Tuesday , August 9 2022
You are here: Home / রাজশাহী ও রংপুর / কুড়িগ্রামে পল্লী উন্নয়ন অফিসের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
কুড়িগ্রামে পল্লী উন্নয়ন অফিসের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

কুড়িগ্রামে পল্লী উন্নয়ন অফিসের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে পল্লী উন্নয়ন অফিসে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে উদকনিক প্রকল্পের আওতায় একটি ব্যাচের প্রশিক্ষণ না হলেও প্রশিক্ষণের ৯ লাখ ১২ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তৎকালীন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (আরডিও) এবং বর্তমান হিসাব রক্ষকের যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন হলেও সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কোন প্রমাণপত্র দেখাতে পারছেন না তারা। ফলে ওই টাকার ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বিভিন্ন মহলে।
জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের দরিদ্রদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ (উদকনিক) প্রকল্পের আওতায় ফুলবাড়ী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসের বাস্তবায়নে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ব্যাচ প্রতি ৪৮ জন করে মোট চারটি ব্যাচের প্রশিক্ষণ বাবদ প্রায় ৩৬ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। এর মধ্যে ৩টি ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হলেও করোনার কারণে একটি ব্যাচের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়নি। বাদ পড়া ব্যাচের প্রশিক্ষণ বাবদ ৯ লাখ ১২ হাজার টাকা অগ্রনী ব্যাংকের ৩৩৮৮০০০৫ নম্বর হিসাব থেকে যৌথ স্বাক্ষর দিয়ে উত্তোলন করে নিজেদের কাছে রেখে দেন তৎকালীন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সামছুল হুদা এবং বর্তমান হিসাব রক্ষক ফিরোজ আহম্মেদ। কিছুদিন পর তৎকালীন আরডিও সামছুল হুদা বদলি হয়ে অন্যত্রে চলে যান। ফলে সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দেওয়ার বিষয়টি অমিমাংসিতই থেকে য়ায়।
এ বিষয়ে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসের হিসাব রক্ষক ফিরোজ আহম্মেদ জানান, করোনার কারণে প্রশিক্ষণ না হওয়ায় ব্যাংক থেকে সমুদয় টাকা উত্তোলন করে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) স্যারকে দেওয়া হয়েছে।
টাকা প্রদানের প্রমাণ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, হাতে হাতে টাকা দেওয়া হয়েছে। কোনও কাগজপত্র আমার কাছে নেই। সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে পিডি স্যারকে দিলেন কেন ? এমন প্রশ্নের কোন উত্তর তিনি দিতে পারেননি এই হিসাব রক্ষক।
এদিকে উত্তরাঞ্চলের দরিদ্রদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ (উদকনিক) প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোনও টাকা আমাকে কেউ দেয়নি। তাছাড়া সরকারি টাকা হাতে হাতে নেয়ার কোনও প্রশ্নই আসে না। বিষয়টি আমি একটু একটু শুনেছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে তৎকালীন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সামছুল হুদা বলেন, ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে অফিসের সকল কর্মচারীদের উপস্থিতিতে সমুদয় টাকা হিসাব রক্ষকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আমি বদলি হয়ে চলে আসায় পরে কি হয়েছে তা আমার না নেই।
এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন দাস জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

About দৈনিক সময়ের কাগজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top
error: Content is protected !!