Sunday, November 19, 2017
সংবাদ শিরোনাম
You are here: Home / আজকের পত্রিকা / কুষ্টিয়া হাউজিং থেকে এক স্কুল শিক্ষিকার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
পরিবারের দাবী পরিকল্পিত হত্যা

কুষ্টিয়া হাউজিং থেকে এক স্কুল শিক্ষিকার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
পরিবারের দাবী পরিকল্পিত হত্যা

ছবিঃ নিহত স্কুল শিক্ষিকা জলি

স্টাফ রিপোর্টারঃ কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং থেকে গত শুক্রবার রাতে রেবেকা সুলতানা জলি(৩৪) নামের এক শিক্ষিকার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। নিহত রেবেকা সুলতানা জলির পরিবারের পক্ষ থেকে তার ভাই আবু সালেহ আল মামুন দাবী করেন, নিহত জলির স্বামী কুষ্টিয়া অফসোনিন কোম্পানির এমপিও নাসির উদ্দিন তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখে। জানাযায়, কুষ্টিয়া জেলায় খোকসা উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের হাজী আলতাফ হোসেন মোল্লার মেয়ে রেবেকা খাতুন জলিকে ভালোবেসে ১১ বছর আগে শিমুলিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল গণি মণ্ডলের ছেলে নাসির উদ্দিন বিয়ে করে। তাদের ঘরে রয়েছে ৩ বছরের পুত্র সন্তান নাম ছুটি মণ্ডল।

ছবিঃ স্বামী নাসির ও নিহত জলি

নিহত জলি শিমুলিয়া পূর্বাসা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসাবে চাকুরী করে আসছিলেন। কুষ্টিয়া হাউজিং ডি ব্লকের ৩৬৬ নং বাসার নিচ তলায় ভাড়া থাকতেন। গত শুক্রবার ৪ই আগষ্ট জলি ও নাসির উদ্দিনের ১১ তম বিবাহ বার্ষিকির দিন ছিলো। তিনি আর জানান, শুক্রবার রাত ১১.৫০ মিনিটে মোবাইল ফোনে নিহত জলির স্বামী নাসির জানায় জলি পাশের রুমে গলাই ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমি খোকসা থেকে কুষ্টিয়া হাউজিং নাসিরের ভাড়াকৃত বাসায় রাত ১২.২৫ মিনিটে এসে দেখি ঘরের ভেতরে পার্টিশন রুমে দরজা ফুটো করে ভাঙ্গা ও জলির ঝুলন্ত লাশ ঝুলছে। সে সময় দক্ষিণ পাশের জানালা খোলা ছিলো। তিনি আরো দাবী করেন, নাসিরসহ আরো ৩-৪জন মিলে জলিকে হত্যা করে গলাই ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখে। কারণ দরজা না ভেঙ্গে দরজার কাঠ ফুটো করে ছিটকানি খুললো কিভাবে!

ছবিঃ স্বামী নাসির ও নিহত জলি

পরে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ আমার বড় ভাই শামিম রেজা আবুর সহযোগিতায় ঝুলন্ত লাশ নামানো হয়। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে দাফন করা হয়। নিহত জলির ছেলে ছুটি আমাকে জানায়, আমার বাবা ওইদিন রাতে আমার মাকে বেধে রেখেছিলো। কোথাই বেধে রেখেছিলো প্রশ্ন করলে গলা দেখাই। গত ১৭ই মার্চ ২০১৭ তারিখে আমার বোন জলি আমার মাকে ফোন দিয়ে জানায় আমার অবস্থা ভালোনা তুমি আসো। মা আসলে আমার বোন নিহত জলি জানায়, আমাকে প্রচণ্ড মারধোর করেছে। মাথা দিয়ে ঘরের ওয়ালের সাথে একাধিকবার আঘাত করে। মাঝে মাঝে আমাকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে। আমরা একটি সূত্রে জানতে পারি পরকীয়ার কারণেই নিহত জলিকে তার স্বামী নাসির উদ্দিন এই ভাবে নির্যাতন করতো। গত রমযান মাসের ঈদের রাতে আমার বাড়িতে যেয়ে আমার বোন জলিকে মারতে যায়।

ছবিঃ নিহত জলি স্বামী নাসির ও পুত্র ছুটি

আমরা তাকে ঠেকায়। এই হত্যা কাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে খোকসা উপজেলা শিক্ষক শিক্ষিকাদের মধ্যে চলছে চাপা উত্তেজনা ও ক্ষোভ। এমনকি নিহত জলির দাফনের সময় নাসির দাফন করতে আসতে চাইনি। কয়েকজন লোক তাকে জোর করে ধরে এনে কবরে মাটি দেওয়ায়। এব্যাপারে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ তাপস কুমার সরকারের সাথে কথা বললে তিনি জানান এটি আত্মহত্যার ঘটনা। গলাই ফাস দিয়ে জলি আত্মহত্যা করেছে। অভিযুক্ত নিহত জলির স্বামী নাসির উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, জলি আত্মহত্যা করেছে তাকে হত্যা করা হয়নি যেহেতু লাশ ময়না তদন্ত করা হয়েছে। নিহত জলির পরিবারের দাবী, সুস্থ তদন্তের মাধ্যমে নাইর উদ্দিনের শাস্তি হোক।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top