Wednesday , January 26 2022
You are here: Home / খুলনা ও বরিশাল / কুষ্টিয়ায় ২০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে বিপরীতে ১২২ শিশু রোগী ভর্তি
কুষ্টিয়ায় ২০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে বিপরীতে ১২২ শিশু রোগী ভর্তি

কুষ্টিয়ায় ২০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে বিপরীতে ১২২ শিশু রোগী ভর্তি

কুষ্টিয়া অফিস :
কুষ্টিয়ায় হঠাৎ বেড়েছে শিশু রোগী। তাদের কেউ ঠান্ডা, কেউ জ্বর, কেউ নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত। তারা অসুস্থ হয়ে ভর্তি হয়েছেন কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে। সেখানে ২০টি শয্যার বিপরীতে ভর্তি রয়েছে ১২২টি শিশু রোগী। শয্যা সংকটের কারণে অধিকাংশ রোগীর ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীর স্বজনরা। জনবল সংকট ও অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

কুষ্টিয়ায় ঠান্ডা, জ্বর, নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিনই এ রোগে আক্রান্ত ৩০-৪০টি শিশু ভর্তি হচ্ছে। বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে আক্রান্ত রোগীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ জানিয়েছেন রোগীর স্বজনরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে। গত সপ্তাহ থেকে হঠাৎ করেই কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে শিশু রোগীদের ভিড় বেড়ে গেছে। তাপদাহ আর আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে ঠান্ডা, নিউমোনিয়া ও জ্বরসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।
একদিকে ভ্যাপসা গরম অন্যদিকে দুর্গন্ধময় পরিবেশে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। ধারণক্ষমতার ৬ গুণ অধিক রোগী থাকায় নার্সরাও শিশুদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

বুধবার দুপুরে হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডের প্রবেশ পথে শতশত রোগীর অভিভাবক ও স্বজনরা গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে আছেন। ওয়ার্ডের ভিতরেও ভিড়। ভিড়ের মধ্যেই চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছেন শিশু রোগীদের। ২০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন ১২০ জন শিশু। রোগীর ভিড়ে হাসপাতালের কোথাও পা ফেলার জায়গা নেই। গাদাগাদি করে  বারান্দা ও মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। পর্যাপ্ত ঔষধ থাকলেও জনবল ও জায়গার অভাব রয়েছে। এজন্য চিকিৎসক, নার্স, আয়াসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। আর রোগীর স্বজনদের ভোগান্তির শেষ নেই। এদিকে বহির্বিভাগেও ভিড় দেখা গেছে।

শিশু ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স আফরোজা পারভীন  বলেন, হঠাৎ করে গত এক সপ্তাহ ধরে ঠান্ডা, নিউমোনিয়া ও জ্বরের রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। শয্যার চেয়ে ৬ গুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। নার্স রয়েছে ৬ জন। এতো রোগীকে সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাদের। তবুও সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি ভালোভাবে সেবা দেওয়ার জন্য। তবে রোগীর সংখ্যা এভাবে বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এস. এম. নাজিম উদ্দিন বলেন, হঠাৎ রোগী বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। আবহাওয়ার পরিবর্তন, বৃষ্টি, গরম ও ঠান্ডার কারণে শিশু রোগীরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে চাপ বাড়ছে হাসপাতালে। রোগীর তুলনায় চিকিৎসক সংকট থাকায় রোগীদের চিকিৎসা দেয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে শিশু ওয়ার্ডের ভেতরে যেতেই চোখে পড়ল মেঝে ও বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন অন্তত ১০০ শিশু রোগী। ওয়ার্ডের ভেতরে কয়েকটি কক্ষ। সব জায়গাই রোগীতে ঠাসা। কোথাও শয্যা ফাঁকা নেই। রোগী ও রোগীর স্বজনদের ভিড়ে পা ফেলার জায়গা নেই। প্রায় প্রতিটি রোগীর শয্যার পাশে মেঝেতেও বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছে আরেক রোগী। শিশু রোগীর স্বজনরা চোখেমুখে ভোগান্তি ছাপ নিয়ে বসে আছেন রোগীর পাশেই।

এক বছর বয়সী শিশু ইব্রাহিম গত চারদিন ধরে ঠান্ডা-জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। স্থানীয় চিকিৎসকের চিকিৎসায় উন্নতি না হওয়া শিশু ইব্রাহিমকে সাথে নিয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের এসেছেন মা আয়েশা খাতুন। তিনি বলেন, চার দিন ধরে ইব্রাহিমের ঠান্ডা ও জ্বর। গ্রামের ডাক্তারের ঔষধ কাজ করছে না। ঠিক মতো খাচ্ছে না ছেলে। এজন্য বড় ডাক্তারের কাছে এসেছি। দুই ঘন্টা ধরে লম্বা লাইনে সিরিয়ালে আছি।

শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী সাদিয়ার মা স্মৃতি বলেন, কয়েকদিন আগে থেকে আমার মেয়ে অসুস্থ। ঠান্ডা-জ্বরের জন্য রোববার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু শিশু ওয়ার্ডে শতশত মানুষের ভিড়। ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাচ্ছেনা। তবে শয্যা সংকটের কারণে খুব কষ্ট হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় নার্সের সংখ্যা কম।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর স্বজন মাহাবুব উদ্দিন বলেন, বেড না পাওয়ার জন্য বারান্দায় বিছানা পেতে আমরা চিকিৎসা নিচ্ছি। বেডের উপর দিয়ে মানুষজন চলাচল করছে। অনেকে হাত-পায়ের উপর পা ফেলছেন। মানুষের ভিড়ে দুর্গন্ধময় পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। খুব ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

আরেক শিশু আব্দুর রহমানের বাবা শহীদ বলেন, একদিকে বেড সংকট অন্যদিকে ডাক্তারও কম। ঠিকমতো ডাক্তার আসে না। চিকিৎসা সেবা পেতে খুব সমস্যা হচ্ছে। হাসপাতালে অনেক সমস্যা রয়েছে।  পরিস্কার পরিচ্ছন্ন না করার জন্য হাসপাতালে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তাছাড়া মানুষের ভিড়ে প্রচন্ড গরম পড়ছে। এতে শিশু আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
রোগীদের স্বজন তানিয়া তাবাসসুম বলেন, কুষ্টিয়ার ৬ উপজেলার মানুষ এ হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। চিকিৎসার মান ভালো হওয়া ও চিকিৎসকদের আন্তরিকতার অভাবের কারণে বেশিরভাগ মানুষ সদর হাসপাতালে আসেন। আমরাও এসেছি। কিন্তু এখানে এসে চিকিৎসা সেবা পেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শয্যা, চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা বাড়ানো উচিৎ কর্তৃপক্ষের। তাতে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি কমবে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আশরাফুল আলম বলেন, শয্যার চেয়ে ৬ গুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে শিশু ওয়ার্ডে। রোগীর তুলনায় চিকিৎসক ও নার্স সংকট রয়েছে। এতে রোগীদের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে আমরা সাধ্যমত চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। বর্তমানে ২০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ১২২ জন রোগী ভর্তি আছে। আবহাওয়ার কারণে নিউমোনিয়া, ঠান্ডা, জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত কারণে শিশুরা ভর্তি আছে।

About দৈনিক সময়ের কাগজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top
error: Content is protected !!