Sunday, November 19, 2017
সংবাদ শিরোনাম
You are here: Home / আজকের পত্রিকা / কুষ্টিয়া থেকে অপহরণের ৯ দিন পর স্কুল ছাত্রী উদ্ধার
মহিলা কমিশনারসহ আটক ২

কুষ্টিয়া থেকে অপহরণের ৯ দিন পর স্কুল ছাত্রী উদ্ধার
মহিলা কমিশনারসহ আটক ২

স্টাফ রিপোর্টারঃ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইবি থানার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের মাজপাড়া গ্রামের নবম শ্রেণীর ছাত্রী ছদ্দনাম রীনা(১৬) অপহরণের ৯ দিন পর উদ্ধার করেছে ইবি থানা পুলিশ গতকাল। অপহরণের ঘটনার সাথে জড়িত ইবি থানার মনোহারদিয়া ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের কমিশনার ইসমত আরা নদী(২৮) ও ইউপি সেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক সুমন আটক হয়েছে। থানায় মামলার ৮ ঘণ্টার মধ্যে ঝাউদিয়ার নবম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হয়েছে। জানাযায়, গত সোমবার দুপুরে ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ রতন শেখ ও ওসি(তদন্ত) জহুরুল আলম, এস আই রেজাউল করিম সঙ্গীয় ফোর্স কনস্টেবল কানিজ ও রুপালী অভিযান চালিয়ে বিত্তিপাড়া এলাকা থেকে ইসমতারা নদী ও সুমনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। আটককৃত দুইজনের স্বীকারক্তি মোতাবেক গতকাল সন্ধ্যায় ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ রতন শেখের নেতৃত্বে এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে কুষ্টিয়া শহর থেকে অপহিতা ছদ্দনাম রীনা খাতুন(১৬) কে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় উদ্ধার করে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই অপহিত ছাত্রীর জিজ্ঞাসাবাদ চলছিল। ইবি থানায় স্কুল ছাত্রীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন ও পাচার মামলা হয়েছে। মামলা নং ৬, তারিখ ৭/৮/২০১৭। আটককৃত সুমনের বাড়ী ইবি থানার রাধানগর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম ওরফে বাবু খা’র ছেলে ও আটককৃত মহিলা মেম্বার ইসমত আরা নদী স্বামী সামসুজ্জামান সুমন রাধানগর ইবি কুষ্টিয়া। গতকাল তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। এই মামলার বাকী চার আসামী ঝাউদিয়া গ্রামের তৈয়ব আলী মণ্ডলের ছেলে হারুন(২৫) ও গফুর মণ্ডলের ছেলে রফিকুল(২৪) সর্বসাং-ঝাউদিয়া ইবি কুষ্টিয়া। ওপর আসামী হরিনাকুণ্ডি উপজেলার তেলটুপি গ্রামের মৃত আবুল মোল্লার ছেলে বাবুল(২৫) ও হরিণাকুণ্ডু পৌরসভার সাবেক মহিলা কমিশনার রহিমা খাতুন(৩৫)। মনোহারদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বলেন, আমার ইউনিয়নের ১, ২, ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের কমিশনার ইসমত আরা নদী। সে একটি মেয়েলি ঘটনায় পুলিশের কাছে আটক হয়েছে বলে স্বীকার করেন। উল্লেখ্য, ওই স্কুল ছাত্রীর মা বাদী হয়ে ইবি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। জানাযায়, ঝাউদিয়ার তৈয়ব আলীর ছেলে হারুন ও একই এলাকার গফুর মণ্ডলের ছেলে রফিকুল এবং ঝাউদিয়া এলাকার তেলটুপি গ্রামের বাবুল জড়িত। হারুন ওই স্কুল ছাত্রীকে ফেরত দেবে বলে স্কুল ছাত্রীর পরিবারের কাছে থেকে ১০ হাজার টাকাও নিয়েছে। তবুও স্কুল ছাত্রীকে ফিরিয়ে দেইনি। ইবি থানার অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, আমি মোছাঃ আরবী(৪০) স্বামী আব্দুল জলিল, সাং মাজপাড়া থানা ইবি জেলা কুষ্টিয়া, থানায় হাজির হইয়া আসামী হারুন(২৫) পিতা তৈয়ব আলী, রফিকুল পিতা গফুর মণ্ডল উভয় সাং ঝাউদিয়া, ইসমত আরা(নদী) স্বামী সামসুজ্জামান সুমন সাং কন্দপর্দিয়া থানা ইবি জেলা কুষ্টিয়া, বাবুল পিতা আবুল মোল্লা সাং তেলটুপি থানা হরিনাকুণ্ডু ঝিনাইদাহ সহ অজ্ঞাত ১-২ জনের বিরুদ্ধে এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করিতেছি যে, ছদ্দনাম রীনা খাতুন(১৬) তেলটুপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। আমার মেয়ে স্কুলে যাওয়া আশার পথে প্রায় আসামী হারুন প্রেম ভালোবাসা সহ বিভিন্ন প্রকার কু-প্রস্তাব দিয়ে আসিতেছিল। আমার মেয়ে লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি কারোর নিকট প্রকাশ করে নাই। গত ৩০/০৭/২০১৭ তারিখে সকাল ৯টায় নিজ বাড়ী থেকে তেলটুপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা করিয়া ঝাউদিয়া শাহী মসজিদের সামনে পাকা রাস্তার ওপর পৌছালে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা আসামী হারুন রফিকুল ও বাবুলসহ অজ্ঞাতনামা ১-২ জন অতর্কিত আমার মেয়ের সামনে এসে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক নাবালিকা মেয়েকে মাইক্রোবাসে তুলে আলমডাঙ্গা মুখে চলে যায়।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top