Thursday , September 16 2021
You are here: Home / চট্টগ্রাম ও সিলেট / চাকরি দেওয়ার কথা বলে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা
চাকরি দেওয়ার কথা বলে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা

চাকরি দেওয়ার কথা বলে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা

কাইমুল ইসলাম ছোটন (কক্সবাজার প্রতিনিধি):
কক্সবাজারের আলোচিত ইউনিয়ন মাতারবাড়ী। সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প হওয়ায় অনেক মানুষ  আসেন চাকরির খোঁজে। মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পে চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন কয়েকটি চক্র। এর মধ্যে সক্রিয় রয়েছে সাইফুলের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটটি মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পে চাকরি দেওয়ার কথা বলে কতজনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তার হিসেব নেই। কিন্তু ভয়ে কেউ কথা বলেতেছে না।
সাইফুল সিন্ডিকেটের ফাঁদে পড়ে প্রকল্পে চাকরি করতে এসেছেন মফিজ,নুরুল আলম,মুবিন, রাসেদুল ইসলাম সহ কয়েকজন। ফ্যাকাশে মুখ আর চেহেরায় চাপা দুঃখের চাপ নিয়ে মাথায় হাত দিয়ে চায়ের দোকানে বসে আসেন তারা। এগিয়ে গিয়ে কথা বললে বেরিয়ে আসে অবাক হওয়ার মত তথ্য।
তাদের বাড়ি কক্সবাজারের খুরুশকুল ইউনিয়নে,কারো বাড়ি মহেশখালীর পৌরসভায়। সাইফুল সিন্ডিকেটকে টাকা দিয়ে এসেছেন চাকরির খোঁজে। অতিরিক্ত টাকা দিতে না পারায় চাকরি জুড়ে নি।
খুরুশকুল থেকে চাকরি করতে আসা মফিজ জানান, আমরা আব্দু সালামের মাধ্যমে সাইফুল কে টাকা দিয়েছি ১৩ হাজার টাকা। চাকরি হলে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা। কিন্তু সে এখন বাড়তি টাকা দাবি করতেছে।
জানা গেছে, সিন্ডিকেট  প্রধান সাইফুলের বাড়ি মাতারবাড়ীর সর্দার পাড়া গ্রামে। সে মোঃ ইউনুস প্রকাশ বশরের পুত্র। বর্তমানে মেম্বার পদপ্রার্থী। নিজের নামের পাশে লাগিয়েছেন সিকদার।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, সাইফুল সিন্ডিকেটের ধোঁকাবাজি মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পে শ্রমিক নিয়োগে সীমাবদ্ধ নয়। সাইফুল কখনো নিজেকে মেম্বার, কখনো রাজনৈতিক নেতা, কখনো মহেশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান শরীফ বাদশার আস্তাভাজন পরিচয় দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগ আছে, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী ছাত্র সংগঠন পরিষদ’ নামে একটি সংগঠনের মহেশখালী শাখার সভাপতি পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী পরিচয় দিয়ে নিজে গড়ে তুলেছেন সিন্ডিকেট।
ভুক্তভোগী নাজির হোছাইন জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান টিউবওয়েল দিবে বলে আমার থেকে টাকা নিয়েছেন ১৫ হাজার ৫০০  টাকা। সময় গড়িয়ে গেলেও টিউবওয়েল দিতে পারে নেই। এখন ফোন রিসিভ করে না।
আরেক ভূক্তভোগী বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার এবাদুল হক বলেন, আমার পরিচিত আব্দু সালামের মাধ্যমে চাকরির জন্য ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। চাকরিতে যোগদানের কথা বলে ৩০ বারের অধিক মাতারবাড়ী নিয়ে যায়। কিন্তু সে দেখা করে না। ইউপি নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত আছি বলে ফোন কেটে দেয়।
এলাকাবাসী বলেন, সাইফুল অনেক মহিলাদের কাছ থেকে বিভিন্ন কার্ড দিবে বলে টাকা নিয়েছেন। সঠিক অনুসন্ধান করলে বেরিয়ে আসবে আরো অনেক অজানা তথ্য। পাওয়া যাবে সাইফুলের নৈপথ্যে থাকা লোকদের আসল পরিচয়। মুখোশ উন্মোচন হবে অপরাধী চক্রের।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব  শরীফ বাদশা বলেন, সাইফুল নামে কাউকে চিনি না। চেহেরা দেখলে চিনব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে যদি আমরা নাম ভাঙিয়ে টাকা নেয়। তাহলে উপযুক্ত প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিব।
সাইফুল প্রতিবেদককে বলেন, এসব বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি কাউকে চিনি না বলে ফোন কেটে দেয়।

About দৈনিক সময়ের কাগজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top
error: Content is protected !!