Tuesday , December 7 2021
You are here: Home / ঢাকা ও ময়মনসিংহ / সর্বগ্রাসী পদ্মার ভাঙনে সর্বহারা রুপবানেরা
সর্বগ্রাসী পদ্মার ভাঙনে সর্বহারা রুপবানেরা

সর্বগ্রাসী পদ্মার ভাঙনে সর্বহারা রুপবানেরা

শহিদুল গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধিঃ
রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়ায় পদ্মার পানি অব্যাহত বৃদ্ধির ফলে লঞ্চঘাট এলাকার ছত্তার মেম্বারের গ্রাম, লঞ্চ ঘাটের উজানের দেবগ্রাম এবং দৌলতদিয়া ইউনিযনের সাত্তার ফকির পাড়া, ছিদ্দিক কাজীর পাড়া, মজিদ শেখের পাড়া, ১নং ব্যাপারী পাড়া, সাহাজদ্দিন ব্যাপারী পাড়া, লালু মন্ডল পাড়া ও নতুন  পাড়াসহ পাঁচ ও সাত নম্বর ফেরিঘাট এলাকার অবশিষ্ট বাসিন্দারা নির্ঘুম রাত পার করছে।
পদ্মার ভাঙ্গনে পুরোপুরি বিলুপ্ত ধোপাগাথী, মানচিত্র থেকে বিলীন হওয়ার পথে দেবগ্রাম ইউনিয়নের কিছু অংশ। ধীরে ধীরে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ছোট হয়ে আসছে। গত সাড়ে তিন দশকে প্রায় আট কিলোমিটার নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। শুধু  সাত আট বছরেই পাঁচ ছয় কিলোমিটার বিলীন। ভাঙনে আঁকাবাঁকা রেখা সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কম ভেঙেছে, আবার কোথাও বেশি। কিন্তু ভাঙন থেমে নেই। দুপুর-সন্ধ্যা-রাত নেই, নদী ভাঙন তাড়িয়ে বেড়ায় কূলের মানুষকে।
এই দৃশ্যপট দিনের পর দিন চলে আসছে।   ভাঙনে স্থায়ী কোনো প্দক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যুগ যুগ ধরে এ ভাঙন চলমান। প্রতিনিয়ত স্বপ্ন ভাঙছে কূলের মানুষের। নদী ভাঙনের ফলে এখন যেন নতুন করে স্বপ্ন দেখতে-ই ভুলে গেছেন নদীতীরের মানুষ। কোনোমতে জীবন চলছে ঝুপড়ি ঘরে, রাস্তার দ্বারে, অন্যের আশ্রয়ে, নয়তো ভাড়া করা জায়গায়। ভাঙনের কারণে এখানকার শত শত পরিবার এখন বিচ্ছিন্ন নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে।
তাদেরই একজন রুপবান বেগম বয়স( ৩২) ছোট একটা বাচ্চা কোলে দাঁড়িয়ে আছে। চোখে মুখে শুধুই হাহাকার আর বিষন্নতায় ছেয়ে আছে সারা মন। কাছে কথা বলতে যেতেই বলল দেখেন ছোট এই বাচ্চাটার দিকে একবার দেখেন। সারারাত পলিথিনের এই ঘরে বৃষ্টি পড়ে। ছেলেটার ঠান্ডা লেগে গেছে। অনাহার, অনিদ্রা আর দুঃচিন্তায় জীবনের সব চাওয়া পাওয়া ভুলে গেছে। কি করবো কোথায় যাব। একটু পানি খাওয়ার ব্যাবস্থাও নেই।
 পাঁচ সাত হাতের পলিথিনের ঘরে গিয়ে দেখা গেল ছোট একটা চৌকি পাতা তার মধ্যেই তার (১২) বছরের মেয়ে মারুফা রান্না করছে। মেয়েটি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নদী ভাঙনের কারণে  থেমে গেছে তার পড়াশোনা। এখনো স্কুলে ফেরা হয়নি তার। করোনার কারণে এমনিতেই স্কুল বন্ধ তার উপর পদ্মার ভাঙনে সব কিছু হারিয়ে পাগল প্রায় পরিবার।
 কথা হয় আরেক পরিবার লাবুর সাথে তার চোখে মুখে ভাঙন আতংক। তিনি বলেন ভাঙতে ভাঙতে আর কিছুই নাই। নদীর অবস্থা বোঝার উপায় নেই। এই ভালো এই খারাপ সারারাত জেগে পাহারা দিতে হয় এবার ভাঙলে আর যাওয়ার জায়গা নেই। পাশেই জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রক্ষা করার চেষ্টা করছে পাওবি। তিনি বলেন এই স্রোতে এগুলো কোন কাজেই আসবে না। শুষ্ক মৌসুমে ফেললে হয়তো কাজে আসতো।
৩২ বছর বয়সি বাবু। নদী ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছেন। দৌলতদিয়া মডেল স্কুলের সামনে রাস্তার পাশে ঘর তুলে আশ্রয় নেন। এক নদী ভাঙনই তাকে শেষ করে দিয়েছে। নদী ভাঙনে হারিয়েছেন কর্মও। এখন ফাঁকে ফাঁকে নদীতে মাছ ধরতে যান নৌকার কোনো মাঝির সঙ্গে। নদীতে মাছ না মিললে বেলালের চুলোয় আগুন জ্বলে না। এখানে বন্যার করলগ্রাসে সব হারানো সবার গল্প প্রায় একই।
গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা মুন্সি জানান, জরুরিভাবে নদী ভাঙন প্রতিরোধ করা না হলে দৌলতদিয়া ঘাট মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। সুতরাং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অনুরোধ করি ঘাট রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।

About দৈনিক সময়ের কাগজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top
error: Content is protected !!