Thursday , September 16 2021
You are here: Home / ঢাকা ও ময়মনসিংহ / আশুলিয়ায় নিখোঁজের তিন দিন পর মাদরাসা শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
আশুলিয়ায় নিখোঁজের তিন দিন পর মাদরাসা শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

আশুলিয়ায় নিখোঁজের তিন দিন পর মাদরাসা শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

আশুলিয়া প্রতিনিধি :
আশুলিয়ায় নিখোঁজের তিন দিন পর নিজ বাড়ির পাশে আরেকটি বাড়ির সিড়ির নিচ থেকে রবিউর ইসলাম নামে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত রবিউল ইসলাম (১০) স্থানীয় কাশেমিয়া মাদরাসার নূরানী বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবা সুমন হোসেন আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায় আল আমিন শেখের ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। নিহত রবিউল দুই ভাই এক বোনের মধ্যে ছোট। তার বাবা সুমন ইজিবাইক চালক।

রোববার দুপুর ১টার দিকে আশুলিয়ার দুর্গাপুর এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ভাড়া বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গত ১০ সেপ্টেম্বর নিহতের বাবা সুমন হোসেনের নিখোঁজ জিডি সূত্রে জানা যায়, ৯ সেপ্টেম্বর সকালে বাসা থেকে বাইরে যায় রবিউল। এসময় তার মা গার্মেন্টে ছিলো আর বাবা বাইরে। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারি, রবিউল পাশের বাসার কলিম উদ্দিন মাঝির বাড়িতে সাড়ে ১১টার দিকে গিয়েছিল। সেখানে উপস্থিত আমাদের বাড়ির মালিক আল আমিন শেখ ও তার স্ত্রী ইয়াসমিন জানায়, রবিউল কোথায় গেছে তারা জানে না বলে আমাদের জানায়।

জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাড়িওয়ালা আল আমিনের কাছে আমি ধারের টাকা ফেরত চাইলে সে বিভিন্ন সময় আমাকে হুমকি দিয়ে আসছিলো। এরই জেরে আল আমিন আমার ছেলেকে আত্মগোপন করে রেখেছে।

নিহত রবিউলের মা শাপলা খাতুন বলেন, বিভিন্ন সময় বাড়িওয়ালা আল আমিন আমার স্বামীর কাছে ব্যবসার কথা বলে টাকাার নিতো। কখনও ১০ হাজার আবার কখনও ২০ হাজার। তবে মোট কত টাকা নিয়েছিলো সেটা আমার জানা নেই। পাওনা টাকা চাওয়ায় আল আমিন আমাদের বাড়ি থেকে তাড়িযে দেয়ারও হুমকি দেয়। এরই জেরে আমার ছেলেকে ওরা মাইরা ফেলছে। এমনিতে আমার কোন শত্রু নাই।

আকতার হোসেন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, সকালে ভাড়াটিয়ারা গন্ধ পাইলে আমারে জানায়। পরে গিয়া দেখি সিড়ির নিচে বস্তা দিয়ে লাশটা ঢাকা আছে। এরপর আমি ট্রিপল নাইনে ফোন করে জানাই। এই বাড়িতে শুধু ভাড়াটিয়ারা থাকায়। আমরা থাকি পাশের বাড়িতে। কিভাবে লাশটা এখানে এলো কেউ জানে না।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল মামুন কবির বলেন, আমার সিড়ির নিচ থেকে অর্ধগলিত একটি শিশুর লাশ উদ্ধার করেছি। পরে পরিবারের মাধ্যমে লাশটি রবিউল নামে এক শিশুর বলে নিশ্চিত হই। গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিলো। প্রাথমিক ভাবে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছি। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ঘটনা তদন্তাধীন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।

About দৈনিক সময়ের কাগজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top
error: Content is protected !!