Monday , June 21 2021
You are here: Home / Uncategorized / আঞ্চলিক খবর / বালিয়াকান্দিতে অসহায় বিধবা বৃদ্ধা পেলো মাথা গোজার ঠাঁই
বালিয়াকান্দিতে অসহায় বিধবা বৃদ্ধা পেলো মাথা গোজার ঠাঁই

বালিয়াকান্দিতে অসহায় বিধবা বৃদ্ধা পেলো মাথা গোজার ঠাঁই

বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা ঃ রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর গ্রামের সাবিত্রী দত্ত (৬৫) নামে অসহায় এক বিধবা বৃদ্ধাকে মারপিট করে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেয় তার স্বজনরা। শনিবার উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আম্বিয়া সুলতানা, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বহরপুর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি রোমানা কবিরসহ স্থানীয় সমাজসেবকদের হস্তক্ষেপে মাথা গোজার ঠাঁই পেয়েছে।

গত ৬ মে সকালে সাবিত্রী দত্তকে মারধোর করে স্বামীর ভিটা ছাড়া করে। সাবিত্রী বহরপুর গ্রামের মৃত অতুল দত্তের সহধর্মিণী। যদিও স্বামীর মারা যাওয়ার পর ওই বৃদ্ধার দু’টি ছেলেই হয়েছেন নিরুদ্দেশ। ফলে এ বাড়ী ও বাড়ী থেকে চেয়ে চিন্তে কোন রকমে জীবিকা নির্বাহ করতেন ওই বৃদ্ধা।

রবিবার দুপুরে সাবিত্রী দত্ত বলেন, প্রায় ১৫ বছর আগে তার স্বামী মারা গেছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর ছেলে অপু দত্ত ও সনু দত্ত নিরুদ্দেশ হয়। এর পর থেকে স্বামীর ভিটায় থাকা ঘরে বসবাস করে আসছিলেন। যদিও ছেলেরা না থাকা তার শরিক রবি দত্ত ও মনোতোষ দত্ত এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা তাকে নানা রকম অত্যাচার শুরু করে। এক পর্যায়ে তিনি প্রতিবেশির বাড়ীতে আশ্রয় নেন এবং মাঝে মধ্যে বাড়ীতেও থাকেন। খাওয়া-দাওয়া করেন তিনি চেয়ে চিন্তে। এরই মাঝে ওই সব শরিকরা তাকে উচ্ছেদ করতে তা উপর হামলা, মারপিট এবং স্বামীর নিবাস ঘরটি ভাংচুর করে। এত অসহায় হলেও তার কোন কার্ড বা ভাতা জোটেনি। কোন মতে চেয়ে চিন্তে খেয়ে না খেয়ে চলছিল তার দিন-রাত।

তিনি আরো বলেন, তাকে মারধোরের পর পাশে দাড়িয়েছে রোমানা কবির। উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আজ আবার স্বামীর ভিটায় ঘর করতে পেরে উৎফুল্ল।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বহরপুর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি রোমানা কবির জানান, সাবিত্রীকে মারধোরের খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং নিরাপদ দুরবর্তি এলাকায় তাকে রেখে আসেন। তিনি আরো বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম আজাদ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আম্বিয়া সুলতানা শনিবার সরেজমিনে এসে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে বাড়ীর জমি নির্ধারণ করে দেওয়ার পর আমার নিজের অর্থে ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় একটি টিনের ছাপড়া ঘর উত্তোলন করা হচ্ছে। রবিবার এ ঘরের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আম্বিয়া সুলতানা বলেন, বিধবাকে ভিটে ছাড়া করার বিষয়টি জানতে পেরে ও জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগমের নির্দেশনায় শনিবার সকালে উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম আজাদসহ ওই বাড়ীতে যাই। তার জমিটি নির্ধারণ করার পর বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বহরপুর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি রোমানা কবিরসহ স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বিধবার মাথা গোজার ঠাঁই করতে পেরেছি। সে যাতে সুন্দর ভাবে জীবন যাপন করতে পারে সেজন্য তাকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

About দৈনিক সময়ের কাগজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top
error: Content is protected !!