধুচন্দ্রিমার সুযোগ পাবেন বলে মনে হয় না। তিনি এমন সময় শাসনভার নিচ্ছেন, যখন ফ্রান্স দশকের পর দশক ধরে বিপুল বেকারত্বের ভারে ন্যুব্জ, স্থবির অর্থনীতি নিয়ে অধৈর্য এবং নিয়মিত সন্ত্রাসী হামলার হুমকিতে তটস্থ।
এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ফ্রান্সে ধনী ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে ব্যবধানের বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিকাশমান শহরগুলোর সঙ্গে দূরবর্তী প্রান্তিক এলাকা ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে এই ফারাক প্রকট। লাখো মানুষ কট্টর ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মারিন লো পেনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তাঁদের অনেকে ম্যাখোঁর ব্যবসাবান্ধব আর্থিক প্রকল্প নিয়ে সন্দিহান। তাঁরা বিশ্বায়নের প্রভাবে জীবিকার সংকটে পড়ার আশঙ্কা করেন। এ ক্ষেত্রে নতুন প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁকে নিজস্ব বলয়ের বাইরে পৌঁছানোর সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে। প্রথম পদক্ষেপগুলোর একটি হিসেবে ম্যাখোঁ ফ্রান্সের কঠোর শ্রম আইন বদলানোর বন্দোবস্ত করবেন। প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিনগুলো কীভাবে কাটবে, সে বিষয়ে ম্যাখোঁ অবশ্য অন্যদের চেয়ে ভালোই জানেন। কারণ, তিনি বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ওলাঁদের ডেপুটি চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করেছেন।
ম্যাখোঁর একটি বড় প্রতিশ্রুতি হলো, তিনি সরকারের ‘দক্ষতা’ বাড়াবেন। দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি রুখতে রাজনীতিকদের জন্য তিনি নতুন নৈতিকতার বিধিমালা প্রণয়ন করতে চান। আগামী জুনে পার্লামেন্ট নির্বাচনে ম্যাখোঁর রাজনৈতিক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা জরুরি। নইলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর হাত-পা বাঁধা থাকবে। কাজেই আগামী ছয় সপ্তাহ পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রচার কার্যক্রমকে তিনি খুব গুরুত্ব দেবেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে তাঁকে নতুন জোট গড়ার জন্য দর-কষাকষি করতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top