Saturday , November 28 2020
You are here: Home / Uncategorized / প্রাতঃস্মরণীয় বিদ্যাসাগর : ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল
প্রাতঃস্মরণীয় বিদ্যাসাগর :  ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল

প্রাতঃস্মরণীয় বিদ্যাসাগর : ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল

সরস্বতী নদীর তীরে একটি যুগের সূর্য অস্ত গেল। তার নাম মধ্যযুগ। ভাগীরথীর পূর্বে নতুন যুগের মেঘাচ্ছন্ন সূর্যোদয় হলো কলকাতা শহরে। যেমন একটা যুগ অস্ত যায়, আর এক যুগের উদয় হয় ইতিহাসে। উদীয়মান যুগে অস্তমিত যুগের উচ্ছিষ্ট ও ঐতিহ্য মুছে যায় না। বিগতকালের গর্ভেই আজো আগামীকালের জন্ম হয়, বাংলাদেশে আধুনিক কাল বা নবযুগেরও বিকাশ হলো সেইভাবে। নবযুগের মেঘাবৃত সূর্যোদয়কে যিনি অভিনন্দন জানালেন, তিনি হলেন ঊনবিংশ শতকের একজন বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক ও গদ্যকার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-১৮৯১)। তিনি বাংলা ভাষা সাহিত্যের বিবর্তনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছেন। পাণ্ডিত্যের গভীরতায়, মানসিকতার উদারতায়, সমাজসংস্কারের তৎপরতায় তাঁর যে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে তা এদেশের সমাজ-সংস্কৃতির ইতিহাসে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে গ্রাহ্য। যে কর্মবহুল সফল জীবন তিনি অতিবাহিত করেছিলেন তা ধর্ম ও সমাজসংস্কারে যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি সাহিত্যের ক্ষেত্রেও বিশিষ্টতার অধিকারী।

‘বিশ্বকর্মা যেখানে চারকোটি বাঙালি নির্মাণ করিতেছিলেন সেখানে হঠাৎ দুই-একজন মানুষ গড়িয়া বসেন কেন।’Ñ বিদ্যাসাগর-চরিত আলোচনা প্রসঙ্গে রবীন্দ্র-মানসের এই বিস্মিত জিজ্ঞাসার প্রসঙ্গ প্রায় সকলেরই জানা। ‘বিধাতার নিয়মের আশ্চর্য ব্যতিক্রম’ মনুষ্য মহিমায় ভাস্বর, অনন্যতর চারিত্র শক্তিতে সুদৃঢ়, বাংলার ইতিহাসের এই বিরলতম পুরুষের জীবন ও কর্মের বিচিত্র প্রসঙ্গ আলোচনার পরিণামে পৌঁছে সেই পূর্বকথায় পুনরায় মনে পড়েছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৬১-১৯৪১)। যেন ‘তার অন্ত নাই গো নাই’ এই বোধে পুনর্বার লিখেছিলেন বিশ্বকবি ‘আমাদের এই অবমানিত দেশে ঈশ্বরচন্দ্রের মতো এমন অখণ্ড পৌরুষের আদর্শ কেমন করিয়া জন্মগ্রহণ করিল। আমরা বলতে পারি না। কাকের বাসায় কোকিল ডিম পাড়িয়া যায় মানব-ইতিহাসের বিধাতা সেইরূপ গোপনে কৌশলে বঙ্গভূমির প্রতি বিদ্যাসাগরকে মানুষ করিবার ভার দিয়াছিলেন।’
যে সুমধুর ও সুললিত ভাষা আজ বঙ্গবাসীদের কর্ণকুহুরে অমৃত সিঞ্চন করছে, যে ভাষার প্রাণশক্তি বহু বিস্তৃত দেখে বাঙালি মাত্রই আজ আনন্দিত, যার শ্রী সম্পাদনে অতুলপ্রতিভা সম্পন্ন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) লেখনী ধারণ করেছিলেন সেই মাতৃভাষার গঠন কার্য, তার পারিপাট্য সাধনে তার অবশদেহে প্রাণ সঞ্চারের জন্য আমরা কার নিকট ঋণী? বহু চিন্তা ও পরিশ্রম করে কোন মহাত্মা তাকে লালন পালন করেছেন? সমগ্র বাঙালি জাতি বলবেন মহাত্মা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।বিদ্যাসাগর যথার্থভাবে ছিলেন একজন মানবতাবাদী দার্শনিক পুরুষ। তিনি মানবতাবাদী পণ্ডিত ছিলেন বলেই তাঁর পাণ্ডিত্য তাঁর সুবিশাল ব্যক্তিত্বের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯২০-২০০৩) বলেছেন, ‘তাঁর মধ্যে পুরাতন বাঙালিয়ানা ও নবীন য়ুরোপিয়ানার যে বিস্ময়কর সমন্বয় হয়েছিল তার কথা দেশবাসীরা শ্রদ্ধার সঙ্গেই স্মরণে রেখেছেন। ধর্মীয় আচার-বিচারে তাঁর বড়ো একটা আসক্তি ছিল না, সকলের উপরে তিনি মানতেন মানবধর্ম। মানবতাই তাঁর জীবনের নিশ্বাস-প্রশ্বাস। এদিক থেকে এই সংস্কৃতজ্ঞ ব্রাহ্মণ অগুয়েস্ত কোঁৎ, মিল, বেন্থাম ও জেরিমি টেলরের ভাবশিষ্য। ঠাকুরদেবতা সম্বন্ধে উদাসীন হয়েও তিনি বাস্তব মানুষকেই দেবতা বলেই মনে করতেন। বাঙালী জাতিকে তিনি মানবপ্রেমে দীক্ষা দিয়ে গেছেন। প্রেমের সঙ্গে বীর্য, আবেগের সঙ্গে পৌরুষ, জ্ঞানের সঙ্গে কর্মের আশ্চর্য মিলন তাঁর মধ্যে সার্থক হয়েছে।’ প্রকৃতপক্ষে মানবতাবাদী বিদ্যাসাগর ছিলেন একজন খাঁটি সমাজসংস্কারকের উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। তিনি নানাবিধ মানব কল্যাণকর কাজ সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। এক্ষেত্রে কোনো ধর্মীয় তাগিদ নয় বরং একান্ত মানবীয় প্রেরণায় তাঁর দৃষ্টি এদেশের নবীন সমাজের চরম দুর্গতির দিকে পড়েছিল। তৎকালীন সময়ে সমাজে বাল্যবিবাহজনিত অকাল বৈধব্যের অভিশাপ সমাজে যে ব্যাভিচারের স্রোত বয়ে এনেছিল; সমাজের এই চরম দুঃসময়ে বিদ্যাসাগর বেশকিছু সমাজসংস্কারমূলক কল্যাণকর বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন। ১৮৫০ সালের আগস্ট মাসে মদনমোহন তর্কালঙ্কার (১৮১৭-১৮৫৮) ‘সব শুভকরী’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন। এর প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত হয় ‘বাল্যবিবাহের দোষ’ নামক একটি প্রবন্ধ। সেখানে তিনি লিখেছিলেন- ‘অস্মদ্দেশীয় বালদম্পতিরা পরস্পরের আশয় জানিতে পারিল না… সেই বিধিই বিধিনিয়োগবৎ সুখ দুঃখের অনুল্লঙ্ঘনীয় সীমা হইয়া রহিল।’ ‘বাল্যবিবাহের দোষ’ নামের এই অনতিদীর্ঘ প্রবন্ধ রচনা করে তিনি অতি সরল ভাষায় এবং অকাঠ্য যুক্তি প্রয়োগ করে, যেভাবে বাল্যবিবাহের দোষ উদ্ঘাটন করে,বয়স্ক বিবাহের সমর্থনে সমাজকে সচেতন করতে চেয়েছেন, তাতেই তাঁর সংস্কারবাদী-মানবতাবাদী মননের পরিচয় স্পষ্ট হয়। জীবন ও সমাজের নানাদিক নিয়ে এই দুঃসাহসিক প্রশ্নোত্তর ও তর্ক-বিতর্কের যুগে, বিদ্যাসাগর তাঁর প্রথম যৌবনের কর্মোম্মুখ অস্থির মনটিকে এক-একটি লক্ষ্যের শিখরে স্থিরভাবে নিবদ্ধ করবার সুযোগ পেয়েছিলেন। শিক্ষা ও সমাজসংস্কার আন্দোলনের প্রেরণা তিনি বাইরের সমাজজীবনের নতুন তরঙ্গের ঘাত-প্রতিঘাত থেকে পেয়েছিলেন। কোনোটাই তিনি নিজে উদ্ভাবন করেননি। তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি ও কল্যাণবুদ্ধির সঙ্গে বাইরের সমাজচেতনার যে ঐতিহাসিক মিলন হয়েছিল, তার ফলেই তিনি নবযুগের অন্যতম সারথি হতে পেরেছিলেন। ধর্ম কখনো বড় হয়ে আসেনি বিদ্যাসাগরের জীবনে, যদিও ধর্ম ও ধর্মান্তরের সমস্যা তখন বড় হয়ে উঠলেও, সকলের মনপ্রাণ ধর্মের রাজ্যেই বন্দী ছিল না। ইয়ং বেঙ্গল (১৮২৮) ও তত্ত্ববোধিনী (১৮৪৩) সভার যুবকরা, জীবনের নবমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে, কেবল ধর্মসংস্কারের কাজে নিজেদের হারিয়ে ফেলেননি। সমাজের আরো নির্মম সত্যগুলোকে তাঁরা প্রত্যক্ষ সংগ্রামের ক্ষেত্রে টেনে এনেছিলেন। যাঁরা এই কাজে ব্রতী হয়েছিলেন, নবীন বাংলার সেই যুবসমাজের মধ্যে বিদ্যাসাগর ছিলেন অন্যতম। পরে একসময় বিদ্যাসাগরই তার শীর্ষস্থান দখল করেছিলেন, অন্তত ঊনিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে।

সমাজসংস্কারক বিদ্যাসাগর বিধবাদের বিশেষত বাল্যবিধবাদের দুঃখ-কষ্ট-গঞ্জনা-বঞ্চনা সহ্য করতে না পেরে বিধবাদের পক্ষে আন্দোলন শুরু করেন। পিছিয়ে থাকা সমাজকে সচেতন করার জন্য তিনি রচনা করেন ‘বিধবাবিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব।’ এই রচনা ও মতপ্রকাশ নিয়ে সেই সময়ের সমাজে শিক্ষিত-অশিক্ষিত সকলের সঙ্গেই লিপিযুদ্ধে-তর্কযুদ্ধে তাঁকে নামতে হয়েছিল। এই সময়ের এই বিধবাবিবাহ আন্দোলনে যুক্ত হতে গিয়ে বিদ্যাসাগরকে অনেক ঋণগ্রস্ত হতে হয়েছে, অনেক ধূর্ত ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করে তাঁকে নিঃশেষ করে ছেড়েছে। বাধ্য হয়ে তখন তিনি ইংরেজ সাহেবদের কাছে প্রেসিডেন্সী কলেজের সংস্কৃত অধ্যাপকের পদপ্রার্থী হতে হয়েছিল। কিন্তু বিদ্যাসাগর মনে করতেন মানবীয় প্রেরণাতে ‘বিধবাবিবাহের প্রবর্তন সর্ব্ব প্রধান সৎকর্ম।’ তখন বিধবাবিবাহ সংক্রান্ত যাবতীয় ঝুঁকি বিদ্যাসাগর নিজের কাঁধে বহন করেছিলেন এবং তাঁরই আন্দোলন ও ত্যাগের ফলে ১৮৫৬ সালে আদালতে ‘বিধবাবিবাহ বিষয়ক আইন’ পাশ করা হয়। উল্লেখ্য যে, ১৮৭০ সালে কলকাতায় বিদ্যাসাগর-পুত্র নারায়ণচন্দ্রকেবিধবা ভবসুন্দরীর সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন। এ থেকেই প্রমাণিত হয় তিনি কতটা সমর্থনযোগ্য হয়ে পড়েছিলেন বিধবাবিবাহের ক্ষেত্রে। ‘বিধবাবিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা’ পুস্তকের প্রারম্ভে বিদ্যাসাগর লিখেছিলেন, ‘বিধবাবিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা এ বিষয়ের বিচারে প্রবৃত্ত হইলে, সর্ব্বাগ্রে এই বিবেচনা করা অত্যাবশ্যক যে এদেশে বিধবাবিবাহের প্রথা প্রচলিত নাই সুতরাং বিধবার বিবাহ দিতে হইলে এক নূতন প্রথা প্রচলিত করিতে হইবেক। কিন্তু বিধবাবিবাহ যদি কর্ত্তব্য কর্ম্ম না হয়, তাহা হইলে কোন ক্রমেই প্রচলিত হওয়া উচিত নহে। কারণ কোন্ ধর্ম্মপরায়ণ ব্যক্তি অকর্ত্তব্য কর্ম্মের অনুষ্ঠানে প্রবৃত্ত হইবেন। অতএব অগ্রে ইহাকে কর্ত্তব্য কর্ম্ম বলিয়া প্রতিবন্ধ করা অতি আবশ্যক। কিন্তু যদি যুক্তি মাত্র অবলম্বন করিয়া ইহাকে কর্ত্তব্য কর্ম্ম বলিয়া প্রতিপন্ন কর, তাহা হইলে এতদ্দেশীয় লোকেরা কখনই ইহাকে কর্ত্তব্য কর্ম্ম বলিয়া স্বীকার করিবেন না। যদি শাস্ত্রে কর্ত্তব্য কর্ম্ম বলিয়া প্রতিপন্ন করা থাকে, তবেই এতদ্দেশীয় লোকেরা কর্ত্তব্য কর্ম্ম বলিয়া স্বীকার করিতে ও তদানুসারে চলিতে পারেন। এরূপ বিষয়ে এদেশে শাস্ত্রই সর্ব্বপ্রধান প্রমাণ এবং শাস্ত্রসম্মত কর্ম্মই কর্ত্তব্য কর্ম্ম। অতএব বিধবাবিবাহ শাস্ত্রসম্মত অথবা শাস্ত্রবিরুদ্ধ কর্ম্ম এই বিষয়ের মীমাংসা করাই অগ্রে আবশ্যক।’পুস্তকের প্রবন্ধে উল্লেখ রয়েছেÑ ‘স্ত্রী মরিলে অথবা বন্ধ্যা প্রভৃতি স্থির হইলে, পুরুষের পক্ষে যেমন পুনরায় বিবাহ করিবার অনুজ্ঞা আছে, পুরুষ মরিলে অথবা ক্লীব প্রভৃতি স্থির হইলে স্ত্রীর পক্ষেও সেইরূপ পুনরায় বিবাহ করিবার অনুজ্ঞা আছে।’ বাংলাদেশে একসময় উচ্চবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বহুপ্রচলিত কৌলিন্য প্রথা থেকে সমাজে ‘অধিবেদন প্রথা’ অর্থাৎ পুরুষের এক স্ত্রী বর্তমানে একাধিক বিবাহ প্রথার উৎপত্তি হয়েছিল। পুরুষের অধিবেদন থেকে উৎপন্ন কুপ্রথায় বহু স্ত্রী লোককে বৈধব্য যন্ত্রণার চেয়েও কষ্ট পেতে হতো। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এই প্রথা বন্ধ করে দেবার জন্য বহুবিবাহের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন। পুরুষ জাতির পীড়নে ও সামাজিক কুপ্রথার দোষে বহুবিবাহের শিকার স্ত্রী জাতির দুঃখ দুর্দশা দূর করার জন্য তিনি বহুবিবাহ সমর্থনকারীদের শাস্ত্র বাদ দিয়ে যুক্তি খণ্ডন করে ‘বহুবিবাহ রহিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক বিচার’ নামেও পুস্তক রচনা করেন। মানুষের কল্যাণের কথাই ছিল তাঁর কর্মধারা ও চিন্তার মূল বৈশিষ্ট্য। এই প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেছেনÑ ‘এই পথ অবলম্বন করিলে, কোনও কুলীনের অকারণে একাধিক বিবাহের আবশ্যকতা থাকিবেক না; কোনও কুলীনকন্যাকে যাবজ্জীবন বা দীর্ঘকাল অবিবাহিত অবস্থায় থাকিয়া, পিতাকে নরকগামী করিতে হইবেক না; এবং রাজ নিয়ম দ্বারা বহুবিবাহ প্রথা নিবারিত হইলে, কোনও ক্ষতি বা অসুবিধা ঘটিবেক না।’
পণ্ডিতপ্রবর বিদ্যাসাগরের প্রধান পরিচয় সমাজসংস্কারক এবং এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই বাংলা গদ্যের পথিকৃৎরূপে তাঁর উত্তরণ। বাংলা গদ্যের উন্মেষ হয়েছিল বিদেশিদের দ্বারা। তাদের ধর্মীয় প্রচার, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রচার ও প্রসারের সুবিধার্থে যদিও বাংলা গদ্যের ভিত্তি স্থাপনেরজন্যে এই বিদেশি বণিক ও যাজক সম্প্রদায়ের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও অকৃপণ সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করতে হয়। তবুও বাংলা গদ্যের রসের সঞ্চার ও ছন্দময়তার জন্য রাজা রামমোহন রায় (১৭৭২-১৮৩৩)-কে স্মরণ করে বিদ্যাসাগরকে পথিকৃৎ বলা হয়। এতদিনের ধর্মীয় ও বাণিজ্যিক ব্যবহৃত তালকাটা বাংলা গদ্যের তাল ও রসের অভাবকে মোচন করার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত ও সুদৃঢ় প্রতিভা নিয়ে বাংলা গদ্যের আকাশে বিদ্যাসাগর আবির্ভূত হয়েছিলেন। যে অমৃত সুধার অভাবে বাংলা গদ্য এতো নিরস হয়েছিল সেই সঞ্জিবনী সুধার দুকূলপ্লাবী বন্যায় তিনি বাংলা গদ্যের বেলাভূমিকে উদ্বেল করে দিলেন; প্রাণ পেয়ে জেগে উঠলো বাংলা গদ্য। বিদ্যাসাগরই বাংলা সাহিত্যে ভাষার সিংহদ্বার উদ্ঘাটন করেছিলেন। তার পূর্ব থেকে এই তীর্থভূমে পথখননের আহ্বান এসেছিল এবং অনেকে অস্বীকার করে নিয়েছিল। তাদের অসম্পূর্ণ চেষ্টা বিদ্যাসাগরের সাধনায় পূর্ণতা লাভ করে। ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৮১-১৯৫২) যে-কারণে বলেছেন, ‘তিনিই বাংলা গদ্যসাহিত্যে প্রথম কৃতী শিল্পী। বাংলা গদ্যের অবয়ব নির্মাণে তিনি বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেছিলেন। গদ্যে অনুশীলন পর্যায়ে তিনি সুশৃঙ্খলতা, পরিমিতি বোধ ও ধ্বনি প্রবাহে অবিচ্ছিন্নতা সঞ্চার করে বাংলা গদ্যরীতিকে উৎকর্ষের এক উচ্চতর পরিসীমায় উন্নীত করেন।’ বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যকে নতুন সাহিত্যের যোগ্য বাহন রূপে গড়ে তুলেছিলেন। নিরাকার এক মত্ত পাথরের ভাস্কর যেমন বাটালী দিয়ে কেটেকুটে সুন্দর মূর্তিতে রূপায়িত করা যায়। তেমনি বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের ক্ষেত্রে শ্রীছাঁদহীন বাংলা ভাষাকে সংযত ও সুবিন্যস্ত করে শিল্পরূপ দান করেছিলেন। বিদ্যাসাগরের কীর্তি নির্মাণে বাংলা সাহিত্যের বিস্ময় পুরুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেনÑ ‘বাংলা গদ্যের তিনি প্রথম যথার্থ শিল্পী। তৎপূর্বে বাঙ্গলায় গদ্য সাহিত্যের সূচনা হইয়াছিল। কিন্তু তিনিই বাংলা গদ্যে প্রথম কলা নৈপুণ্যের অবতারণা করেন।’ বিদ্যাসাগরের বিশেষ কৃতিত্ব এই যে, তিনি প্রচলিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের (১৮০০) পাঠ্য পুস্তকের বিভাষা, রামমোহন রায়ের পণ্ডিতিভাষা এবং সমসাময়িক সংবাদপত্রের অপভাষা কোনোটিকেই একান্তভাবে অবলম্বন না করে তা হতে যথাযোগ্য গ্রহণ বর্জন করে সাহিত্যযোগ্য, লালিত্যময়, সুডৌল গদ্যরীতি সৃষ্টি করলেন যা সাহিত্যের এবং সংসার কর্মের সব রকম প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম। প্রকৃতপক্ষেই বাংলা গদ্যের জনক বিদ্যাসাগর; তাঁর পূর্ববর্তী বাংলা গদ্য শ্লথ কঙ্কালে মেদ, মাংস, রক্ত, সংযোজন এবং প্রাণ সঞ্চারণ করেন এবং তাকে সাধারণের ব্যবহার্য জীবন্তরূপে দাঁড় করান।
বিষয় অনুসারে ভাষা প্রয়োগে বিদ্যাসাগরের যে অসাধারণ নৈপুণ্য ছিল, তা তাঁর রচনাগুলো পাঠ করলেই বোঝা যায়। এক একটি বিষয় অনুসারে তিনি যেন তাঁর গদ্যরীতি স্থির করেছেন; তাই একটি বিষয়ের কিংবা রচনার ভাষা যেন অন্যটি থেকে স্বতন্ত্র। শিল্পবোধ ছিল তাঁর সহজাত; কিন্তু শিল্পসৃষ্টিতে একান্তভাবে নিমগ্ন হয়ে থাকার অবসর বা অবকাশ তিনি জীবনে পাননি। তবু তাঁর বহুমুখী প্রতিভার একটি রস্মি সাহিত্য জগতে বিকীর্ণ হয়েছে এবং তাঁকে উজ্জ্বল করে তুলেছে। তিনি সেই বিকীর্ণ রশ্মি নিয়ে বাংলা গদ্যে প্রথম কলানৈপুণ্য ও শিল্পবৈশিষ্ট্যের অবতারণা করেছেন। বিদ্যাসাগরের গদ্যভাষার অপর একটি বৈশিষ্ট্য এই যে তাঁর প্রত্যেকটি রচনা অন্যটি থেকে স্বতন্ত্র; কেবল স্বতন্ত্র নয়Ñভিন্নমানের। যেমন ‘সীতার বনবাস’ গম্ভীর রচনা; রচনার উদাহরণে দেখি ‘এই সেই জন্মস্থান-মধ্যবর্তী প্রসবণ গিরি। এই গিরির শিখরদেশে আকাশ পথে সতত সঞ্চারমান জলধর পটকা সংযোগে নিরন্তর নিবিড় নীলিমায় অলংকৃত।’ আবার ‘শকুন্তলা’য় আছে ভাষার প্রাণময় লালিত্য। যেমন- ‘অতি পূর্বকালে, ভারতবর্ষে দুষ্মন্ত নামে সম্রাট ছিলেন। তিনি একদা, বহুতর সৈন্য সামন্ত সমভিব্যাহারে, মৃগয়ায় গিয়াছিলেন।’ তেমনিভাবে ‘বেতাল পঞ্চবিংশতি’র ভাষার সঙ্গে ‘ভ্রান্তিবিলাস’-এর গদ্যরীতির যেন দুস্তর ব্যবধান। এটি তাঁর ভাষাসৃষ্টির, ভাবসৃষ্টির একটি অনবদ্য দিক। বাংলা গদ্যের রীতি নির্মাণে বিদ্যাসাগরের সর্বাধিক কৃতিত্ব বাংলা গদ্যের পদ-ব্যবহারে ধ্বনি সামঞ্জস্য স্থাপন এবং একটি ছন্দোস্রোত প্রবাহের আয়োজন। ভাবানুসারী ছন্দের সমন্বয়ে গদ্য কাঠামোতেও যে ছন্দ স্রোত প্রবাহিত করা যায় তা তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেন। এর প্রমাণ মেলে শ্বাস পর্বানুসারে তাঁর গদ্যে বিরাম চিহ্ন কমা, দাড়ির অজস্র অথচ পরিমিত ব্যবহারে। ভাষায় পদসংস্থান রীতি আবিষ্কার তাঁর আর এক মহৎ কীর্তি; বিদ্যাসাগর সংস্কৃতে পণ্ডিত হয়েও সংস্কৃত ও বাংলা ভাষার প্রাণধর্মের এই মূল পার্থক্যটি বুঝেছিলেন। তাই শব্দচয়নে তিনি সংস্কৃত শব্দ ও সমাসবদ্ধ পদের প্রতি আকৃষ্ট হলেও তাঁর হাতেই বাংলা গদ্য মুক্তি পেয়েছে, সংস্কৃতের দাসত্ব করে চলেনি। বিদ্যাসাগরই প্রথম বাংলা গদ্যে যথার্থভাবে প্রবাদ বা ইডিয়াম ব্যবহার করেছেন। প্রত্যেক ভাষাতেই এমন দু’একজন সুদক্ষ শিল্পী ছিলেন যারা প্রবাদ ব্যবহারে ভাষার সামর্থকে বৃদ্ধি করেছেন। বিদ্যাসাগরের গদ্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ভাষাবিদ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় (১৮৯০-১৯৭৭) বলেছেনÑ ‘বিভিন্ন বাংলা শব্দের পরস্পর সমাবেশে অভিধানগত অর্থ-ব্যতিরেকেও যে আর একটি আকর্ষণীয় রসের সৃষ্টি হইতে পারে, এই অপূর্ব সত্য তিনিই সর্বপ্রথম মনে মনে অনুভব করিয়া, লেখনীর মুখে তাহার সম্ভাবনা ও প্রয়োগ স্বদেশবাসীকে দেখাইতে সমর্থ হইয়াছেন এবং তাহার ফলেই শতাব্দীকালের মধ্যেই বঙ্কিমচন্দ্র এবং অর্ধশতাব্দীর মধ্যেই রবীন্দ্রনাথের আবির্ভাব সম্ভব হইয়াছে।’ রবীন্দ্রনাথও এ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘গদ্যের পদগুলির মধ্যে ধ্বনি সামঞ্জস্য স্থাপন করিয়া তাহার গতির মধ্যে একটি অনতিলক্ষ্য ছন্দস্রোত রক্ষা করিয়া, সৌম এবং সরল শব্দগুলি নির্বাচন করিয়া বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যকে সৌন্দর্য ও পরিপূর্ণতা দান করিয়াছেন।’ গদ্যে বিদ্যাসাগরের অন্যতম আর এক কৃতিত্ব সাহিত্যের ক্ষেত্রে স্টাইল বা বাণীভঙ্গি সৃষ্টি। বাংলা গদ্যের প্রস্তুতি পর্বে এই স্টাইলের পরিচয় সুলভ নয়। কেননা মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের (১৭৬২-১৮১৯) মধ্যে যে ভাষা-শিল্প সচেতনতা দেখা গিয়েছিল, রামমোহন রায় সেই ধারা মোটামুটি রক্ষা করে চলেছিলেন। অন্যদিকে অক্ষয়কুমার দত্তের (১৮২০-১৮৮৬) গদ্যে ঋজুতা ও কিছুটা উদ্দীপনা এলেও এঁরা কেউই স্টাইল সৃষ্টি করতে পারেননি; যেটা পেরেছিলেন বিদ্যাসাগর।তাঁর কীর্তি নিয়ে সমালোচনাও কম ছিল না! বিদ্যাসাগরকে কটাক্ষ করতে গিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র একবার মন্তব্য করেছিলেন, ‘বিদ্যাসাগর পাঠ্যরচয়িতা মাত্র, এবং অনুবাদক। সুতরাং তার রচনা মৌলিক নয়, সবই হয় ইংরেজীর নয় সংস্কৃতের অনুবাদ। অতএব বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ গদ্য লেখকের সম্মান তার প্রাপ্য নয়।’ বিশিষ্ট সাহিত্য সমালোচক সুকুমার সেন (১৯০১-১৯৯২) তাঁর জবাবে বলেছিলেনÑ ‘বঙ্কিমচন্দ্রের অভিযোগ সম্পূর্ণ সত্য নয়।… বিদ্যাসাগরের যশে বঙ্কিমচন্দ্র কিছুটা ঈর্ষালু ছিলেন।’ অবশ্য বঙ্কিমচন্দ্র পরবর্তীতে বিদ্যাসাগর সম্পর্কে ভিন্নমত প্রদর্শন করে লিখেছিলেন, ‘বিশেষত বিদ্যাসাগর মহাশয়ের ভাষা অতি সুমধুর ও মনোহর। তাহার পূর্বে কেহই এইরূপ সুমধুর বাঙ্গালা গদ্য লিখিতে পারে নাই।’ উপন্যাস সম্রাটের শেষোক্ত উদ্ধৃতির মধ্যেই আসলে অধিক সত্য নিহিত রয়েছে।
বিদ্যাসাগরের কীর্তি শুধু মানবতাবোধ, সমাজসংস্কার আর গদ্যের জনক এই পর্বগুলোর মধ্যেই আটকে থাকেনি। শিক্ষাচিন্তা, বিস্তার ও সংস্কারের ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান সমান গুরুত্বপূর্ণ। কলকাতার সংস্কৃত কলেজ ছিল বিদ্যাসাগরের এই শিক্ষাচিন্তার ও শিক্ষাদর্শের বাস্তব পরীক্ষার প্রধান ল্যাবরেটরি। আদর্শ চরিতার্থ করার পথে পদে-পদে অনেক রকমের অন্তরায় দেখা দিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাই তিনি দৃঢ়চিত্তে সংগ্রাম করে গেছেন। নিজের স্বার্থে নয়, নবযুগের বাংলার নতুন শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্দেশ্যে। তাঁর সারাজীবনের শিক্ষাচিন্তার সার কথা হলো : এদেশের প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্যের ভাণ্ডার এবং বিদেশের নতুন পাশ্চাত্ত্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের ভাণ্ডার থেকে জ্ঞানসম্পদ আহরণ করে বাংলাশিক্ষার, বাংলা ভাষার এবং বাংলা সাহিত্যের পাকাপোক্ত বুনিয়াদ রচনা করা। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, কেবল ইংরেজিবিদ্যা শিখে যাঁরা আধাফিরিঙ্গি হবেন, অথবা প্রাচীন সংস্কৃতবিদ্যা শিখে টুলোপণ্ডিত হবেন, তাঁরা কেউ এ কাজের যোগ্য হতে পারবেন না। সংস্কৃত কলেজটিকেই তাই বিদ্যাসাগর সেকালের টোল-চতুষ্পাঠী করতে চাননি, আবার তার সংলগ্ন হিন্দু কলেজের মতো দেশি সাহেব তৈরির কারখানাও করতে চাননি। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্ত্য জ্ঞানবিদ্যার সত্যিকারের মিলনতীর্থ করতে চেয়েছিলেন তিনি সংস্কৃত কলেজকে। কেবল সংস্কৃত কলেজ নয়, সারা বাংলাদেশ প্রাচ্য-পাশ্চাত্ত্যের মিলনতীর্থ হোক, এই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় কামনা এবং সবচেয়ে রঙীন স্বপ্ন ছিল। বিশিষ্ট বিদ্যাসাগর গবেষক বিনয় ঘোষ (১৯১৭-১৯৮০) সে-কারণে উল্লেখ করেছেন, ‘১৮৪৬ থেকে ১৮৫৮ সাল, এই বারো বছরের দীর্ঘ ন’বছর বিদ্যাসাগর সংস্কৃত কলেজের পরিচালনা ও শিক্ষার ব্যাপারে নানাভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। এই ন’বছরের মধ্যে তিনি শিক্ষাসংস্কারের চারটি পরিকল্পনা সরকারী কর্র্তৃপক্ষের কাছে পেশ করেছেন। যখন সহকারী-সম্পাদক ছিলেন তখন একটি, সাহিত্যের অধ্যাপক হয়ে একটি, অধ্যক্ষতার কালে হ্যালিডের মারফত একটি, এবং ব্যালাইন্টাইনের মতামত প্রসঙ্গে একটি, এই চারটিই হল তাঁর শিক্ষাসংস্কারের প্রধান পরিকল্পনা। এই সব পরিকল্পনার ভিতরে আলোচনা প্রসঙ্গে শিক্ষাদর্শের যে মূলসুত্রটি সর্বত্র ঝংকৃত হয়ে উঠছে, সেটি হল মাতৃভাষা বাংলার মাধ্যমে শিক্ষার বিস্তার এবং উন্নত বাংলাভাষার ভিত্তির উপর সুসমৃদ্ধ নতুন বাংলা-সাহিত্যের প্রতিষ্ঠা। বিদ্যাসাগরের সমস্ত শিক্ষাচিন্তার মূল উৎস ও প্রেরণা হল এই আদর্শ।’
শত সহস্র কর্মজাল জড়িত হয়েও বিদ্যাসাগর বাংলাদেশের শিশুশিক্ষা সম্পর্কে সদাসর্বদা অবহিত ছিলেন। কারণ তিনি জানতেন শিশুশিক্ষার বুনিয়াদ সুদৃঢ় না হলে কোনো জাতিই রুচি ও মননের ক্ষেত্রে সাবালকত্ব অর্জন করতে পারে না। এইজন্য শিল্প সৌকুমার্য ও অলংকরণ শিক্ষার ভিত্তি মূলে হাত লাগিয়েছিলেন। ‘বর্ণপরিচয়’ থেকে ‘আখ্যান মঞ্জুরী’ পর্যন্ত শিশু-বালক-কিশোর পাঠ্য  অনেকগুলো পুস্তক লিখে বিদ্যাসাগর জ্ঞানীর জ্ঞান শলাকা দিয়ে বাঙালি জাতিকে চক্ষুষ্মান করতে চেয়েছিলেন। বিদ্যাসাগর বুঝেছিলেন ধর্মের ফেরী করে দিনযাপনের কাল শেষ হয়ে গেছে। মানুষকে অধিকতর শোচনীয়তা থেকে বাঁচানোর একমাত্র পথ শিক্ষার আলো বিতরণ, শিক্ষার আলো বিতরণের লক্ষ্যে বিদ্যাসাগরের চেষ্টায় তৎকালীন মেদিনীপুর, হুগলী, বর্ধমান ও নদীয়া জেলায় শতশত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সঙ্গে অনেকগুলো মডেল স্কুল ও তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই সমস্ত স্কুলে সৎচরিত্র ও মেধাবী ছাত্ররা অল্প ব্যয়ে পড়াশুনা করতে পারতেন। বিদ্যাসাগর গ্রামের মানুষের চিকিৎিসা সেবার জন্য একটি হাসপাতালও তৈরি করেছিলেন। বিশিষ্ট লেখক সুশোভন সরকার (১৯০০-১৯৮২) উল্লেখ করেছেনÑ ‘বিদ্যাসাগর শুধুমাত্র পণ্ডিত বা বিদ্বানই ছিলেন না। শিক্ষাসংস্কারক হিসেবে তিনি সংস্কৃত কলেজের দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন অব্রাহ্মণ বিদ্যার্থীদের জন্য। প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্য-সংস্কৃতির ছাত্ররা যাতে কিছুটা ইংরেজি শিক্ষাও পেতে পারে, তারও ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন প্রশাসক হিসেবে সরকারি পরিদর্শকের কাজে আশ্চর্য নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন বিদ্যাসাগর এবং ৪-টি জেলায় মোট ৩৫-টি বালিকা বিদ্যালয় ও ২০-টি আদর্শ বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন। যে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানটি আজ তাঁর নামে চিহ্নিত, সেই প্রতিষ্ঠানটির একেবারে শুরু থেকেই তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। তাঁর অবিরাম প্রচেষ্টায় এই প্রতিষ্ঠানটি পরিণত হয় পুরোপুরি ভারতীয় শিক্ষকদের নিয়ে গড়ে ওঠা উচ্চশিক্ষার একটি বেসরকারি, ধর্মনিরপেক্ষ ও জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানে।’
নারীদের উচ্চশিক্ষার ব্যাপারেও সমান আগ্রহী ছিলেন বিদ্যাসাগর। ১৮৪৯-৫০ সালে ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুনের অন্যতম সহযোগীরূপে তিনি বাংলাদেশে নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে প্রথম পদার্পণ করেন। আগেকার অনেক বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিগত চেষ্টা সত্ত্বেও নারীশিক্ষার কোনো সামাজিক অন্তরায় তখনো দূর হয়নি। সাধারণ লোকের মন থেকে তো বটেই, দেশের উচ্চশিক্ষিতশ্রেণির মন থেকেও নারীশিক্ষা সম্বন্ধে বদ্ধমূল কুসংস্কারগুলোর একটিও নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। অথচ হিন্দুকলেজ প্রতিষ্ঠার পর প্রায় দুই পুরুষ ধরে আধুনিক পাশ্চাত্ত্য জ্ঞান-বিজ্ঞান-সাহিত্যের নিরবচ্ছিন্ন চর্চা চলেছে। দেশের উচ্চ সমাজের মধ্যে এই বিদ্যাচর্চা সীমাবদ্ধ থাকলেও, তার ফলাফল অন্তত সেই সংকীর্ণ গণ্ডির মধ্যে প্রকাশ হবার কথা। নারীশিক্ষা সম্বন্ধে প্রাথমিক চেতনা তখন ধীরে ধীরে বাংলার এই নাগরিক উচ্চসমাজের মধ্যে জাগছিল। কিন্তু নারীশিক্ষার বিরুদ্ধে দীর্ঘকালের এত কুসংস্কার বংশ-পরম্পরায় তাঁদের চেতনাস্তরে স্তূপীকৃত হয়েছিল যে মাত্র কয়েক বছরের পুঁথিগত বিদ্যার জোরে হঠাৎ তাকে ঠেলে সরিয়ে ফেলা সম্ভব হয়নি। তাই চেতনা তাঁদের মনে জাগলেও তা এত তরল ছিল যে কোনো সুচিন্তিত কর্মক্ষেত্রে তাকে তাঁরা পরিচালিত করতে পারেননি। তাঁদের দূর্বল মনের কোণে নারীশিক্ষা সম্বন্ধে ক্ষীণ সদিচ্ছার স্বাভাবিক অপমৃত্যু ঘটেছিল। একটা নিরবয়ব আগ্রহের পদসঞ্চরণ যখন এইভাবে এদেশের অত্যন্ত সংকীর্ণ শিক্ষিতসমাজের মনের প্রাঙ্গনে শোনা যাচ্ছিল, সেই সময় বেথুন ও বিদ্যাসাগর দৃঢ়পদে স্থির সংকল্প নিয়ে অগ্রসর হলেন তাকে বাস্তবে মূর্ত করে তোলার জন্য। ডালহৌসি ও বেথুনের শুভেচ্ছার সঙ্গে যুক্ত হলো এদেশের পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দৃঢ়তা ও নিষ্ঠা।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সাহিত্যকীর্তির অধ্যায়ে যুক্ত হয়ে পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় যে, তাঁর অধিকাংশ রচনা অনুবাদমূলক, সংস্কৃত, ইংরেজি ও হিন্দি থেকে স্বাধীনভাবে ভাষান্তর। ১৮৪৭ থেকে ১৮৯১ সাল প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে তিনি অনেক গ্রন্থের অনুবাদ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালেরও পূর্বে তিনি ভাগবতের কৃষ্ণলীলা অবলম্বনে ‘বাসুদে চরিত’ লিখেছিলেন, কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এ বই মুদ্রিত হয়নি এবং এর পাণ্ডুলিপিও পাওয়া যায়নি। ‘বেতাল পঞ্চবিংশতি’ (১৮৪৭) হিন্দি ‘বৈতাল পচ্চীসী’ থেকে অনুবাদ। গ্রন্থটিতে একগুচ্ছ গল্প ও কিংবদন্তীর সমষ্টি যা রাজা বিক্রমাদিত্য এবং বেতাল নামক এক বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রাণীর মধ্যে গল্প ও যুক্তির খেলা চলে। ‘শকুন্তলা’ (১৮৫৪) কালিদাস (খ্রিস্টীয় চতুর্থ বা পঞ্চম শতাব্দী))-এর ‘অভিজ্ঞান শকুন্তল’ নাটকের স্বচ্ছন্দ গদ্যানুবাদ। শকুন্তলা ছিলেন হিন্দু পুরাণে বর্ণিত দুষ্মন্তের সহধর্মিণী ও সম্রাট ভরতের মাতা। তার উপাখ্যান বর্ণিত হয়েছে মহাভারত মহাকাব্যে; বিদ্যাসাগর সেই কাহিনিকে অবলম্বন করে তাকেই অনুবাদ করে সাজিয়েছেন। ‘সীতার বনবাস’ (১৮৬০) ভবভূতির (?) ‘উত্তরচরিত’ এবং বাল্মীকির (খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দ) রামায়ণের উত্তরকাণ্ডের আখ্যানের অনুসরণ, ‘ভ্রান্তিবিলাস’ (১৮৬৯) শেক্স্পীয়রের Comedy of errors – এর গদ্য অনুবাদ অবশ্য শেক্স্পীয়রীয় বিদেশি কাহিনিটিকে দেশিয় পরিচ্ছদ দেবার জন্য নাটকের পাত্র-পাত্রীর নাম-ধাম পরিবর্তন করে তিনি ভারতীয় নাম দিয়েছেন; ফলে বিদেশি কাহিনি একেবারে এদেশিয় রূপ ধরেছে। এগুলো ছিল বিদ্যাসাগরের বিশুদ্ধ সাহিত্যগ্রন্থের অনুবাদ। এ ছাড়া তিনি কয়েকখানি পাঠ্যগ্রন্থেরও অনুবাদ করেছিলেন। তন্মধ্যে মার্শম্যানের History of  Bengal এর কয়েক অধ্যায় অবলম্বনে ‘বাঙ্গালার ইতিহাস’ (১৮৪৮), চেম্বার্সের Biographies ও Rudiments of knowledge অবলম্বনে যথাক্রমে ‘জীবনচরিত’ (১৮৪৯) ও ‘বোধোদয়’ (১৮৫১) এবং ঈশপের ফেবল্স্ অবলম্বনে ‘কথামালা’ (১৮৫৬) রচনা করেন। এ অনুবাদগুলো যথার্থ মৌলিক গ্রন্থের মতো মর্যাদা পেয়েছে কোনো কোনোটি প্রায় ক্লাসিক সাহিত্যের পর্যায়ে উঠে গেছে। তিনি জানতেন, অনুবাদ ভিন্ন অতি দ্রুত গদ্যভাষা ও সাহিত্যের উন্নতি করা যায় না। সেইজন্য নিছক রসচর্চা ছেড়ে দিয়ে সারস্বত প্রতিভাকে তিনি অনুবাদকর্মে নিয়োগ করেছিলেন। সাহিত্যগ্রন্থগুলোর অনুবাদ স্বাভাবিক, সরস ও মূলানুগ হয়েছেÑবলতে গেলে গদ্যানুবাদে তাঁর মতো কৃতিত্ব বাংলা সাহিত্যে অতি অল্প অনুবাদকই দেখাতে পেরেছেন। বিদ্যাসাগরের মৌলিক গ্রন্থের সংখ্যাও একবারে কম নেই। তাঁর মৌলিক গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে, ‘সংস্কৃত ভাষা ও সংস্কৃত সাহিত্য শাস্ত্রবিষয়ক প্রস্তাব’ (১৮৫৩), গ্রন্থটি কোনো বাঙালির লেখা প্রথম সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাস। ‘বিধবা বিবাহ চলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব’ (১ম খণ্ডÑ১৮৮৫, ২য়খণ্ডÑ১৮৮৫) এবং ‘বহু বিবাহ রহিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক বিচার’ (১মÑ১৮৭১, ২য়Ñ১৮৭৩) শীর্ষক পুস্তকগুলোতে তাঁর অভ্রান্ত যুক্তি, তথ্যের সমারোহ এবং তীক্ষè বিশ্লেষণ যথার্থ প্রাবন্ধিকের প্রতিভা সুপ্রমাণিত করেছে। যাঁরা তাঁকে শুধু অনুবাদক বলে তাঁর সাহিত্য-প্রচেষ্টাকে লঘু করবার চেষ্টা করেছেন, তাঁরা এই মৌলিক প্রবন্ধ-পুস্তকগুলো ভালোভাবে পড়ে দেখার সুযোগ পাননি বলে অনুমিত হয়। বিদ্যাসাগরের রচিত জীবনচরিত ‘বিদ্যাসাগরচরিত’ (১৮৯১), এবং ‘প্রভাবতী সম্ভাষণ’ (আনুমানিক: ১৮৬৩) বিশুদ্ধ সাহিত্যকর্ম হিসেবে অতীব সুখপাঠ্য হয়েছে। তাঁর রচিত আত্মজীবনীটি বাংলা জীবনীসাহিত্যের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত ও সম্পদবিশেষ।

রঙ্গ, ব্যঙ্গ, কৌতুক ও শ্লেষাত্মক রচনায় বিদ্যাসাগর তাঁর সমসাময়িককালে অদ্বিতীয় ছিলেন বললে অত্যুক্তি হয় না। তাঁর আগে ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৮৭-১৮৪৮) ও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯) এই শ্রেণির রচনায় শক্তিশালী পথপ্রদর্শক ছিলেন। রামমোহনের সংস্কার আন্দোলনের সময় থেকে সাহিত্য-সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ শ্লেষের প্রাধান্য ক্রমেই বাড়তে থাকে। সজাগ সুরুচিবোধের জন্য রামমোহন নিজে অবশ্য তাঁর রচনায় শ্লেষ বিদ্রুপের আশ্রয় বিশেষ নেননি। বিদ্যাসাগরের বিধবাবিবাহ প্রচলন ও বহুবিবাহ নিরোধ আন্দোলনের বিরুদ্ধে যে প্রবল প্রতিপক্ষ খাড়া হয়েছিল, যাদের একমাত্র কাজ ছিল তাঁর নামে অলীক কুৎসা প্রচার করা; তিনি তখন ছদ্মনামে খান কয়েক পুস্তক লিখে সরস ও ব্যঙ্গের ভাষায় সেই সমস্ত প্রতিবাদীর হাস্যকর অভিমত ও কটাক্ষকে ছিন্নভিন্ন করে বিতর্কমূলক রচনায় অতি স্বাদু লঘু রসের স্পর্শ দিয়েছিলেন। এগুলো বিদ্যাসাগরের বেনামী রচনা বলেও খ্যাত। এইশ্রেণির রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে, ‘অতি অল্প হইল’ (১৮৭৩), ‘আবার অতি অল্প হইল’ (১৮৭৩), ‘ব্রজবিলাস’ (১৮৭৪), ‘বিধবাবিবাহ ও যশোহর-হিন্দুধর্মরক্ষিণী সভা’ (১৮৮৪) ও ‘রত্নপরীক্ষা। হাস্যরস বিদ্রুপশ্লেষেপূর্ণ এই পুস্তকগুলো ‘কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য’ ছদ্মনামে প্রকাশিত হতো।
বাঙালি জাতির কাছে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কেবলই একজন মাত্র, অন্য আর কেউ নয়। তাঁর নামের সঙ্গেই একমাত্র ‘প্রাতঃস্মরণীয়’ কথাটি শোনা যায়। বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পুরোধা তিনি।বাংলা সাহিত্যের এক পরম লগ্নে মানবদরদী ও সাহিত্যরসিক এই পণ্ডিতের আবির্ভাব ঘটেছিল। বিদ্যাসাগরের মধ্যে দেখা গিয়েছিল প্রাচীন ভারতীয় ঋষির জ্ঞান, ইংরেজজাতির কর্মোদ্দীপনা এবং বাঙালি জননীর মমত্ব ও স্নেহশীলতার এক সম্মিলিত যোগফল। এই যোগফল যেমন বাংলার সমাজজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার প্রভাব মুদ্রিত করেছিল, তেমনি প্রাণরসে উজ্জীবিত করেছিল বাংলা সাহিত্যের প্রাঙ্গনকে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সে-কারণে বলেছিলেনÑ ‘বৃহৎ বনস্পতি যেমন ক্ষুদ্র বনজঙ্গলের পরিবেষ্টন হইতে ক্রমেই শূন্য আকাশে মস্তক তুলিয়া উঠে, বিদ্যাসাগর সেইরূপ বয়োবৃদ্ধি সহকারে বঙ্গসমাজে সমস্ত অস্বাস্থ্যকর ক্ষুদ্রতা জাল হইতে ক্রমশই শব্দহীন সুদূর নির্জনে উত্থান করিয়াছিলেন, সেখান হইতে তিনি তাপিতকে ছায়া এবং ক্ষুধিতকে অন্নদান করিতেন।’ বিদ্যাসাগর শিক্ষাব্রতী, প্রকাশক, পরিদর্শক, হোমিও চিকিৎসক, শিশু ও নারীশিক্ষাচিন্তক, শিক্ষক, মানবপ্রেমী, যুগস্রষ্টা, সমাজসংস্কারমূলক কাজের লড়াকু যোদ্ধা, স্পষ্ট প্রতিবাদী এবং বাংলা গদ্যের বিকাশকর্মী। তিনি ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন শ্রেষ্ঠ বাঙালি মনীষা। কিন্তু তাঁর মিত্র যেমন অনেক তেমনি শত্রুরও অভাব ছিল না। তাঁর কৃতকর্মের জন্য কেবল মানুষের আশীর্বাদ ও পুজোই নয়, পেয়েছেন অজস্র তিরস্কার এবং গঞ্জনাও। ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি, বেদ সাংখ্যদর্শন ইত্যাদিকে ভ্রান্ত বলে ঘোষণা করতে তাঁর বাধেনি। কেউ কেউ তাঁকে অজ্ঞেয়বাদী বলেও চিহ্নিত করেন। অথচ তাঁর নামের ভিতরেই ‘ঈশ্বর’ শব্দটি জড়িয়ে থাকে। বিদ্যাসাগর হিসেবে যে মানুষটি ভারতখ্যাত, দয়ার সাগর হিসেবে যাঁর দানশীলতায় ‘দীন’ ভারতবর্ষ অপরিশোধ্য ঋণে ঋণী, তাঁর সম্বন্ধে কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৯০৩) বলেছিলেন, ‘উৎসাহে গ্যাসের শিখা, দার্ঢ্যে শালকড়ি,/কাঙ্গাল বিধবাবন্ধু, অনাথের নড়ি।/প্রতিজ্ঞায় পরশুরাম, দাতাকর্ণ দানে,/স্বাতন্ত্র্যে সেঁকুল কাঁটা, পারিজাত ঘ্রাণে।’

[ ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল ॥ কবি, গবেষক, প্রাবন্ধিক ও সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া]

About দৈনিক সময়ের কাগজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top
error: Content is protected !!