Thursday , September 16 2021
You are here: Home / পর্যটন / বাঘার ঐতিহাসিক দীঘি ও শাহী মসজিদ
বাঘার ঐতিহাসিক দীঘি ও শাহী মসজিদ

বাঘার ঐতিহাসিক দীঘি ও শাহী মসজিদ

আবু হেনা মোস্তফা জামান:

ভ্রমন পিপাসুদের মন প্রায় ছুটে যেতে চায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত কোন না কোন স্থানে। তেমনি একটি বিখ্যাত ঐতিহাসিক স্থান রাজশাহীর বাঘায় অবস্থিত ৫০০ বছরের সুবিশাল দীঘি ও শাহী মসজিদ। বিস্তৃর্ণ এলাকার প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থীর ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠে। সরকারী পৃষ্টপৌষকতায় পর্যটন কর্পোরেশনের আওতায় নিলে বাঘা হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। সরকার প্রতি বছর এখান থেকে অনেক টাকার রাজস্ব পেতে পারে।

সুত্রে জানা গেছে, রাজশাহী শহর থেকে ৪৮ কিঃ মিঃ দক্ষিন পুর্বে উপজেলার প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত প্রাচীন এই নিদর্শন। হযরত শাহদৌলা (রহঃ)ও তাঁর পুত্র হযরত শাহ আব্দুল হামিদ দানিশ মন্দ (রহঃ) এর স্মৃতি বিজড়িত রওজা শরীফ। ৫০০ বছরের ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ ও ৫২ বিঘা জমি জুড়ে দর্শনীয় বিখ্যাত সুবিশাল দীঘি। জনশ্রæতি আছে, কোন এক সময়ে অতিথি আপ্যায়নের জন্য মানুষ দীঘির কিনারে গেলে ডেকসি, থালাবাসন প্রভৃতি পানির নিচ থেকে ভেসে উঠত। সে গুলো নিয়ে অতিথি আপ্যায়ন শেষে অবার দীঘিতে রেখে যেতো । একদা কোন এক ব্যক্তি ওই সব জিনিষ ফেরত না দেয়ার ফলে ভেসে উঠা বন্দ হয়ে যায়। কথিত আছে, পানির উছিলায় বিভিন্ন বালা মুছিবত দুর হয় ফলে হাজার হাজার মানুষ দীঘিতে এসে গোসল করে এবং দীঘি থেকে পানি নিয়ে যায়। এক সময় শীত মৌসুমে এই দীঘিতে অসংখ্য অতিথি পাখির আগমন ও কলতানে এলাকা মুখরিত হয়ে উঠতো। বাংলার স্বাধীন সুলতান আলাউদ্দীন হুসাইন শাহর পুত্র নাসির উদ্দীন নসরত শাহ (রহঃ) হিজরী ৯৩০ অর্থাৎ ১৫২৩/২৪ খ্রীঃ বাঘা শাহী মসজিদ নির্মানের সময় জনকল্যানার্থে দীঘি খনন করেন। দীঘির চার পাশে সারি বদ্ধ অসংখ্য নারিকেল গাছ। পূর্ব পার্শে একটি মাজার, কেন্দ্রীয় গোরস্থান ও আ¤্রকানন। উত্তরে দৃষ্টিনন্দিত প্রকৃতি ঘেরা বিল। উত্তর পশ্চিম কোনে যাদুঘর। তার পাশেই ইসলামী একাডেমি ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা এর সংলগ্নে রয়েছে একটি মহল পুকুর। পশ্চিম তীরে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ ও মাজার। দক্ষিনে ফাজিল মাদ্রাসা । এর পাশের্ব রয়েছে রেষ্টহাউজ ও হাজার বছরের ঐতিহাসিক তেঁতুল গাছ।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, এখানে এক সময় এশিয়া মহাদেশের এক মাত্র ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। এখান থেকে সামান্য দক্ষিনে গেলে দেখা যাবে বয়ে চলেছে প্রমত্তা পদ্মা।

উল্লেখ্য শাহী মসজিদটি সম্পুর্ণ প্রাচিরে ঘেরা এবং উত্তর-দক্ষিন বেষ্টনি প্রাচীরে একটি করে প্রবেশদ্বার রয়েছে। মসজিদটির আয়তন উত্তর দক্ষিনে ৭৫ ফিট ৮ ইি , পূর্ব পশ্চিমে ৪২ ফুট ২ ইি  এবং দেয়ালগুলো ৭ ফুট ৬ ইি  প্রশস্থ। মসজিদের ভিতরের মেহরাব গুলোতে রয়েছে অতি সুন্দর কারুকার্য। অত্যান্ত আকর্ষনীয় এ মসজিদটি আয়তাকার বহুগম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ। ইতোপূর্বে ত্রিবেনীতে জাফর খান গাজীর মসজিদ এবং গৌড়ের তাঁতীপাড়া মসজিদের তিন ধরনের ভুমি পরিকল্পনা দেখা গেছে। টেরাকোটা অর্থাৎ পোড়া মাটির অলংকরণে সম্ভবত এই মসজিদটি অদ্বিতীয়। মসজিদের বাইরে এবং ভেতরে দেয়াল, খিলান, প্যানেল সর্বত্র টেরাকোটা নকসা দেখা যাবে। প্রতিটি মেহরাব একটি ফ্রেমে আবদ্ধ। ফ্রেমের উপর ও পাশে নানা ধরনের নকসা রয়েছে। মেহরাবের খিলান গুলো বহু পত্র বিশিষ্ট দেয়ালের একঘেঁয়েমি দূর করার জন্য বিভিন্ন প্যানেল সৃষ্টি করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের ৫০ টাকার নোটে এ মসজিদের ছবি মুদ্রিত রয়েছে।

ঐতিহাসিক এই স্থানে প্রতিদিন শত শত পর্যটকের দল ছুটে আসে। হাজার হাজার দর্শনার্থীর ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠে যা ভ্রমন পিপাসুদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। পর্যটন কর্পোরেশনের আওতায় বাঘায় পর্যটন মটেলসহ কিছু উদ্দ্যোগ নিলে দেশ বিদেশের হাজার হাজার পর্যটকদের কাছে অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং সরকার এ পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করে দেশের অনেক টাকা রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করতে পারে ।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী ইতি পূর্বে বাঘায় এক জনসভায় ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ, দীঘি ও মাজার এলাকাকে পর্যটন শিল্পের আওতায় আনার প্রতিশ্রæতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া গত ২৪ জানুয়ারী (২০১৪) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব শাহরিয়ার আলম বাঘা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অচিরেই এই স্থানকে পর্যটন কর্পোরেশনের আওতায় আনার ঘোষনা দেন। আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার পাপিয়া সুলতানা জানান, দেশ বিদেশ থেকে অনেক পর্যটক এখানে আসেন। বাঘার এই ঐতিহাসিক দীঘি ও শাহী মসজিদ এলাকাকে পর্যটন কর্পোরেশনের আওতায় এনে দেশের অন্যতম আকর্ষনীয় এবং দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সরকারের অনেক রাজস্ব বৃদ্ধি পেতে পারে।
উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. লায়েব উদ্দীন লাভলু বলেন, পর্যটন কর্পোরেশনের আওতায় বাঘায় মটেলসহ কিছু উদ্দ্যোগ নিলে দেশ বিদেশের হাজার হাজার পর্যটকদের কাছে অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বাঘা।

About দৈনিক সময়ের কাগজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top
error: Content is protected !!