Saturday , November 26 2022
You are here: Home / পর্যটন / যে কারণে অপসারণ হচ্ছে না হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ি প্রকল্পের স্থাপনা
যে কারণে অপসারণ হচ্ছে না হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ি প্রকল্পের স্থাপনা

যে কারণে অপসারণ হচ্ছে না হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ি প্রকল্পের স্থাপনা

হাতিরঝিল রাজধানী ঢাকার সৌন্দর্য বাড়িয়েছে বহুগুণ। বর্তমানে নান্দনিক এই প্রকল্প থেকে সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশনা থাকলেও হাতিরঝিলের সব স্থাপনাই এখনো বহাল। এখন পর্যন্ত স্থাপনাগুলো সরিয়ে নিতে বরাদ্দপ্রাপ্তদের মধ্যে কোনো প্রস্তুতি নেই। রিটকারী আইনজীবী বলছেন, এখনো হাইকোর্টের রায় বহাল আছে। শুনানি হতে দেরিও হতে পারে। রাজউকের উচিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ব্যবস্থা নেওয়া।

গত বছরের ৩০ জুন হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ি প্রজেক্টকে পাবলিক ট্রাস্ট (জনগণের সম্পত্তি) ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। পরে গত ২৪ মে বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের স্বাক্ষরে ৫৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে হাতিরঝিলের পানি ও সৌন্দর্যকে অমূল্য সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে ওই লেকে চলমান ওয়াটার ট্যাক্সিসহ সব ধরনের যান্ত্রিক বাহনও বন্ধের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রায়ের লিখিত অনুলিপি পাওয়ার পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে হাতিরঝিলের সব বাণিজ্যিক স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি রায়ে চার দফা নির্দেশনাসহ ৯টি পরামর্শ দেন আদালত।

হাতিরঝিল এলাকায় পায়ে চলার রাস্তা, বাইসাইকেল লেন, শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য পৃথক লেন তৈরির পাশাপাশি পানির জন্য ক্ষতিকর লেকে এরকম সব যান্ত্রিক ওয়াটার ট্যাক্সি সার্ভিস নিষিদ্ধের কথা বলা হয়েছে পরামর্শে। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

তবে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিষয়ে এ বছরের ১৯ জুন হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ী প্রকল্পে সব ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা উচ্ছেদসহ ৪ দফা নির্দেশনা এবং ৯ দফা সুপারিশ সংবলিত হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেননি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। তবে এ বিষয়টি নিয়ে আপিল বিভাগের নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য গত ১ আগস্ট দিন ধার্য করে দিয়েছিলেন চেম্বার বিচারপতি। তবে শিডিউল না পাওয়ায় এখনো এর শুনানি হয়নি।

হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ী প্রকল্পটির নকশার বাইরে গিয়ে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর ২০১৮ সালে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, রাজউক হাইকোর্টের রায়ের পর চেম্বার আদালতে আপিল করে। চেম্বার আদালতে তারা স্থগিতাদেশ পায়নি। পরবর্তীতে শুনানির জন্য তারিখ দেওয়া হলেও কার্য তালিকায় স্থান পায়নি।

তিনি আরও বলেন, তবে এখন পর্যন্ত রায় কিন্তু বহাল আছে। এখন রাজউকের দাযিত্ব হল আইন বাস্তবায়ন করা। রাজউক আপিল করেছে ঠিক আছে, সেটা শুনানি নাও হলে পারে কয়েক বছরে। যেহেতু হাইকোর্টের রায় এখনো বহাল আছে সেহেতু রাজউকের উচিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া। ‘আর তা না করলে আদালত অবমাননা করা হবে।’-যোগ করেন মনজিল মোরসেদ।

রাজউক সূত্রে জানা যায়, হাতিরঝিলে মোবাইল দোকান এবং রেষ্টুরেন্টসহ মোট ৩১টি স্থাপনা তৈরির জন্য জায়গা লিজ দিয়েছে রাজউক। বরাদ্দ বাবদ প্রতিষ্ঠান ভেদে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম নেওয়া হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে এসব প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ এক থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত। পাশাপাশি মাসিক ভাড়া দিতে হয় ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা।

হাতিরঝিলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত আগের মতোই সব স্থাপনা ঠিকঠাক আছে। রেষ্টুরেন্টগুলোতে বেচাবিক্রি ওয়াটার ট্যাক্সিগুলোও যাত্রী পরিবহন করছে।

জানা গেছে, নকশার বাইরে গিয়ে ৩১টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য ইজারা দিয়েছে রাজউক। হাতিরঝিলের মূল নকশায় এই স্থাপনাগুলো নেই। এসব স্থাপনা দ্রুত সরিয়ে নিলে হাতিরঝিল নিজস্ব স্বকীয়তা ফিরে পাবে মনে করেন নগরবিদরা।

নকশার বাইরে গিয়ে ইজারা দেওয়ার বিষয়ে রাজউক হাতিরঝিল প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘হাতিরঝিল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতিমাসেই খরচ আছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বরাদ্দ দেওয়ার পেছনে কিছুটা খরচ ওঠানোর চেষ্টা আছে।

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘মাস শেষে কিছুটা খরচ উঠলেও রাজউকের ওপর চাপ কমে। তবে এখন আমরা আমাদের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে আপিল করেছি। সামনে শুনানি আছে। আমরা আমাদের যুক্তি উপস্থাপন করব। সবশেষ আদালত যা রায় দেবে তাই হবে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, হাতিরঝিলকে মূল চরিত্রে ফিরিয়ে আনতে যা কিছু করা দরকার সেটাই করা উচিত। এছাড়া মূল্যবান পানিও দূষিত হচ্ছে। তাই এ পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাতিরঝিলের একটি রেস্টুরেন্টের মালিক ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমাদেরকে বরাদ্দ দিয়েছে বলেই নিয়েছি। তখন রাজউকের চিন্তাভাবনা করে সবকিছু করা দরকার ছিল। বরাদ্দ নেওয়াসহ সবমিলে অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। এখন উচ্ছেদ করলে তো পথে বসে যাবো।’

About দৈনিক সময়ের কাগজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top
error: Content is protected !!