Saturday , May 8 2021
You are here: Home / Uncategorized / আঞ্চলিক খবর / বাণিজ্য সংগঠনের নির্বাচন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার : কুষ্টিয়া চেম্বারের নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়নি
বাণিজ্য সংগঠনের নির্বাচন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার : কুষ্টিয়া চেম্বারের নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়নি

বাণিজ্য সংগঠনের নির্বাচন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার : কুষ্টিয়া চেম্বারের নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক : কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ২০২১-২০২৩ এর সকল প্রস্তুুতি সম্পন্ন হওয়ার পর তা সরকারি নির্দেশের কারণে বন্ধ রাখা হয়, কিন্তু সরকার থেকে সে নির্দেশনা প্রত্যাহার করার পরও কুষ্টিয়া চেম্বারের নির্বাচন বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে গতকাল কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন কমিশন এ্যাড. মীর সানোয়ার হোসেন জানান, শুক্রবার (আজ) তিনি অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবেন।
করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্সপ্রাপ্ত সব বাণিজ্য সংগঠনের বার্ষিক সাধারণ সভা ও কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন বন্ধ করা হয়। কিন্তু স্থগিতাদেশ দেওয়ার একদিন পরই তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত বুধবার নতুন নির্দেশনা জারি করে বাণিজ্য সংগঠনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্সপ্রাপ্ত সব বাণিজ্য সংগঠন সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন করে তাদের সুবিধামতো সময়ে সংগঠনের বার্ষিক সভা ও কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন করতে পারবে। আরও বলা হয়, যেসব বাণিজ্য সংগঠন স্বাস্থ্যবিধি মেনে বার্ষিক সভা আয়োজন ও নির্বাচন বোর্ড ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে তাদের বার্ষিক সভা ও নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই।
এর আগে ৬ এপ্রিল দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে জনসমাগম এড়িয়ে চলার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্সপ্রাপ্ত সব বাণিজ্য সংগঠনের বার্ষিক সভা ও কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হলো।
গত ৪ এপ্রিল কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন কমিশন এ্যাড. মীর সানোয়ার বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে জেনে পরিস্থিতি ‘স্বাভাবিক’ না হওয়া পর্যন্ত চেম্বারের ভোট হবে না বলে জানান। তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত আইনে আগামী ১০ এপ্রিল তারিখে দুই বছর মেয়াদী কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো। এজন্য একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াসহ নির্বাচনী সকল কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন প্রার্থীরা। বিশ্বস্ত সুত্রে জানা যায়, পরিস্থিতি ‘স্বাভাবিক’ না হওয়া পর্যন্ত ভোট হবে না। তিনি আরও বলেন, দেশের অবস্থা স্বাভাবিক হলে নির্বাচন যে অবস্থায় বন্ধ হয়েছিল, সেখান থেকে ভোটের প্রক্রিয়া আবার শুরু করা হবে। এসব নির্বাচনী এলাকায় প্রচারে ছিলেন প্রার্থীরা। স্থগিতের পর সব ধরনের প্রচার এখন বন্ধ থাকবে। পরে যখনই ভোটের তারিখ দেওয়া হবে, এই প্রার্থীরাই তখন নির্বাচনে অংশ নেবেন।
দি কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ’র আগের কয়েকবার নির্বাচন না হয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে হয়ে আসছে। গত ২০১৯-২০২১ মেয়াদে কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সাধারন সদস্য গ্রুপে ২৮ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম জমা দিয়ে মাঠে নামে। সেখানে আলোচনার ভিত্তিতে ১৬জন স্বেচ্ছায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। ফলে বাকি ১২ জন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। গতবার সহযোগী সদস্য গ্রুপে ১৩ জন বৈধ প্রার্থী ছিলেন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলেও তাদের মধ্য থেকে ৭জন এক পর্যায়ে স্বেচ্ছায় সরে যান। ফলে এখানেও বাকি ৬ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত হন। অন্য দিকে গতবার ট্রেড গ্রুপে সদস্য গ্রুপে ৩টি পদের জন্য শুধু মাত্র ৩ জন বৈধ প্রার্থী থাকায় কাউকে স্বেচ্ছায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে হয়নি। গত ২১ মার্চ কুষ্টিয়া চেম্বারের ২০১৯-২০২১ মেয়াদের পরিচালনা পরিষদের ২১ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
এবার নানা কারণেই এবার কুষ্টিয়া চেম্বারের নির্বাচনকে ঘিরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। পূর্ব ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১০ এপ্রিল যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, সেখানে প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় তুঙ্গে ছিলেন। বিশেষ করে এবারের নির্বাচনে বেশ কিছু নতুন মুখ এসেছেন। তারা সমঝোতা ও আপসে না গিয়ে সরাসরি নির্বাচনের পক্ষে মাঠে থেকেছেন।
কুষ্টিয়া চেম্বারের ২০২১-২০২৩ সালের পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল গত ২৩ মার্চ। দীর্ঘদিন নানাভাবে কুষ্টিয়া চেম্বারকে নিয়ন্ত্রন করে আসা একটি চক্র এবারও চেষ্টা করেছিল, কিন্তু এবার তা সফল হয়নি। ফলে এবার সাধারণ পরিষদের ১২ পরিচালক পদে লড়ার সুযোগ পেয়েছেন ২২জন। সহযোগি সদস্যদের মধ্যে ৬ পদের বিপরীতে এবার লড়ছেন ১০জন। অন্যদিকে ট্রেড থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বর্তমান সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম, মোকাররম হোসেন মোয়াজ্জেম ও আবু জাফর মোল্লা নির্বাচিত হয়েছেন।
গতকাল কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন কমিশন এ্যাড. মীর সানোয়ার হোসেন জানান, সরকারি আদেশের সর্বশেষ ঘোষণাটি তিনি এখনও দেখেননি। তবে কুষ্টিয়া চেম্বারের নির্বাচনের সকল প্রস্তুুতি সম্পন্ন। তিনি অন্যদের সঙ্গে কথা বলে আজ শুক্রবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন।
কুষ্টিয়া চেম্বারে এবার পরিচালক হিসেবে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আবু জুবায়ের রিপন। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন উৎসবমুখোর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। কুষ্টিয়া শহরের ব্যবসায়ীরা অনেক দিন পর সরাসরি ভোট দিয়ে চেম্বারে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছেন। ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে দারুণ একটা যোগসূত্র তৈরি হয়েছে। সরকারি যে নির্দেশনার কারণে নির্বাচন পিছিয়েছে, তা প্রত্যাহার হয়েছে। এখন নির্বাচন হতে বাধা নেই। শহরের দোকান-পাটও খোলা রাখার অনুমতি পাওয়া গেছে। তিনি আশা করেন, দ্এুক দিনের মধ্যেই নির্বাচনের তারিখের ঘোষণা আসবে।
পরিচালক পদের অন্য একজন প্রার্থী জানান, বর্তমান কমিটির মেয়াদকাল রয়েছে আগামী ৩ মে পর্যন্ত। নির্বাচন আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হলে কোন সমস্যা থাকার কথা না। কিন্তু এ নির্বাচন বিশেষ কোন অজুহাতে এর বাইরে নিয়ে গেলে মেয়াদকাল আবার নতুনভাবে সাজাতে হবে। তিনি এ সময়ের মধ্যেই কুষ্টিয়া চেম্বারের নির্বাচন দাবি করেন।

About দৈনিক সময়ের কাগজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top
error: Content is protected !!