Monday , June 21 2021
You are here: Home / অন্যান্য / চিকিৎস্যক শুন্য রাজবাড়ী মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র- চিকিৎস্যা বঞ্চিত রোগীরা
চিকিৎস্যক শুন্য রাজবাড়ী মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র- চিকিৎস্যা বঞ্চিত রোগীরা

চিকিৎস্যক শুন্য রাজবাড়ী মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র- চিকিৎস্যা বঞ্চিত রোগীরা

রাজবাড়ী অফিসঃ  রাজবাড়ী শহরের একমাত্র মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রটি এখন চিকিৎস্যক শুন্য । ডাক্তার না থাকায় চিকিৎস্যা বঞ্চিত হচ্ছে গর্ভবতী মা ও শিশুরা। রাজবাড়ীর ৩ নং বেড়াডাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত এ মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রটি কয়েকজন স্বাস্থ্য কর্মীর হাতে। গত ৩ই মার্চ-২১ গাইনী চিকিতস্যক ডাঃ গোপাল সূত্র ধর বদলী হলে শূন্য হয় ডাক্তারের পদ ।

অন্যদিকে চিকিৎস্যা সেবা না পেয়ে গর্ভবতী মায়েরা চিকিতস্যা ভীড় জমাচ্ছে রাজবাড়ী সদর হাস্পাতাল আর বেসরকারি ক্লিনিকে। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে সিজার অপারেশন এর তারিখ সপ্তাহে ২দিন হওয়ায় ইমারজেন্সি ডেলিভারির ক্ষেত্রে রোগীরা যাচ্ছে বেসরকারি ক্লিনিকে। আর এ সুজোগে রমরমা ব্যাবসা চালাচ্ছে ক্লিনিক গুলো।বিশেষ করে মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র সংলগ্ন নিরাময় ক্লিনিকে যাচ্ছে গর্ভবতী মায়েরা। যাদের ১ম সিজারের মাধ্যমে বাচ্চা হয়েছে তারা ২য় বারের সময় আবশ্যিক সিজারের জন্য মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে আসলেও ডাক্তার না থাকায় পাশেই নিরাময় ক্লিনিকে যাচ্ছে অদৃশ্য দালালের মাধ্যমে।সরকারি মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রটি সাধারণ ও অতি গরীব মানুষের জন্য হলেও ডাক্তার শুন্যতার কারনে সেবা বঞ্চিত সেবাগ্রহীতারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের চিকিত্যকের রুমে তালা। ২য় তলায় যেখানে রোগীদের ভর্তি রাখা হয় চিকিতস্যা সেবার জন্য। সেই ওয়ার্ড গুলো ফাকা পরে আছে।
এমিলি নামে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা সহকারী অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের অফিস সহায়ক হিসেবে। তিনি জানান, আগের অফিস সহকারি /এফ এম এ শামীমা গত বছর বদলীজনিত কারনে তাকে এখানে অতিরিক্ত দায়ীত্ব পালন করতে হচ্ছে। উপজেলায় তার পোষ্টিং হলেও সেখানে যেতে পারছেন না বলে জানান তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এখানকার ডাক্তার গোপাল সূত্র ধর বদলী হয়ে গেছে এবং আরেকজন ডাক্তার নেয়ামত উল্লাহ ছুটিতে আছে। তাহলে মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র কিভাবে চলছে ,এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ বিষয়ে আমি তেমন কিছুই বলতে পারবোনা। স্যারের সাথে কথা বলে দেখতে পারেন।” বাইরে দু’তিন জন মহিলা  রোগীদের সাথেও কথা হয়।তারা জানান ডাক্তার দেখাতে এসেছি,ডাক্তার নেই ,এখন কি আর করবো ,চলেযাই।

পাশের রুমেই থাকা সুষমা বিশ্বাস নামে একজন সহকারী নার্সের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ডাক্তার নেই তাই রোগীর সংখ্যা ও কম । আমরা সাধারণত গর্ভবতী মায়েদের চেক আপ এর কাজ করে থাকি।

রাজবাড়ী মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের রোগী শুন্য বেড ।

মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের তিনতলা বিশিষ্ট ভবনে রয়েছে অত্যাধুনিক অপারেশনের ব্যাবস্থা, আলাদা ২ টি বেড রোগীদের জন্য রয়েছে বিনোদনের জন্য টিভি’র ব্যাবস্থা। রয়েছে ফিডিং কর্নার সহ অত্যাধুনিক চিকিতস্যা ব্যাবস্থা। কিন্ত তারপরও গরীব মায়েরা বাধ্য হচ্ছে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে আর এজন্য গুনতে হচ্ছে অনেক টাকা।
এ বিষয়ে কথা হয় রাজবাড়ী পরিবার পরিকল্পনার উপ পরিচালক গোলাম মোঃ আজমের সাথে। তিনি জানান, মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের আগের ডাক্তার গোপাল সূত্র ধর বদলী হয়েছে। মূলত গর্ভবতী মায়েদের সাথে সে জোড়ে কথা বলতো এবং রোগী আসলেই তাকে পেট কেটে বাধ্যতামূলক সিজার সিজার করাতো। এজন্যই তাকে বদলী করানো হয়েছে। আর মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগে ডাক্তার চেয়েছি সব পক্রিয়াই সম্পন্ন ,আশা করি দ্রুতই আমরা ডাক্তার পাবো।তিনি আরো জানান, বর্তমান মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের ডাঃ কুদ্দুস এখন চার্জে আছেন। “

তবে উপ পরিচালক গোলাম মোঃ আজম এর পাশের রুমেই দেখা যায় ডাঃ গোলাম কুদ্দুসকে ।

অন্যদিকে শামীমা নামে (এফ এম এ) তাকেও বদলী করা হয়েছে। সে একজন সরকারি কর্মচারী হয়ে ৯৪ সালে যোগদান করে কিভাবে এতদিন একই স্থানে চাকুরি করে, তার নামে দুর্নীতির অনেক প্রমান রয়েছে। কিন্তু কি দুর্নীতি সে প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান তিনি।
অন্যদিকে মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের এনেস্থেসিয়া ডাক্তার ও এমওএমসিপি পদে দীর্ঘ ২৩ বছর একই পদে চাকুরী করছেন ডা. নিয়ামত উল্লাহ তিনি কিভাবে এত বছর চাকুরি করেন ,এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ডাঃ নিয়ামত উল্লাহ্‌ এমওএমসিপি পদে চাকুরী করছেন পাশাপাশি তার এনেস্থেসিয়ার প্রশিক্ষন রয়েছে।তাই তাকে এখানে রাখা হয়েছে। একজন এনেস্থেশিয়া প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিতস্যক তেমন পাওয়া যায়না। তাই এখানে তাকে রাখা হয়েছে।”
কিন্তু অনুসন্ধানে জানাগেছে, শামীমার সাথে ডাক্তার নিয়ামত উল্লাহর সম্পর্ক ভালো ছিলো না। পাশাপাশি ডাক্তার গোপাল সূত্র ধর থাকতেন মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের একই ফ্ল্যাটে। ডাক্তার নিয়ামত উল্লাহ থাকতেন নিচ তলায় পরিবার নিয়ে আর গাইনী ডাক্তার গোপাল সুত্র ধর থাকতেন ২য় তলায়। ডাক্তার নিয়ামত উল্লাহর সাথে সাথেও ডাক্তার গোপাল সুত্র ধরের সম্পর্ক খারাপ ছিলো। চাকুরিতে থাকাকালীন ডাক্তার গোপাল সুত্র ধর ইন্ডিয়াতে বেড়াতে গেলে ডাক্তার নিয়ামতউল্লাহ তার সিসি ক্যামেরা ভেঙ্গে দেয় । এ নিয়ে থানায় জিডিও হয়েছে।

About দৈনিক সময়ের কাগজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top
error: Content is protected !!