Sunday, November 19, 2017
সংবাদ শিরোনাম
You are here: Home / অর্থনীতি / ‘নতুন ভ্যাট ব্যবস্থায় যেতে প্রস্তুত নই আমরা’

‘নতুন ভ্যাট ব্যবস্থায় যেতে প্রস্তুত নই আমরা’

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে আজ বৃহস্পতিবার ‘জাতীয় বাজেট ২০১৭-১৮’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা। গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে প্রথম আলো ও দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)। ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন

 

আমরা এখনো নতুন ভ্যাট ব্যবস্থায় যেতে প্রস্তুত নই। এ কথা স্বীকার করে নিয়ে ভ্যাট আইন কার্যকরে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রথম আলো কার্যালয়ে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রস্তুতি না থাকলেও একসঙ্গে কাজ করে এগিয়ে গেলে বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) ও প্রথম আলোর যৌথ উদ্যোগে প্রথম আলোর কার্যালয়ে বাজেট ২০১৭-১৮ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠক আয়োজিত হয়। প্রস্তাবিত বাজেটের ইতিবাচক ও নেতিবাচক বিভিন্ন দিক উঠে আসে বক্তাদের আলোচনায়। আইসিএবির কাউন্সিল মেম্বার মো. হুমায়ুন কবিরসহ অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম।

বৈঠকে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সামগ্রিকভাবে বাজেটের আকার নয়, বাস্তবায়নই চিন্তার বিষয়। আমরা নিম্নমধ্য আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে যেতে চাইছি। সেদিক থেকে এটা খুব বড় বাজেট নয়। বাজেটের আকার বড় হলে করের আওতা ও আকার বড় হয়। কিন্তু কোথা থেকে আয় আসবে তা স্পষ্ট নয়। বাজেট বাস্তবায়নে যা অনুমান করে নেওয়া হয়েছে, তা বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় বলেই জানান মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরেও ৭ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়। সেই প্রবৃদ্ধি দেখতে চাইলে এই জুন মাসে রপ্তানিতে ৪০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে হবে। অথচ গত ১১ মাসে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির হার ৪ শতাংশের কম। একই অবস্থা চলছে প্রবাসী আয়ের বেলাতেও। তিনি আরও বলেন, বাজেটে সম্পূরক শুল্ক সব বাদ দেওয়ার কথা থাকলেও ১ হাজার ২০০ ক্ষেত্রে তা আরও বাড়ানো হয়েছে। এতে ভোক্তার ওপর চাপ বাড়বে। সম্পূরক শুল্ক দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় নয় বরং কর আদায়ের জন্য আরোপ করা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। জনসংখ্যা সুবিধার দেশে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানো হতাশাজনক বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) পরিচালক মো. আবু নাসের বলেন, ভ্যাট আইনের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন হারের দাবি ছিল আমাদের, অথচ বাজেটে তা প্রতিফলিত হয়নি। তাঁর প্রশ্ন, ভ্যাট আইন কার্যকরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কোনো ধারণা নেই, তাহলে এই বিপুল পরিমাণ ভ্যাট আদায় কীভাবে সম্ভব?

ভ্যাট অনলাইন অত্যন্ত বাজে সফটওয়্যার দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, এই সফটওয়্যারটি অত্যন্ত দুর্বোধ্য, সাধারণ মানুষ ব্যবহার করতে পারে না। বাংলা হরফের ব্যবস্থা নেই। আমরা সব মানুষের ভ্যাট রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করছি অথচ আমাদের সফটওয়্যারই ঠিক নেই। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ডিজিটালাইজড না করে কেবল ভ্যাট অনলাইনকে ডিজিটালাইজ করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান নির্ধারণের বিষয়টি তুলে ধরেন তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর মোহাম্মদ নাসির। তিনি বলেন, প্রতিবেশী সব দেশে ডলারের সঙ্গে মুদ্রার অবমূল্যায়ন হয়েছে। অথচ টাকার অতিমূল্যায়ন হয়েছে। ‘ডুয়াল কারেন্সি রেট’ বা অন্য কোনোভাবে ডলারের বিপরীতে টাকার হার নির্ণয় প্রয়োজন ছিল। তিনি তৈরি পোশাক খাতে প্রণোদনার প্রয়োজনের কথাও বলেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী ও আইসিএবির কাউন্সিল মেম্বার ও সাবেক সভাপতি পারভীন মাহমুদ। রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, পুরো শিক্ষাব্যবস্থার জন্য পূর্ণাঙ্গ বাজেটের প্রয়োজন ছিল। অথচ শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে।

ব্যাংক খাতের সংস্কারের জন্য উদ্যোগ প্রয়োজন জানিয়ে আইসিএবির সাবেক সভাপতি কামরুল আবেদিন বলেন, কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে বাজেটে। অথচ কালোটাকা সাধারণ মানুষের কাছে থাকে না। তাই এই আইন যত দিন থাকবে, তত দিন দুর্নীতি, ঘুষ—এসব দূর হবে না। করমুক্ত আয়ে মূল্যস্ফীতির সংযোজন প্রয়োজন ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে অবকাঠামো খাতকে গুরুত্ব দিয়ে এই আকারের বাজেট পেশ করায় সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানান আইসিএবির সভাপতি আদিব হোসেন খান। বাজেটের কয়েকটি নেতিবাচক দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, বাজেটে ব্যবসা ও ব্যক্তি করে উচ্চ হারের পরিবর্তন আসেনি, সঞ্চয়পত্রের লাভের হার মূল্যস্ফীতির নিচে। দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসের দাম বাড়ার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন এটা খুবই দুঃখজনক।

বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ সিদ্দীকী, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সহসভাপতি কামরুল ইসলাম, আইসিএবির কাউন্সিল মেম্বার মো. শাহাদাত হোসেন, এ এফ নেসারউদ্দিন ও মুহাম্মদ ফরহাদ হোসেন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top