Monday , June 21 2021
You are here: Home / খুলনা ও বরিশাল / ২৫ বছর আগে মৃত ব্যক্তির নামে মাদক মামলা
২৫ বছর আগে মৃত ব্যক্তির নামে মাদক মামলা

২৫ বছর আগে মৃত ব্যক্তির নামে মাদক মামলা

২৫ বছর আগে মারা যাওয়া ব্যক্তির নামে মাদক মামলা করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত ১ মে জীবননগর উপজেলার উথলী বিজিবি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার নুরুল হক বাদী হয়ে দর্শনা থানায় মামলাটি করেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাইদঘাট গ্রামের মৃত রমজান মণ্ডলের ছেলে শরিফুল ইসলাম ২৫ বছর আগে মারা যাওয়ার পরও ওই মামলার ৯ নম্বর পলাতক আসামি।

মামলার বাদী বলছেন, মাদকসহ আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে নাম-ঠিকানা জেনে মামলাটি করায় এমনটি হয়েছে।

মহেশপুর-৫৮ ব্যাটালিয়নের অধীন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী বিশেষ ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েব সুবেদার নুরুল হক গত ১ মে দর্শনা থানায় একটি মামলা করেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, নায়েব সুবেদার নুরুল হক সঙ্গীয় সিপাহী মোস্তাক আহম্মেদ রাজ, দেলোয়ার হোসেন, মহিবুল ও সুজন মাহমুদকে নিয়ে ৩০ এপ্রিল রাত পৌনে ১১টার দিকে মাদকবিরোধী অভিযান চালান চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের আকন্দবাড়ীয়া গ্রামে। এসময় বিজিবি ছয় বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করে ওই গ্রামের শরিফুলের স্ত্রী বিলু বেগম, ছেলে উজ্জ্বল মিয়া ও রমজান মণ্ডলের ছেলে নিজামকে।

এ ঘটনায় নায়েব সুবেদার নুরুল হক বাদী হয়ে পরদিন সকাল সোয়া ১০টার দিকে আটককৃত তিনজনসহ পলাতক আরও ছয় আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন একই গ্রামের নিজামের দুই ছেলে আকাশ ও বাতাস, আবদার আলীর ছেলে বিপুল, আশকার আলীর ছেলে লিটন, মিজানের স্ত্রী সবুরা বেগম এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাইদঘাট গ্রামের মৃত রমজান মণ্ডলের ছেলে শরিফুল ইসলাম। ছয়জনকে পলাতক আসামি দেখিয়ে দর্শনা থানায় (জিআর ১১৩/২০২১) বিজিবি এজাহারটি করে।

আসামি পক্ষের লোকজন আদালত থেকে মামলার কপি সংগ্রহ করে দেখেন ৯নং পলাতক আসামি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাইদঘাট গ্রামের মৃত রমজান মণ্ডলের ছেলে ২৫ বছর আগে মারা যাওয়া শরিফুল ইসলাম।

মৃত শরিফুলের ছেলে উজ্জ্বল হোসেন বলেন, আমার বয়স যখন ছয় বছর তখন বাবা বিষপানে আত্মহত্যা করেন।

উজ্জ্বলের মামা নিজাম উদ্দিন বলেন, ২৫ বছর আগে মারা যাওয়া ব্যক্তিকে বিজিবি কেন মাদক মামলার আসামি করল সেটা জানা নেই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দর্শনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে গিয়ে জানতে পারি মামলার ৯নং পলাতক আসামি শরিফুল ইসলাম অনেক আগেই মারা গেছেন।

এ ব্যাপারে মামলার বাদী বর্তমানে দর্শনার নিমতলা বিজিবি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার মো. নুরুল হক নিজের ত্রুটি স্বীকার করে বলেন, ধৃত আসামিদের কাছ থেকে পলাতক আসামিদের নাম জানতে গিয়ে এমন ত্রুটি হয়েছে। এখন তো আর কিছু করার নেই। আমি বিষয়টি আদালতে গিয়ে মোকাবিলা করব।

এ বিষয়ে কথা বলতে মহেশপুর-৫৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

About দৈনিক সময়ের কাগজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top
error: Content is protected !!