Sunday, November 19, 2017
সংবাদ শিরোনাম
You are here: Home / জাতীয় / দৌলতপুরের মহিষকুণ্ডির কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী বাবুকে আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে এস আই খসরু ও কনস্টেবল জামিরুল

দৌলতপুরের মহিষকুণ্ডির কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী বাবুকে আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে এস আই খসরু ও কনস্টেবল জামিরুল

স্টাফ রিপোর্টারঃ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মহিষকুণ্ডি ঘুণাপাড়ার কুখ্যাত মাদক ও অস্ত্রধারী বাবু(৩০) মিয়া কে গত বৃহষ্পতিবার আনুমানিক বিকেল ৪ টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার মহিষকুণ্ডি বাজার থেকে প্রকাশ্যে আটকের পরে তাকে ছেড়ে দিয়েছে দৌলতপুর থানার এস আই খসরু ও কনস্টেবল জামিরুল। প্রত্যক্ষ দোষী ও স্থানীয় সূত্রে জনাযায়, প্রত্যক্ষ দোষী মহিষকুণ্ডি বাজারের নুরুল ইসলামের ছেলে আইনাল জানান, গত বৃহষ্পতিবার বিকেল ৪ টায় মহিষকুণ্ডি ট বাজার থেকে বাবু মিয়াকে এস আই খসরু ও কনস্টেবল জামিরুল আটক করে পুলিশের গাড়ীতে তোলে। পরে এক নেতার মাধ্যমে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লেনদেনের বিনিময়ে হয়তো বাবুকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে। স্থানীয় দোকানদারেরা সবাই এই ঘটনা দেখেছে। মহিষকুণ্ডি ঘুণাপাড়ার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী একাধিক মামলার আসামী বাবু মিয়াকে মহিষকুণ্ডি কাচা বাজারে বাজার করার সময় দৌলতপুর থানার এস আই খসরু সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে আটক করে। এসময় বাজারে অসংখ্য মানুষ তা প্রত্যাক্ষ করে। পরে গোপনে যোগসাজশে এস আই খসরু বাবুকে পুলিশের গাড়ীতে তুললেও থানায় না নিয়ে তাকে ছেড়ে দেই। এব্যাপারে ভেরামারা দৌলতপুর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নই। দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ দারা খানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, একজন আমাকে ফোন করেছিল এই ব্যাপারে বিষয়টি সঠিক নই। কুখ্যাত এই মাদক ব্যবসায়ী বাবু মিয়ার নামে রয়েছে ৩ টি মাদক মামলা। গত ৪ই জুলাই মহিষকুণ্ডি ঘুণা পাড়ার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী বাবুর বাড়ির পাশে মাঠে রাত সাড়ে ১০ টার সময় অভিযান চালান বিল গাথুয়া ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা। অভিযানে উদ্ধার হয় ৫৮ বোতল ফেন্সিডিল। এই ঘটনায় বিজিবি’র নায়েক সুবেদার আবুল হাসান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের করেন। এই মামলার আইও রয়েছেন এস আই গৌতম। এস আই গৌতমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বাবুর বিরুদ্ধে থানায় যে মামলা রয়েছে সে মামলার তদন্তকারী তিনি। তিনি আরো জানান, এই মামলার আসামী থানার যে কেউ ধরতে পারে। অভিযুক্ত এস আই খসরুর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি মাদক ব্যবসায়ী বাবুকে গ্রেফতার করি, বলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে স্থানীয় এক আ.লীগের নেতার গোডাউনে যেয়ে তাকে ছেড়ে দেই। আমি ওয়ারেন্ট ভূক্ত আসামী ভেবে বাবুকে ধরেছিলাম পরে থানায় খোজ নিয়ে যানতে পারি তার নামে ওয়ারেন্ট না থাকায় তাকে ছেড়ে দেই। পরে রাতে জানতে পারি তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা আছে তাই রাতে আবার বাবুকে গ্রেফতার করতে অভিযান চালায় কিন্তু তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি। ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বাবুকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে এস আই খসরুর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, কোন টাকা পয়সা লেনদেন হয়নি। বাবুর বিরুদ্ধে মাদক মামলার বাদী বিল গাথুয়া বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার আবুল হাসানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমাদের কোন কথা বলতে হলে উর্দ্ধতন কর্মকর্তার অনুমতি লাগে। আমি সোর্সের মাধ্যমে জানতে পারি আমার মামলার আসামী বাবু মিয়াকে মহিষকুণ্ডি থেকে দৌলতপুর থানার এস আই খসরু গ্রেফতার করেছে। তাৎক্ষণিক দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে মোবাইলের মাধ্যমে জানায় বাবুকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে তাকে যেন না ছাড়া হয় তবুও এস আই খসরু বাবুকে ছেড়ে দিয়েছে। বাবু সুধু মাদক ব্যবসায় নই তার কাছে সবসময় অবৈধ অস্ত্র থাকে। সে ওই এলাকার মাদকের বড় ব্যবসায়ী। আমরা অভিযান চালাতে গেলে আমাদেরকে অশ্লীল ভাষায় গালি গালাজ করেছে। এই মামলায় ২ জনকে আসামী করা হয়। একজন মহিষকুণ্ডির ছানারুল ও আর একজন বাবু মিয়া। মামলার পরের দিনই দৌলতপুর থানার পুলিশ ছানারুলকে গ্রেফতার করে। কিন্তু বাবু গ্রেফতার হয়নি এখনো। উল্লেখ্য মাদক ব্যবসায়ী বাবুর বিরুদ্ধে ঘুণা পাড়ার মতলেবের চায়ের দোকানে মারামারি হলে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে এই একাধিক মামলার আসামী প্রতিপক্ষকে লক্ষ করে পরপর ২ রাউণ্ড গুলি ছোড়ার অভিযোগ রয়েছে। বাবু মহিষকুণ্ডি এলাকার মূর্তিমান আতঙ্ক। তার বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাইনা। প্রকাশ্যে বাবুকে দৌলতপুর থানার এস আই খসরু ছেড়ে দেওয়ায় সাধরণ জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের নিকট দাবী জানিয়েছেন সুস্থ তদন্ত পুর্বক এই কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীর শাস্তির জন্য ব্যাবস্থা গ্রহণ করবেন।

 

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top