Wednesday , October 27 2021
You are here: Home / খুলনা ও বরিশাল / খোকসা লকডাউন শেষে স্বাভাবিক জীবন
খোকসা লকডাউন শেষে স্বাভাবিক জীবন

খোকসা লকডাউন শেষে স্বাভাবিক জীবন

পুলক সরকার, খোকসা :
করোনা ভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারঘোষিত সর্বাত্মক লকডাউন শেষ হয়েছে।  ফলে, ১৯ দিন পর সারা দেশে দোকানপাট, বিপণিবিতান ও গণপরিবহন খুলেছে।
কুষ্টিয়ার খোকসার বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, দোকানপাট ও বিপণিবিতানগুলো খুলেছে। সকাল থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রেতা-বিক্রেতারা বেচা-কেনা শুরু করেছে। অপরদিকে সড়কগুলোতে দেখা গেছে গণপরিবহনের চাপ।
সরকার পরবর্তী নির্দেশ দেওয়া না পর্যন্ত দোকানপাট ও বিপণিবিতানগুলো প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
আবার নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী সড়কে অর্ধেকসংখ্যক গণপরিবহন চলার কথা থাকলেও সড়কগুলোতে দেখা গেছে স্বাভাবিক সময়ের মতোই।
তবে গণপরিবহন গুলোতে দেখা গেছে যাত্রী সংখ্যা অর্ধেকেরও কম। এছাড়া স্বাভাবিক সময়ের মতো সড়কে সিএনজি ও অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে।
কথা হয় উপজেলার পৌর এলাকার মাস্টার পাড়া রোডের ইশতিয়াক হোসেন নামে একজন বেসরকারি চাকরিজীবীর সঙ্গে। তিনি বলেন, বিধিনিষিধের মধ্যে বেশ কিছু চাকরিজীবীর হোম অফিস ছিল। কিন্তু আজ থেকে বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার কারণে সবাই অফিসে যাওয়ার জন্য সকাল সকাল বের হয়েছে।
শোমসপুর বাজার এলাকায় কথা হয় আবির হোসেন নামের এক দোকানীর সঙ্গে। তিনি বলেন, দীর্ঘ উনিশ দিন পর দোকান খুলেছি। সকাল থেকেই ক্রেতা আসতে শুরু করেছে। তিনি আরো বলেন, আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করছি।
কথা হয় কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী রোডে চলাচলকারী পদ্মা-গড়াই বাসের সুপারভাইজার ইমরানের সঙ্গে। তিনি বলেন, অনেক দিন পর লকডাউন খুলেছে। যাত্রীর সংখ্যা অর্ধেকেরও কম। তবে ২-১ দিন পর থেকে মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক হবে বলে তিনি মনে করেন।
খোকসা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: ইসহাক আলী বলেন, সবাইকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বাত্বক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, অবস্থার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২৮ জুন থেকে সীমিত আকারে বিধিনিষেধ শুরু হয়। সেদিন থেকেই সারা দেশের দোকানপাট ও বিপণিবিতান গুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর ১ জুলাই থেকে কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়। ঈদের ব্যবসার জন্য আট দিনের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করে সরকার। তাতে ঈদের আগে ছয় দিন বেচাবিক্রির সুযোগ পান ব্যবসায়ীরা। ঈদের দিন ও তার পরদিনও কিছু ব্যবসায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখেন। ২৩ জুলাই থেকে আবার ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়।  পরে সেটি বুধবার (১০ আগস্ট) পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।
করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য হারে না কমলেও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ চলমান বিধিনিষেধে না বাড়ানো সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, দোকানপাট ও বিপণিবিতান সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা রাখা যাবে।  খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁয় অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ১৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। বিধিনিষেধে খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁ সীমিত সময়ের জন্য খোলা থাকলেও ভেতরে বসে খাওয়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা ছিল। ক্রেতারা শুধু খাবার কিনে নিয়ে যেতে পারতেন।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ওই মাসের শেষ দিকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। চলতি বছরের মার্চের শেষ দিকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী।

About দৈনিক সময়ের কাগজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top
error: Content is protected !!