Saturday , February 27 2021
You are here: Home / চট্টগ্রাম ও সিলেট / রামগতি পৌর নির্বাচনঃ গণজোয়ারে ভাসছে নৌকা,আড়ালে ধানের শীষ
রামগতি পৌর নির্বাচনঃ গণজোয়ারে ভাসছে নৌকা,আড়ালে ধানের শীষ

রামগতি পৌর নির্বাচনঃ গণজোয়ারে ভাসছে নৌকা,আড়ালে ধানের শীষ

আমানত উল্যাহ,রামগতি (লক্ষ্মীপুর) : পৌরসভা নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে উপকূলীয় এলাকা  লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারীতে। প্রচারণার শুরু থেকে শেষ পর্যায়ে এসে জমে উঠেছে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ। ভোটাদের মন জয় করার জন্য নানা কলা কৌশল নিয়ে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সিস্টেমে ভোট দেয়া নিয়ে হতাশায় ভোটাররা।চতুর্থ ধাপের পৌর নির্বাচনে একই দিনে দেশব্যাপী ৫৬টি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৩১ টি পৌর নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)।এর মধ্যে রয়েছে রামগতি পৌরসভাও। অবশিষ্ট্য ২৫টি পৌরসভায় ব্যবহার করা হবে ব্যালট পেপার।উল্লেখ্য: মেঘনানদীর তীরবর্তী এ উপজেলা সদর আলেকজান্ডার, চর আলগী ইউনিয়নের চর হাসান হোসেন এবং চর বাদাম ইউনিয়নের চরসীতা এলাকা নিয়ে ২০০০ সালে পৌরসভানউন্নীত করা হয়। ২০১৮ সালে এই পৌরসভাকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করা হয়। ২০০২ সালে এই পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।বর্তমানে পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ২০ হাজার ৯০৫ জন ভোটার রয়েছে। জনসংখ্যা ৪০ হাজার ২৯৩ জন।১১ দশমিক ৮৮ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে এর আয়তন।মেয়র পদে নৌকা প্রতিক নিয়ে লড়ছেন বর্তমান মেয়র এম মেছবাহ উদ্দীন মেজু, ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে সাবেক মেয়র সাহেদ আলী পটু,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতিক নিয়ে মাওলানা আব্দুর রহিম, জাতীয় পার্টির আলমগীর হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোঃ জামাল উদ্দীন ও বিএনপির বহিস্কৃত নেতা আবি আব্দুল্লাহ লড়ছেন নারিকেল গাছ মার্কা নিয়ে।এছাড়াও কাউন্সিলর পদে ৩৭ ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১২ জন প্রার্থী এ নির্বাচনে লড়ছেন।আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারী লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভা নির্বাচন। শেষ দিকে জোরেশোরে চলছে প্রচার প্রচারণা। নির্বাচন কেন্দ্র করে মেয়র, সাধারণ এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করতে অবিরত দিয়ে যাচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। সেই সাথে প্রচার প্রচারণা,সভা সমাবেশ নিয়মিত করে যাচ্ছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। পৌর শহরজুড়ে শোভা পাচ্ছে প্রার্থীদের পোস্টার। মাইকিং আর প্রচারণায় ভোটের বাজার উত্তাল হয়ে উঠেছে। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই সরগরম হয়ে উঠছে রামগতি পৌর শহর। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে অপেক্ষার প্রহর গুণছেন ভোটাররা। ভোটকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা যেন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।বর্তমান মেয়র ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এম মেছবাহ উদ্দীন মেজু তার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে প্রচারণায় ভোট প্রার্থনা করছেন। দিন-রাত গণসংযোগ, উঠান বৈঠক আর সভা-সমাবেশ মাধ্যমে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। নৌকা প্রতীকের কর্মী সমর্থকরা নির্বাচনী প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে বিভিন্ন এলাকায়। স্থানীয় আওয়ামীলীগ থেকে শুরু করে জেলা এবং কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোট চাইছেন। সেই সাথে পৌর শহরের উন্নয়নে এক জোট হয়ে শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষ প্রকাশ্যে ভোট চাচ্ছেন নৌকার পক্ষে। এ সময় তারা তুলে ধরছেন রামগতি পৌরসভার গত পাঁচ বছরের উন্নয়নের চিত্র। পুরুষদের পাশাপাশি মহিলা নেত্রীরাও তাদের কর্মীদের নিয়ে ছুটছে ভোটারদের কাছে।এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতিক নিয়ে মাওলানা আব্দুর রহিম,জাতীয় পার্টির আলমগীর হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোঃ জামাল উদ্দীন ও বিএনপির বহিস্কৃত নেতা আবি আব্দুল্লাহ নারিকেল গাছ মার্কা নিয়ে প্রচারণার মাঠে রয়েছেন।
অপরদিকে গোপনে চলছে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণা।বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাহেদ আলী পটুর পক্ষে প্রকাশ্যে কোন প্রচার প্রচারণা কিংবা গণসংযোগ নেই বললেই চলে। উপজেলা পর্যায়ের কোন নেতৃবৃন্দকে প্রচার কার্যক্রমে এখনো পর্যন্ত দেখা যায়নি। এ যেন ফাঁকা মাঠেই গোল দিতে নেমেছে আওয়ামীলীগ। চায়ের দোকান ও বিভিন্ন আড্ডা এবং নানা আলোচনায় একটাই প্রশ্ন বিএনপির প্রচুর ভোট থাকা সত্বেও প্রার্থী এবং নেতাকর্মীরা মাঠে নেই কেন? সচেতন মহলের দাবি দলীয় কোন্দলের কারণে তারা এক হয়ে মাঠে নামতে পারেনি। পোস্টার, মাইকিং, গণসংযোগ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, উঠান বৈঠকসহ সব ক্ষেত্রেই নৌকার প্রচার চোখে পড়ার মতো। রামগতি পৌর নির্বাচনকে ঘিরে অনুসন্ধান এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন এ চিত্র উঠে এসেছে।
আশ্রম এলাকার কবির আহমেদ নামে এক ভোটার বলেন, ‘বর্তমান মেয়রের সময়ে পৌরসভায় যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে। তাই উন্নয়নের দিকে তাকিয়ে নৌকার জোয়ার উঠেছে ভোটারদের মাঝে। পৌরসভার উন্নয়নের স্বার্থে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিবো।
জমিদারহাট এলাকার নোমান নামের আরেক ভোটার জানান বিএনপির ঘাঁটি এই রামগতি। কিন্ত গ্রুপিং আর কোন্দলে জর্জরিত বিএনপির মত বিশাল এই দলটি। ভোটের প্রচারের যে অবস্থা তাতে মনে হয়ে বিএনপি এখন লেজেগোবরে হয়ে গেছে।
রামগতি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল ওয়াহিদ বলেন,নৌকা প্রতীকের প্রার্থী গত পৌর নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিল। বিগত পাঁচ বছরে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পৌর এলাকায় রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ সার্বিকভাবে যে উন্নয়ন করেছে তাতে পৌরবাসী নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে একটি আধুনিক পৌরসভা বিনির্মাণে মেজবাহ উদ্দিন মেজুর বিকল্প নেই।
ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী সাহেদ আলী পটু বলেন, ‘নিরবে ভোট প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। ভোটের মাঠ ভালো রয়েছে। জনগণও ভোটের অপেক্ষায় আছে। ধানের শীষেরই বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ।
নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী এম মেছবাহ উদ্দীন মেজু বলেন,গত পাঁচ বছরে নাগরিক সেবাসহ যে উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, তাতে আমি আশা করি দ্বিতীয়বারের মতো পৌরবাসী আমাকে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করবেন। মানুষের মনে যে আস্থা অর্জন করেছি, তাতে গতবারের তুলনায় বিপুল ভোট পাব, ইনশাআল্লাহ। বিজয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে রামগতি পৌরসভাকে আধুনিক এবং একটা শান্তির শহর গড়ে তোলা হবে।
রামগতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল মোমিন ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কাজী মো: কেরামত আলী জানান, তফশীল ঘোষনার পর আমরা সকল ধরনের প্রস্তুতি শুরু করেছি। সকলের সহযোগীতায় সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারব বলে আশারাখি।নির্বাচন অবাধ এবং সুষ্ঠু করার জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।এবার প্রথম বারের মত ইভিএমেই রামগতি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় কোন ধরনের  অরাজকতা বরদাস্ত করা হবেনা বলে হুশিয়ারি দেন তারা।

About দৈনিক সময়ের কাগজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top
error: Content is protected !!